Huseyn Shaheed Suhrawardy biography in Bengali জানতে গেলে…
ভূমিকা:
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে হোসেন শহীদ সুরাবর্দি একটি অত্যন্ত জটিল ও বিতর্কিত নাম। আধুনিক পাকিস্তানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর পরিচিতি থাকলেও, ইতিহাসের পাতায় তাঁর নাম চিরস্থায়ীভাবে জড়িয়ে আছে ১৯৪৬ সালের ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে বা প্রত্যক্ষ সংগ্রাম এবং ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ বা কলকাতার ভয়াবহ দাঙ্গার সাথে। মেদিনীপুরের এক অভিজাত পরিবারে জন্ম নেওয়া এই নেতার রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা কীভাবে তাঁকে এক সাম্প্রদায়িক ও রক্তাক্ত পথে পরিচালিত করেছিল, আজ আমরা সেই ইতিহাসের উপস্থাপন করব।
📌 সংক্ষিপ্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (Quick Facts)
- জন্ম: হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর জন্ম ১৮৯২ সালে
- শিক্ষা: তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষালাভ করেন
- পদ: ১৯৪৬ সালে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হন
- Direct Action Day: (১৯৪৬)-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন
- প্রধানমন্ত্রী: ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন
🚨 Direct Action Day (১৯৪৬) কী এবং কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
Direct Action Day ছিল মুসলিম লীগ কর্তৃক ঘোষিত একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি, যা ১৬ আগস্ট ১৯৪৬ সালে পালিত হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিকে জোরদার করা।
কিন্তু এই কর্মসূচি দ্রুত কলকাতায় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় পরিণত হয়, যা ইতিহাসে Great Calcutta Killing নামে পরিচিত। এতে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে এবং হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক চরমভাবে অবনতি হয়।
👉 এই ঘটনাটি ভারত বিভাজনের গতি ত্বরান্বিত করে এবং উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় সৃষ্টি করে।

১. পারিবারিক প্রেক্ষাপট ও প্রাথমিক জীবন
হোসেন শহীদ সুরাবর্দির জন্ম ১৮৯২ সালে মেদিনীপুরের এক অত্যন্ত প্রভাবশালী ও সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে।1 তাঁর পিতা স্যার জাহিদ সুরাবর্দি ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের নামকরা বিচারপতি। ব্রিটিশ সরকারের অত্যন্ত অনুগত এই পরিবারে বাংলা ভাষার চেয়ে উর্দু এবং ইংরেজির চর্চাই বেশি ছিল। সুরাবর্দি নিজেও প্রাথমিক জীবনে বাংলা জানতেন না, যা পরবর্তীকালে রাজনৈতিক প্রয়োজনে শিখেছিলেন। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ শেষে তিনি যখন ব্যারিস্টারি শুরু করেন, তখনই তাঁর মধ্যে রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার বীজ রোপিত হয়।
২. স্বরাজ দল থেকে সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে উত্তরণ
- সুরাবর্দির রাজনৈতিক জীবনের শুরুটা ছিল চমকপ্রদ। ১৯২৪ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের ‘স্বরাজ দল’-এর হাত ধরে তিনি কলকাতার রাজনীতিতে আসেন।2 চিত্তরঞ্জন দাসের হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের ফর্মুলায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি কলকাতা কর্পোরেশনের প্রথম ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হন।
- তবে চিত্তরঞ্জন দাসের মৃত্যুর পর সুরাবর্দির আদর্শে পরিবর্তন আসে। তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ত্যাগ করে ধীরে ধীরে মুসলিম স্বার্থরক্ষার নামে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়েন। ব্রিটিশদের ‘বিভাজন ও শাসন’ (Divide and Rule) নীতির প্রতি তাঁর আনুগত্য তাঁকে ব্রিটিশ সরকারের প্রিয়পাত্রে পরিণত করে। ১৯৩৬ সালে তিনি নিজস্ব দল ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট মুসলিম পার্টি’ ছেড়ে মুসলিম লীগে যোগ দেন3 এবং বাংলার সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন।
🔥 ‘বিভাজন ও শাসন নীতি’ কীভাবে ভারত বিভাজনকে ত্বরান্বিত করেছিল?
Divide and Rule ছিল ব্রিটিশদের একটি কৌশল, যার মাধ্যমে তারা হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে নিজেদের শাসন দীর্ঘস্থায়ী করতে চেয়েছিল।
👉 এই নীতির ফলে ভারতীয় সমাজে গভীর বিভাজন তৈরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত ১৯৪৭ সালের দেশভাগকে অনিবার্য করে তোলে।
৩. ক্ষমতার বিস্তার ও ব্রিটিশ তোষণ
১৯৪৩ সালের খাজা নাজিমুদ্দিনের মন্ত্রিসভায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।4 দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকারের যুদ্ধনীতিকে সমর্থন করে তিনি প্রশাসনের ভেতরে নিজের প্রতিপত্তি বাড়াতে থাকেন। জাতীয়তাবাদী আন্দোলন যেমন—১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনকে দমন করতে তিনি ব্রিটিশদের সহায়তা করেন।5 তাঁর এই ব্রিটিশ ঘেঁষা নীতি এবং উগ্র সাম্প্রদায়িক প্রচার তাঁকে বাংলার একাংশ মুসলিম সমাজের কাছে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
৪. ১৯৪৬-এর নির্বাচন ও ‘কসাই’ সুরাবর্দি
১৯৪৬ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগ বাংলায় ব্যাপক জয়লাভ করে এবং সুরাবর্দি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (Premier) হন।6 ক্ষমতায় এসেই তিনি চূড়ান্ত হিন্দু-বিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেন। তাঁর রাজনৈতিক সহযোগী আবুল হাশিমকে সাথে নিয়ে তিনি বাংলায় পাকিস্তান দাবির সপক্ষে এক ভয়ংকর উস্কানিমূলক পরিবেশ তৈরি করেন। এই ঘৃণার রাজনীতির চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটে ১৯৪৬ সালের ১৬ই আগস্ট।7
৫. ডিরেক্ট অ্যাকশন ডে: কলকাতার সেই রক্তাক্ত ১৬ই আগস্ট
মুসলিম লীগের ‘ডিরেক্ট অ্যাকশন ডে’ বা ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস’-এর ডাক ছিল মূলত এক পরিকল্পিত গণহত্যার নীল নকশা।8 মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সুরাবর্দি সেদিন যা করেছিলেন, তা পৃথিবীর ইতিহাসের যেকোনো গণতান্ত্রিক নেতার জন্য লজ্জাজনক।

- ময়দানের ভাষণ: অক্টারলোনি মনুমেন্ট (শহীদ মিনার) ময়দানে কয়েক লক্ষ মানুষের জমায়েতে সুরাবর্দি সরাসরি হিন্দুদের ওপর আক্রমণ করার প্রচ্ছন্ন উস্কানি দেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, পুলিশ কোনো হস্তক্ষেপ করবে না।
- পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা: দাঙ্গা শুরু হওয়ার পর লালবাজার কন্ট্রোল রুমে বসে তিনি পুলিশকে নিষ্ক্রিয় থাকার নির্দেশ দেন। হিন্দু প্রধান অঞ্চলগুলোতে টেলিফোন লাইন কেটে দেওয়া হয়।
- গণহত্যা ও লুণ্ঠন: রাজাবাজার, কলুটোলা, বড়বাজার ও হ্যারিসন রোডে শুরু হয় নারকীয় নিধন যজ্ঞ। হিন্দুদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়, নারীদের ওপর চলে অকথ্য নির্যাতন। সরকারি হিসাবেই প্রায় ৪,০০০ মানুষ নিহত হন (বেসরকারি মতে সংখ্যাটি ১০,০০০ ছাড়িয়েছিল)।9
তৎকালীন ব্রিটিশ গভর্নর স্যার ফ্রেডরিক বারোজের সাথে সুরাবর্দি গোপন সমঝোতা ছিল, যার ফলে মিলিটারি নামাতে দীর্ঘ দেরি করা হয়। কলকাতা পরিণত হয় এক বিশাল কসাইখানায়।

⚔️ Great Calcutta Killing: ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার প্রকৃত কারণ কী ছিল?
Great Calcutta Killing ছিল ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্টের Direct Action Day-কে কেন্দ্র করে কলকাতায় সংঘটিত এক ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা।
তাই ১৯৪৬ সালের এই দাঙ্গা শুধু একটি শহুরে হিংসা ছিল না; এটি ছিল ভারত বিভাজনের পূর্ববর্তী সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ভয়াবহ পরিণতি।
৬. পাল্টা প্রতিরোধ ও গোপাল পাঁঠার উত্থান
যখন পুলিশ ও প্রশাসন হিন্দুদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তখন কলকাতার বুক থেকে জন্ম নেয় এক অদম্য প্রতিরোধ। এই প্রতিরোধের নায়ক ছিলেন গোপালচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, যিনি ইতিহাসে ‘গোপাল পাঁঠা’ নামে পরিচিত। তাঁর নেতৃত্বে হিন্দু যুবকরা রুখে দাঁড়ালে দাঙ্গার মোড় ঘুরে যায়। পরিস্থিতি নিজের প্রতিকূলে যাচ্ছে দেখে এবং ব্রিটিশ সরকারের চাপের মুখে সুরাবর্দি শেষ পর্যন্ত শান্ত হতে বাধ্য হন।

⚖️ প্রশাসনিক ব্যর্থতা: দাঙ্গা কেন নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি?
১৯৪৬ সালের কলকাতা দাঙ্গার সময় প্রশাসনের ব্যর্থতা ছিল পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠার অন্যতম প্রধান কারণ।
👉 এই ব্যর্থতার ফলে দাঙ্গা দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে।
👉 তাই এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, কার্যকর প্রশাসন না থাকলে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সহজেই গণহিংসায় পরিণত হতে পারে।
উপসংহার: ইতিহাসের শিক্ষা
হোসেন শহীদ সুরাবর্দি জীবন আমাদের শেখায় যে, ক্ষমতার চরম লোভ এবং সাম্প্রদায়িক ঘৃণা কীভাবে একজন শিক্ষিত মানুষকে ‘গণহত্যাকারী’তে পরিণত করতে পারে। যদিও পরবর্তীকালে তিনি পাকিস্তানে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, কিন্তু বাংলার ইতিহাসে তিনি ১৯৪৬-এর দাঙ্গার খলনায়ক হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকবেন।
👤 হোসেন শহীদ সুরাবর্দি: নায়ক না খলনায়ক?
হোসেন শহীদ সুরাবর্দির ঐতিহাসিক মূল্যায়ন আজও বিতর্কিত। একদিকে তিনি একজন দক্ষ রাজনীতিবিদ ও গণতন্ত্রপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত, অন্যদিকে ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার কারণে তাঁর ভূমিকা কঠোর সমালোচনার মুখে পড়ে।
👉 তাই ইতিহাসে তাঁর অবস্থান একপাক্ষিক নয়—বরং তিনি এক দ্বৈত চরিত্রের নেতা, যাঁকে বিচার করতে হলে সমগ্র রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা জরুরি।
হোসেন শহীদ সুরাবর্দি: ইতিহাসের খলনায়ক সম্পর্কে আরও জানতে উইকিপিডিয়া থেকে পড়ুন
হোসেন শহীদ সুরাবর্দি: ইতিহাসের খলনায়ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
————– হোসেন শহীদ সুরাবর্দি: ইতিহাসের খলনায়ক সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর —————
Section A- QUIZ: মক টেস্ট দিয়ে নিজেকে যাচাই করুন
হোসেন শহীদ সুরাবর্দি মক টেস্ট
মক টেস্টের ফলাফল
Section B-Basic MCQ: নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দিন
হোসেন শহীদ সুরাবর্দি: গুরুত্বপূর্ণ MCQ উত্তর দেখুন
প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।
Q1. সোহরাওয়ার্দীর পূর্ণ নাম কী?
Q2. সোহরাওয়ার্দীর পিতা কোন পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?
Q3. সোহরাওয়ার্দী প্রাথমিক জীবনে কোন ভাষা জানতেন না?
Q4. তিনি কোন কলেজে পড়াশোনা করেন?
Q5. তিনি কোন পেশায় কর্মজীবন শুরু করেন?
Q6. স্বরাজ দলের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
Q7. কলকাতা কর্পোরেশনের কোন পদে সোহরাওয়ার্দী নির্বাচিত হন?
Q8. মুসলিম লীগে যোগ দেওয়ার আগে তিনি কোন দলে ছিলেন?
Q9. মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি কোথায় দায়িত্ব পালন করেন?
Q10. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি কাকে সমর্থন করেন?
Q11. ‘ডিরেক্ট অ্যাকশন ডে’ কোন সংগঠন ঘোষণা করে?
Q12. কলকাতার দাঙ্গা কোন শহরে সংঘটিত হয়?
Q13. দাঙ্গার সময় কোন এলাকা বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল?
Q14. গোপাল পাঁঠার আসল নাম কী?
Q15. আওয়ামী মুসলিম লীগ কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
Q16. সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যু কোন কারণে সরকারি ভাবে ঘোষণা করা হয়?
Q17. ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ কোন ঘটনার আরেক নাম?
Q18. সোহরাওয়ার্দীর রাজনৈতিক জীবনের শুরু কোন শহরে হয়?
Q19. তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রথম বড় পদ কোনটি?
Q20. সোহরাওয়ার্দী কোন দেশের রাজনীতির সঙ্গে শেষ জীবনে যুক্ত ছিলেন?
Section C-Advanced MCQ: নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দিন
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী: Advanced MCQ Answer Reveal
উন্নত মানের প্রশ্নগুলির উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে প্রতিটি প্রশ্নের নিচের বাটনে ক্লিক করুন।
Q1. সোহরাওয়ার্দীর রাজনৈতিক জীবনে আদর্শগত পরিবর্তনের প্রধান কারণ কী ছিল?
Q2. ‘Divide and Rule’ নীতির সঙ্গে সোহরাওয়ার্দীর ভূমিকা কীভাবে সম্পর্কিত?
Q3. ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার সময় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রধান সমালোচনা কী ছিল?
Q4. সোহরাওয়ার্দীর রাজনৈতিক উত্থানের ক্ষেত্রে কোন বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
Q5. ‘Direct Action Day’ ঘোষণার মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
Q6. সোহরাওয়ার্দীর রাজনৈতিক কৌশলের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী ছিল?
Q7. ১৯৪৬ সালের দাঙ্গা থেকে কোন প্রধান ঐতিহাসিক ফলাফল দেখা যায়?
Q8. সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে মুসলিম লীগের সাফল্যের প্রধান কারণ কী?
Q9. ‘গোপাল পাঁঠা’-র উত্থান কোন পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া ছিল?
Q10. সোহরাওয়ার্দীর রাজনৈতিক জীবনের দ্বৈত মূল্যায়নের কারণ কী?
Q11. ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে সোহরাওয়ার্দীর সম্পর্কের প্রকৃতি কী ছিল?
Q12. ‘অখণ্ড বাংলা’ পরিকল্পনার ঐতিহাসিক গুরুত্ব কী ছিল?
Q13. সোহরাওয়ার্দীর রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন কোন বৃহত্তর প্রবণতাকে নির্দেশ করে?
Q14. ১৯৪৬ সালের দাঙ্গা বিশ্লেষণে কোন বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?
Q15. সোহরাওয়ার্দীর জীবন থেকে প্রধান শিক্ষা কী?
Section D-FAQ: হোসেন শহীদ সুরাবর্দি: ইতিহাসের খলনায়ক সংক্রান্ত জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
১. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কে ছিলেন?
উত্তর: তিনি ছিলেন উপমহাদেশের একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, আইনজীবী এবং অবিভক্ত বাংলার শেষ প্রধানমন্ত্রী (১৯৪৬-৪৭)। পরে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী (১৯৫৬) হন এবং আওয়ামী মুসলিম লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
২. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর জন্ম কবে এবং কোথায়?
উত্তর: তাঁর জন্ম ১৮৯২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মেদিনীপুরে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে।
৩. সোহরাওয়ার্দী কোন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত ছিলেন?
উত্তর: তিনি প্রথমে স্বরাজ দলে যুক্ত ছিলেন, পরে মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং পরে আওয়ামী মুসলিম লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হন।
৪. ১৯৪৬ সালের ‘ডিরেক্ট অ্যাকশন ডে’ কী ছিল?
উত্তর: মুসলিম লীগ কর্তৃক ঘোষিত একটি আন্দোলন, যার উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিকে জোরদার করা। কিন্তু এটি কলকাতায় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় রূপ নেয়।
৫. ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ কী?
উত্তর: ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট কলকাতায় সংঘটিত এক ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, যেখানে হাজার হাজার মানুষ নিহত ও আহত হয়। এটি Direct Action Day-এর ফল।
৬. সোহরাওয়ার্দীর ভূমিকা কী ছিল ‘ক্যালকাটা কিলিং’-এ?
উত্তর: সমালোচকদের মতে, তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রশাসনকে নিষ্ক্রিয় রাখেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন, যার ফলে দাঙ্গা ব্যাপক আকার ধারণ করে।
৭. কেন তাঁকে ‘ক্যালকাটার কসাই’ বলা হয়?
উত্তর: ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার সময় তাঁর ভূমিকার জন্য অনেক সমালোচক তাঁকে এই উপাধি দেন, যদিও এই বিষয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
৮. ‘ডিরেক্ট অ্যাকশন ডে’ কে ঘোষণা করেছিলেন?
উত্তর: মুসলিম লীগের নেতা মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ ১৬ আগস্ট ১৯৪৬-কে Direct Action Day হিসেবে ঘোষণা করেন।
৯. সোহরাওয়ার্দীর সাম্প্রদায়িক রাজনীতি কীভাবে গড়ে ওঠে?
উত্তর: প্রথমদিকে তিনি অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে মুসলিম লীগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
১০. ‘অখণ্ড বাংলা’ পরিকল্পনা কী ছিল?
উত্তর: দেশভাগের সময় সোহরাওয়ার্দী ও শরৎচন্দ্র বসু প্রস্তাব করেছিলেন যে, বাংলা ভাগ না করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে রাখা হোক, তবে এটি সফল হয়নি।
১১. সোহরাওয়ার্দী কি ব্রিটিশদের সমর্থন করতেন?
উত্তর: অনেক ক্ষেত্রে তিনি ব্রিটিশ প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করেছিলেন, বিশেষত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও Quit India Movement-এর সময়।
১২. আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনে সুরাবর্দির ভূমিকা কী?
উত্তর: ১৯৪৯ সালে গঠিত এই দলের অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও নেতা ছিলেন তিনি।10
১৩. শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে তাঁর সম্পর্ক কী ছিল?
উত্তর: শেখ মুজিব তাঁকে রাজনৈতিক গুরু হিসেবে মানতেন এবং তাঁর কাছ থেকেই রাজনীতির প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন।
১৪. সুরাবর্দি কি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।11
১৫. সুরাবর্দির মৃত্যু কবে ও কোথায় হয়?
উত্তর: ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর লেবাননের বেইরুট শহরে তাঁর মৃত্যু হয়।12
১৬. সুরাবর্দির মৃত্যু কি রহস্যজনক ছিল?
উত্তর: সরকারিভাবে হৃদরোগ বলা হলেও তাঁর মৃত্যু নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা বিতর্ক ও সন্দেহ রয়েছে।
১৭. ‘ডিরেক্ট অ্যাকশন ডে’ কেন ব্যর্থ হয়েছিল?
উত্তর: এটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হিসেবে শুরু হলেও দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় পরিণত হয়।
১৮. কলকাতা দাঙ্গায় কত মানুষ নিহত হয়?
উত্তর: সরকারি হিসেবে প্রায় ৪,০০০ মানুষ নিহত হন, যদিও বেসরকারি হিসেবে সংখ্যা আরও বেশি বলে মনে করা হয়।
১৯. গোপাল পাঁঠা কে ছিলেন?
উত্তর: কলকাতার দাঙ্গার সময় হিন্দুদের রক্ষায় প্রতিরোধ গড়ে তোলা এক নেতা, যিনি স্থানীয় প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠেন।
২০. সুরাবর্দির ঐতিহাসিক মূল্যায়ন কী?
উত্তর: তিনি একদিকে গণতন্ত্রপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত, অন্যদিকে ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার জন্য বিতর্কিত—এই দ্বৈত মূল্যায়নই তাঁর ঐতিহাসিক পরিচয়।
-------------- আরও পড়ুন ---------------
- Ayesha Jalal, The Sole Spokesman: Jinnah, the Muslim League and the Demand for Pakistan, Cambridge University Press, 1985. ↩︎
- Bipan Chandra et al., India’s Struggle for Independence, Penguin Books, 1989. ↩︎
- Sekhar Bandyopadhyay, From Plassey to Partition and After, Orient Blackswan, 2004. ↩︎
- R.C. Majumdar, History of the Freedom Movement in India (Vol. III), Firma KLM, 1963. ↩︎
- Sumit Sarkar, Modern India 1885–1947, Macmillan, 1983. ↩︎
- Sekhar Bandyopadhyay, From Plassey to Partition and After, Orient Blackswan, 2004. ↩︎
- Bipan Chandra et al., India’s Struggle for Independence, Penguin Books, 1989. ↩︎
- Joya Chatterji, Bengal Divided: Hindu Communalism and Partition, Cambridge University Press, 1994. ↩︎
- Joya Chatterji, Bengal Divided, Cambridge University Press, 1994. ↩︎
- Talukder Maniruzzaman, The Bangladesh Revolution and Its Aftermath, University Press Limited, 1988. ↩︎
- Ayesha Jalal, The State of Martial Rule: The Origins of Pakistan's Political Economy of Defence, Cambridge University Press, 1990. ↩︎
- Oxford Dictionary of National Biography, Oxford University Press. ↩︎

Pingback: All History Posts - Subhas Biswas – Lekhapora