হোসেন শহীদ সুরাবর্দি: ইতিহাসের খলনায়ক নাকি পরিস্থিতির শিকার? ১৯৪৬-এর দাঙ্গা ও এক বিতর্কিত অধ্যায়

সূচিপত্র hide

লিখেছেন—

ড. সুভাষ বিশ্বাস,

ইতিহাস বিভাগ,

কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়

Huseyn Shaheed Suhrawardy biography in Bengali জানতে গেলে…

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে হোসেন শহীদ সুরাবর্দি একটি অত্যন্ত জটিল ও বিতর্কিত নাম। আধুনিক পাকিস্তানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর পরিচিতি থাকলেও, ইতিহাসের পাতায় তাঁর নাম চিরস্থায়ীভাবে জড়িয়ে আছে ১৯৪৬ সালের ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে বা প্রত্যক্ষ সংগ্রাম এবং ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ বা কলকাতার ভয়াবহ দাঙ্গার সাথে। মেদিনীপুরের এক অভিজাত পরিবারে জন্ম নেওয়া এই নেতার রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা কীভাবে তাঁকে এক সাম্প্রদায়িক ও রক্তাক্ত পথে পরিচালিত করেছিল, আজ আমরা সেই ইতিহাসের উপস্থাপন করব।

🚨 Direct Action Day (১৯৪৬) কী এবং কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

Direct Action Day ছিল মুসলিম লীগ কর্তৃক ঘোষিত একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি, যা ১৬ আগস্ট ১৯৪৬ সালে পালিত হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিকে জোরদার করা

কিন্তু এই কর্মসূচি দ্রুত কলকাতায় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় পরিণত হয়, যা ইতিহাসে Great Calcutta Killing নামে পরিচিত। এতে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে এবং হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক চরমভাবে অবনতি হয়।

👉 এই ঘটনাটি ভারত বিভাজনের গতি ত্বরান্বিত করে এবং উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় সৃষ্টি করে।

Huseyn Shaheed Suhrawardy portrait, Premier of Bengal 1946 and Prime Minister of Pakistan
হোসেন শহীদ সুরাবর্দি – অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী (১৯৪৬) ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

হোসেন শহীদ সুরাবর্দির জন্ম ১৮৯২ সালে মেদিনীপুরের এক অত্যন্ত প্রভাবশালী ও সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে।1 তাঁর পিতা স্যার জাহিদ সুরাবর্দি ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের নামকরা বিচারপতি। ব্রিটিশ সরকারের অত্যন্ত অনুগত এই পরিবারে বাংলা ভাষার চেয়ে উর্দু এবং ইংরেজির চর্চাই বেশি ছিল। সুরাবর্দি নিজেও প্রাথমিক জীবনে বাংলা জানতেন না, যা পরবর্তীকালে রাজনৈতিক প্রয়োজনে শিখেছিলেন। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ শেষে তিনি যখন ব্যারিস্টারি শুরু করেন, তখনই তাঁর মধ্যে রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার বীজ রোপিত হয়।

  • সুরাবর্দির রাজনৈতিক জীবনের শুরুটা ছিল চমকপ্রদ। ১৯২৪ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের ‘স্বরাজ দল’-এর হাত ধরে তিনি কলকাতার রাজনীতিতে আসেন।2 চিত্তরঞ্জন দাসের হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের ফর্মুলায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি কলকাতা কর্পোরেশনের প্রথম ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হন।
  • তবে চিত্তরঞ্জন দাসের মৃত্যুর পর সুরাবর্দির আদর্শে পরিবর্তন আসে। তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ত্যাগ করে ধীরে ধীরে মুসলিম স্বার্থরক্ষার নামে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়েন। ব্রিটিশদের ‘বিভাজন ও শাসন’ (Divide and Rule) নীতির প্রতি তাঁর আনুগত্য তাঁকে ব্রিটিশ সরকারের প্রিয়পাত্রে পরিণত করে। ১৯৩৬ সালে তিনি নিজস্ব দল ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট মুসলিম পার্টি’ ছেড়ে মুসলিম লীগে যোগ দেন3 এবং বাংলার সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন।

🔥 ‘বিভাজন ও শাসন নীতি’ কীভাবে ভারত বিভাজনকে ত্বরান্বিত করেছিল?

Divide and Rule ছিল ব্রিটিশদের একটি কৌশল, যার মাধ্যমে তারা হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে নিজেদের শাসন দীর্ঘস্থায়ী করতে চেয়েছিল।

সাম্প্রদায়িক বিভাজন: ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি শক্তিশালী করা হয়।
পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা: মুসলমানদের জন্য আলাদা নির্বাচনী ব্যবস্থা চালু করা হয়।
রাজনৈতিক মেরুকরণ: কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে দূরত্ব বৃদ্ধি পায়।
দাঙ্গার পরিবেশ: ১৯৪৬ সালের মতো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পথ প্রশস্ত হয়।

👉 এই নীতির ফলে ভারতীয় সমাজে গভীর বিভাজন তৈরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত ১৯৪৭ সালের দেশভাগকে অনিবার্য করে তোলে

১৯৪৩ সালের খাজা নাজিমুদ্দিনের মন্ত্রিসভায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।4 দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকারের যুদ্ধনীতিকে সমর্থন করে তিনি প্রশাসনের ভেতরে নিজের প্রতিপত্তি বাড়াতে থাকেন। জাতীয়তাবাদী আন্দোলন যেমন—১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনকে দমন করতে তিনি ব্রিটিশদের সহায়তা করেন।5 তাঁর এই ব্রিটিশ ঘেঁষা নীতি এবং উগ্র সাম্প্রদায়িক প্রচার তাঁকে বাংলার একাংশ মুসলিম সমাজের কাছে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

১৯৪৬ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগ বাংলায় ব্যাপক জয়লাভ করে এবং সুরাবর্দি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (Premier) হন।6 ক্ষমতায় এসেই তিনি চূড়ান্ত হিন্দু-বিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেন। তাঁর রাজনৈতিক সহযোগী আবুল হাশিমকে সাথে নিয়ে তিনি বাংলায় পাকিস্তান দাবির সপক্ষে এক ভয়ংকর উস্কানিমূলক পরিবেশ তৈরি করেন। এই ঘৃণার রাজনীতির চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটে ১৯৪৬ সালের ১৬ই আগস্ট7

মুসলিম লীগের ‘ডিরেক্ট অ্যাকশন ডে’ বা ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস’-এর ডাক ছিল মূলত এক পরিকল্পিত গণহত্যার নীল নকশা।8 মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সুরাবর্দি সেদিন যা করেছিলেন, তা পৃথিবীর ইতিহাসের যেকোনো গণতান্ত্রিক নেতার জন্য লজ্জাজনক।

Direct Action Day 1946 Kolkata riots violence scene showing communal clashes and victims on the street
১৯৪৬ সালের ডিরেক্ট অ্যাকশন ডে – কলকাতার ভয়াবহ দাঙ্গার একটি দৃশ্য
  • ময়দানের ভাষণ: অক্টারলোনি মনুমেন্ট (শহীদ মিনার) ময়দানে কয়েক লক্ষ মানুষের জমায়েতে সুরাবর্দি সরাসরি হিন্দুদের ওপর আক্রমণ করার প্রচ্ছন্ন উস্কানি দেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, পুলিশ কোনো হস্তক্ষেপ করবে না।
  • পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা: দাঙ্গা শুরু হওয়ার পর লালবাজার কন্ট্রোল রুমে বসে তিনি পুলিশকে নিষ্ক্রিয় থাকার নির্দেশ দেন। হিন্দু প্রধান অঞ্চলগুলোতে টেলিফোন লাইন কেটে দেওয়া হয়।
  • গণহত্যা ও লুণ্ঠন: রাজাবাজার, কলুটোলা, বড়বাজার ও হ্যারিসন রোডে শুরু হয় নারকীয় নিধন যজ্ঞ। হিন্দুদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়, নারীদের ওপর চলে অকথ্য নির্যাতন। সরকারি হিসাবেই প্রায় ৪,০০০ মানুষ নিহত হন (বেসরকারি মতে সংখ্যাটি ১০,০০০ ছাড়িয়েছিল)।9

তৎকালীন ব্রিটিশ গভর্নর স্যার ফ্রেডরিক বারোজের সাথে সুরাবর্দি গোপন সমঝোতা ছিল, যার ফলে মিলিটারি নামাতে দীর্ঘ দেরি করা হয়। কলকাতা পরিণত হয় এক বিশাল কসাইখানায়।

Muhammad Ali Jinnah and Amrita Bazar Patrika newspaper headline showing Direct Action Day 1946 Calcutta riots
মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ ও ‘ডিরেক্ট অ্যাকশন ডে’ (১৯৪৬) নিয়ে Amrita Bazar Patrika পত্রিকার প্রতিবেদন

⚔️ Great Calcutta Killing: ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার প্রকৃত কারণ কী ছিল?

Great Calcutta Killing ছিল ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্টের Direct Action Day-কে কেন্দ্র করে কলকাতায় সংঘটিত এক ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা।

পাকিস্তান দাবির রাজনৈতিক চাপ দাঙ্গার প্রধান পটভূমি তৈরি করে।
সাম্প্রদায়িক প্রচার ও উত্তেজনা হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ককে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা দাঙ্গাকে দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়।
মুসলিম লীগের Direct Action Day কলকাতার রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে বিস্ফোরক করে তোলে।

তাই ১৯৪৬ সালের এই দাঙ্গা শুধু একটি শহুরে হিংসা ছিল না; এটি ছিল ভারত বিভাজনের পূর্ববর্তী সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ভয়াবহ পরিণতি

যখন পুলিশ ও প্রশাসন হিন্দুদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তখন কলকাতার বুক থেকে জন্ম নেয় এক অদম্য প্রতিরোধ। এই প্রতিরোধের নায়ক ছিলেন গোপালচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, যিনি ইতিহাসে ‘গোপাল পাঁঠা’ নামে পরিচিত। তাঁর নেতৃত্বে হিন্দু যুবকরা রুখে দাঁড়ালে দাঙ্গার মোড় ঘুরে যায়। পরিস্থিতি নিজের প্রতিকূলে যাচ্ছে দেখে এবং ব্রিটিশ সরকারের চাপের মুখে সুরাবর্দি শেষ পর্যন্ত শান্ত হতে বাধ্য হন।

Gopal Patha Gopal Chandra Mukherjee portrait associated with 1946 Calcutta riots
গোপাল পাঁঠা (গোপালচন্দ্র মুখোপাধ্যায়) – ১৯৪৬ সালের কলকাতা দাঙ্গার সময় আক্রান্ত হিন্দুদের ত্রাতা

⚖️ প্রশাসনিক ব্যর্থতা: দাঙ্গা কেন নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি?

১৯৪৬ সালের কলকাতা দাঙ্গার সময় প্রশাসনের ব্যর্থতা ছিল পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠার অন্যতম প্রধান কারণ।

🚫 পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা: দাঙ্গার সময় অনেক এলাকায় পুলিশ কার্যত হস্তক্ষেপ করেনি।
📞 যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা: টেলিফোন লাইন কেটে দেওয়ায় সাহায্য পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
সামরিক হস্তক্ষেপে বিলম্ব: সেনা নামাতে দেরি হওয়ায় দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে।
🏛️ রাজনৈতিক প্রভাব: প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক চাপের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল।

👉 এই ব্যর্থতার ফলে দাঙ্গা দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে।

👉 তাই এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, কার্যকর প্রশাসন না থাকলে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সহজেই গণহিংসায় পরিণত হতে পারে

হোসেন শহীদ সুরাবর্দি জীবন আমাদের শেখায় যে, ক্ষমতার চরম লোভ এবং সাম্প্রদায়িক ঘৃণা কীভাবে একজন শিক্ষিত মানুষকে ‘গণহত্যাকারী’তে পরিণত করতে পারে। যদিও পরবর্তীকালে তিনি পাকিস্তানে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, কিন্তু বাংলার ইতিহাসে তিনি ১৯৪৬-এর দাঙ্গার খলনায়ক হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকবেন।

👤 হোসেন শহীদ সুরাবর্দি: নায়ক না খলনায়ক?

হোসেন শহীদ সুরাবর্দির ঐতিহাসিক মূল্যায়ন আজও বিতর্কিত। একদিকে তিনি একজন দক্ষ রাজনীতিবিদ ও গণতন্ত্রপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত, অন্যদিকে ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার কারণে তাঁর ভূমিকা কঠোর সমালোচনার মুখে পড়ে।

🔹 নায়ক হিসেবে: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রবক্তা এবং ‘অখণ্ড বাংলা’ পরিকল্পনার সমর্থক।
🔹 খলনায়ক হিসেবে: Direct Action Day ও কলকাতার দাঙ্গার সময় প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও বিতর্কিত ভূমিকার জন্য সমালোচিত।

👉 তাই ইতিহাসে তাঁর অবস্থান একপাক্ষিক নয়—বরং তিনি এক দ্বৈত চরিত্রের নেতা, যাঁকে বিচার করতে হলে সমগ্র রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা জরুরি।

হোসেন শহীদ সুরাবর্দি: ইতিহাসের খলনায়ক সম্পর্কে আরও জানতে উইকিপিডিয়া থেকে পড়ুন

হোসেন শহীদ সুরাবর্দি মক টেস্ট

Direct Action Day, Great Calcutta Killing, সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও সোহরাওয়ার্দীর জীবন সম্পর্কে ২০টি গুরুত্বপূর্ণ MCQ।
Score: 0
🔥 Streak: 0
Best: 0%
Question 1 of 20 0%

মক টেস্টের ফলাফল

মোট প্রশ্ন0
সঠিক উত্তর0
শতাংশ0%

হোসেন শহীদ সুরাবর্দি: গুরুত্বপূর্ণ MCQ উত্তর দেখুন

প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

আপনি ০ টি উত্তর দেখেছেন ০%

Q1. সোহরাওয়ার্দীর পূর্ণ নাম কী?

A. হোসেন আলী সোহরাওয়ার্দী
B. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
C. হোসেন আহমেদ সোহরাওয়ার্দী
D. হোসেন করিম সোহরাওয়ার্দী
সঠিক উত্তর: B. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীব্যাখ্যা: তাঁর পূর্ণ নাম হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, যা ইতিহাসে স্বীকৃত।
সঠিক উত্তর: B. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। ব্যাখ্যা: তাঁর পূর্ণ নাম হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, যা ইতিহাসে স্বীকৃত।

Q2. সোহরাওয়ার্দীর পিতা কোন পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?

A. শিক্ষক
B. আইনজীবী
C. বিচারপতি
D. ব্যবসায়ী
সঠিক উত্তর: C. বিচারপতিব্যাখ্যা: তাঁর পিতা স্যার জাহিদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন বিচারপতি।
সঠিক উত্তর: C. বিচারপতি। ব্যাখ্যা: তাঁর পিতা স্যার জাহিদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন বিচারপতি।

Q3. সোহরাওয়ার্দী প্রাথমিক জীবনে কোন ভাষা জানতেন না?

A. ইংরেজি
B. বাংলা
C. উর্দু
D. ফারসি
সঠিক উত্তর: B. বাংলাব্যাখ্যা: প্রাথমিক জীবনে তিনি বাংলা জানতেন না, পরে শিখেছিলেন।
সঠিক উত্তর: B. বাংলা। ব্যাখ্যা: প্রাথমিক জীবনে তিনি বাংলা জানতেন না, পরে শিখেছিলেন।

Q4. তিনি কোন কলেজে পড়াশোনা করেন?

A. প্রেসিডেন্সি কলেজ
B. সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ
C. স্কটিশ চার্চ কলেজ
D. হিন্দু কলেজ
সঠিক উত্তর: B. সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজব্যাখ্যা: তিনি সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে পড়াশোনা করেন।
সঠিক উত্তর: B. সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ। ব্যাখ্যা: তিনি সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে পড়াশোনা করেন।

Q5. তিনি কোন পেশায় কর্মজীবন শুরু করেন?

A. ডাক্তার
B. অধ্যাপক
C. ব্যারিস্টার
D. সাংবাদিক
সঠিক উত্তর: C. ব্যারিস্টারব্যাখ্যা: উচ্চশিক্ষা শেষে তিনি ব্যারিস্টারি শুরু করেন।
সঠিক উত্তর: C. ব্যারিস্টার। ব্যাখ্যা: উচ্চশিক্ষা শেষে তিনি ব্যারিস্টারি শুরু করেন।

Q6. স্বরাজ দলের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

A. মহাত্মা গান্ধী
B. সুভাষ বসু
C. চিত্তরঞ্জন দাস
D. নেহরু
সঠিক উত্তর: C. চিত্তরঞ্জন দাসব্যাখ্যা: স্বরাজ দল প্রতিষ্ঠা করেন চিত্তরঞ্জন দাস।
সঠিক উত্তর: C. চিত্তরঞ্জন দাস। ব্যাখ্যা: স্বরাজ দল প্রতিষ্ঠা করেন চিত্তরঞ্জন দাস।

Q7. কলকাতা কর্পোরেশনের কোন পদে সোহরাওয়ার্দী নির্বাচিত হন?

A. মেয়র
B. ডেপুটি মেয়র
C. কমিশনার
D. গভর্নর
সঠিক উত্তর: B. ডেপুটি মেয়রব্যাখ্যা: তিনি প্রথম ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হন।
সঠিক উত্তর: B. ডেপুটি মেয়র। ব্যাখ্যা: তিনি প্রথম ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হন।

Q8. মুসলিম লীগে যোগ দেওয়ার আগে তিনি কোন দলে ছিলেন?

A. কংগ্রেস
B. ফরওয়ার্ড ব্লক
C. স্বরাজ দল
D. কমিউনিস্ট পার্টি
সঠিক উত্তর: C. স্বরাজ দলব্যাখ্যা: তিনি প্রথমে স্বরাজ দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
সঠিক উত্তর: C. স্বরাজ দল। ব্যাখ্যা: তিনি প্রথমে স্বরাজ দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

Q9. মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি কোথায় দায়িত্ব পালন করেন?

A. ভারত
B. পাঞ্জাব
C. বাংলা
D. পাকিস্তান
সঠিক উত্তর: C. বাংলাব্যাখ্যা: তিনি বাংলার সাধারণ সম্পাদক হন।
সঠিক উত্তর: C. বাংলা। ব্যাখ্যা: তিনি বাংলার সাধারণ সম্পাদক হন।

Q10. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি কাকে সমর্থন করেন?

A. জাপান
B. জার্মানি
C. ব্রিটিশ সরকার
D. আমেরিকা
সঠিক উত্তর: C. ব্রিটিশ সরকারব্যাখ্যা: তিনি ব্রিটিশদের যুদ্ধনীতিকে সমর্থন করেন।
সঠিক উত্তর: C. ব্রিটিশ সরকার। ব্যাখ্যা: তিনি ব্রিটিশদের যুদ্ধনীতিকে সমর্থন করেন।

Q11. ‘ডিরেক্ট অ্যাকশন ডে’ কোন সংগঠন ঘোষণা করে?

A. কংগ্রেস
B. মুসলিম লীগ
C. ফরওয়ার্ড ব্লক
D. কমিউনিস্ট পার্টি
সঠিক উত্তর: B. মুসলিম লীগব্যাখ্যা: মুসলিম লীগ Direct Action Day ঘোষণা করে।
সঠিক উত্তর: B. মুসলিম লীগ। ব্যাখ্যা: মুসলিম লীগ Direct Action Day ঘোষণা করে।

Q12. কলকাতার দাঙ্গা কোন শহরে সংঘটিত হয়?

A. ঢাকা
B. কলকাতা
C. চট্টগ্রাম
D. লাহোর
সঠিক উত্তর: B. কলকাতাব্যাখ্যা: ১৯৪৬ সালের দাঙ্গা কলকাতায় সংঘটিত হয়।
সঠিক উত্তর: B. কলকাতা। ব্যাখ্যা: ১৯৪৬ সালের দাঙ্গা কলকাতায় সংঘটিত হয়।

Q13. দাঙ্গার সময় কোন এলাকা বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল?

A. পার্ক স্ট্রিট
B. রাজাবাজার
C. গড়িয়া
D. টালিগঞ্জ
সঠিক উত্তর: B. রাজাবাজারব্যাখ্যা: রাজাবাজার ছিল দাঙ্গার অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা।
সঠিক উত্তর: B. রাজাবাজার। ব্যাখ্যা: রাজাবাজার ছিল দাঙ্গার অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা।

Q14. গোপাল পাঁঠার আসল নাম কী?

A. গোপাল দাস
B. গোপালচন্দ্র মুখোপাধ্যায়
C. গোপাল ঘোষ
D. গোপাল রায়
সঠিক উত্তর: B. গোপালচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ব্যাখ্যা: তাঁর প্রকৃত নাম গোপালচন্দ্র মুখোপাধ্যায়।
সঠিক উত্তর: B. গোপালচন্দ্র মুখোপাধ্যায়। ব্যাখ্যা: তাঁর প্রকৃত নাম গোপালচন্দ্র মুখোপাধ্যায়।

Q15. আওয়ামী মুসলিম লীগ কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?

A. ১৯৪৭
B. ১৯৪৮
C. ১৯৪৯
D. ১৯৫০
সঠিক উত্তর: C. ১৯৪৯ব্যাখ্যা: ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
সঠিক উত্তর: C. ১৯৪৯। ব্যাখ্যা: ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।

Q16. সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যু কোন কারণে সরকারি ভাবে ঘোষণা করা হয়?

A. দুর্ঘটনা
B. হৃদরোগ
C. হত্যা
D. আত্মহত্যা
সঠিক উত্তর: B. হৃদরোগব্যাখ্যা: সরকারি ভাবে তাঁর মৃত্যুর কারণ হৃদরোগ বলা হয়।
সঠিক উত্তর: B. হৃদরোগ। ব্যাখ্যা: সরকারি ভাবে তাঁর মৃত্যুর কারণ হৃদরোগ বলা হয়।

Q17. ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ কোন ঘটনার আরেক নাম?

A. অসহযোগ আন্দোলন
B. ভারত ছাড়ো আন্দোলন
C. Direct Action Day
D. স্বদেশি আন্দোলন
সঠিক উত্তর: C. Direct Action Dayব্যাখ্যা: Direct Action Day-ই গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং নামে পরিচিত।
সঠিক উত্তর: C. Direct Action Day। ব্যাখ্যা: Direct Action Day-ই গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং নামে পরিচিত।

Q18. সোহরাওয়ার্দীর রাজনৈতিক জীবনের শুরু কোন শহরে হয়?

A. ঢাকা
B. কলকাতা
C. লাহোর
D. দিল্লি
সঠিক উত্তর: B. কলকাতাব্যাখ্যা: তিনি কলকাতার রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।
সঠিক উত্তর: B. কলকাতা। ব্যাখ্যা: তিনি কলকাতার রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।

Q19. তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রথম বড় পদ কোনটি?

A. মন্ত্রী
B. ডেপুটি মেয়র
C. প্রধানমন্ত্রী
D. গভর্নর
সঠিক উত্তর: B. ডেপুটি মেয়রব্যাখ্যা: কলকাতা কর্পোরেশনের ডেপুটি মেয়র তাঁর প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদ।
সঠিক উত্তর: B. ডেপুটি মেয়র। ব্যাখ্যা: কলকাতা কর্পোরেশনের ডেপুটি মেয়র তাঁর প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদ।

Q20. সোহরাওয়ার্দী কোন দেশের রাজনীতির সঙ্গে শেষ জীবনে যুক্ত ছিলেন?

A. ভারত
B. বাংলাদেশ
C. পাকিস্তান
D. নেপাল
সঠিক উত্তর: C. পাকিস্তানব্যাখ্যা: তিনি পাকিস্তানের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন।
সঠিক উত্তর: C. পাকিস্তান। ব্যাখ্যা: তিনি পাকিস্তানের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন।

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী: Advanced MCQ Answer Reveal

উন্নত মানের প্রশ্নগুলির উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে প্রতিটি প্রশ্নের নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

Revealed 0 of 15 ০%

Q1. সোহরাওয়ার্দীর রাজনৈতিক জীবনে আদর্শগত পরিবর্তনের প্রধান কারণ কী ছিল?

A. ব্যক্তিগত আর্থিক সমস্যা
B. চিত্তরঞ্জন দাসের মৃত্যু
C. ব্রিটিশদের চাপ
D. মুসলিম লীগের প্রভাব
সঠিক উত্তর: B. চিত্তরঞ্জন দাসের মৃত্যুব্যাখ্যা: দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের মৃত্যুর পর তাঁর আদর্শে পরিবর্তন দেখা যায়।
সঠিক উত্তর: B. চিত্তরঞ্জন দাসের মৃত্যু। ব্যাখ্যা: দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের মৃত্যুর পর তাঁর আদর্শে পরিবর্তন দেখা যায়।

Q2. ‘Divide and Rule’ নীতির সঙ্গে সোহরাওয়ার্দীর ভূমিকা কীভাবে সম্পর্কিত?

A. তিনি এর বিরোধিতা করেন
B. তিনি এই নীতির সমর্থন করেন
C. তিনি নিরপেক্ষ থাকেন
D. তিনি এর বিকল্প দেন
সঠিক উত্তর: B. তিনি এই নীতির সমর্থন করেনব্যাখ্যা: তিনি ব্রিটিশ বিভাজন নীতির প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছিলেন।
সঠিক উত্তর: B. তিনি এই নীতির সমর্থন করেন। ব্যাখ্যা: তিনি ব্রিটিশ বিভাজন নীতির প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছিলেন।

Q3. ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার সময় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রধান সমালোচনা কী ছিল?

A. প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা
B. অতিরিক্ত কঠোরতা
C. দ্রুত সামরিক হস্তক্ষেপ
D. আন্তর্জাতিক চাপ
সঠিক উত্তর: A. প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তাব্যাখ্যা: প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা দাঙ্গাকে ভয়াবহ করে তোলে।
সঠিক উত্তর: A. প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা। ব্যাখ্যা: প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা দাঙ্গাকে ভয়াবহ করে তোলে।

Q4. সোহরাওয়ার্দীর রাজনৈতিক উত্থানের ক্ষেত্রে কোন বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল?

A. শিক্ষাগত যোগ্যতা
B. জনসমর্থন
C. ধর্মীয় নেতৃত্ব
D. ব্রিটিশদের সমর্থন
সঠিক উত্তর: D. ব্রিটিশদের সমর্থনব্যাখ্যা: ব্রিটিশদের সমর্থন তাঁর প্রশাসনিক ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
সঠিক উত্তর: D. ব্রিটিশদের সমর্থন। ব্যাখ্যা: ব্রিটিশদের সমর্থন তাঁর প্রশাসনিক ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

Q5. ‘Direct Action Day’ ঘোষণার মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?

A. স্বাধীনতা লাভ
B. ব্রিটিশ বিরোধিতা
C. পাকিস্তান দাবিকে জোরদার করা
D. অর্থনৈতিক সংস্কার
সঠিক উত্তর: C. পাকিস্তান দাবিকে জোরদার করাব্যাখ্যা: মুসলিম লীগ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দাবিকে জোরদার করতে এটি ঘোষণা করে।
সঠিক উত্তর: C. পাকিস্তান দাবিকে জোরদার করা। ব্যাখ্যা: মুসলিম লীগ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দাবিকে জোরদার করতে এটি ঘোষণা করে।

Q6. সোহরাওয়ার্দীর রাজনৈতিক কৌশলের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী ছিল?

A. আন্তর্জাতিক সহযোগিতা
B. সাম্প্রদায়িক রাজনীতি
C. অহিংস আন্দোলন
D. অর্থনৈতিক সংস্কার
সঠিক উত্তর: B. সাম্প্রদায়িক রাজনীতিব্যাখ্যা: তিনি মুসলিম স্বার্থরক্ষার নামে সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
সঠিক উত্তর: B. সাম্প্রদায়িক রাজনীতি। ব্যাখ্যা: তিনি মুসলিম স্বার্থরক্ষার নামে সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে সক্রিয় হন।

Q7. ১৯৪৬ সালের দাঙ্গা থেকে কোন প্রধান ঐতিহাসিক ফলাফল দেখা যায়?

A. ব্রিটিশ শাসন শক্তিশালী হয়
B. ভারত বিভাজনের গতি বৃদ্ধি পায়
C. কংগ্রেস দুর্বল হয়
D. মুসলিম লীগ ভেঙে যায়
সঠিক উত্তর: B. ভারত বিভাজনের গতি বৃদ্ধি পায়ব্যাখ্যা: দাঙ্গা ভারত বিভাজনের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
সঠিক উত্তর: B. ভারত বিভাজনের গতি বৃদ্ধি পায়। ব্যাখ্যা: দাঙ্গা ভারত বিভাজনের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।

Q8. সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে মুসলিম লীগের সাফল্যের প্রধান কারণ কী?

A. সাম্প্রদায়িক প্রচার
B. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
C. আন্তর্জাতিক সমর্থন
D. সামরিক শক্তি
সঠিক উত্তর: A. সাম্প্রদায়িক প্রচারব্যাখ্যা: সাম্প্রদায়িক প্রচার ও উস্কানি মুসলিম লীগের সমর্থন বাড়ায়।
সঠিক উত্তর: A. সাম্প্রদায়িক প্রচার। ব্যাখ্যা: সাম্প্রদায়িক প্রচার ও উস্কানি মুসলিম লীগের সমর্থন বাড়ায়।

Q9. ‘গোপাল পাঁঠা’-র উত্থান কোন পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া ছিল?

A. ব্রিটিশ শাসন
B. অর্থনৈতিক সংকট
C. প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও দাঙ্গা
D. রাজনৈতিক সংস্কার
সঠিক উত্তর: C. প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও দাঙ্গাব্যাখ্যা: প্রশাসনের ব্যর্থতায় সাধারণ মানুষের প্রতিরোধ গড়ে ওঠে।
সঠিক উত্তর: C. প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও দাঙ্গা। ব্যাখ্যা: প্রশাসনের ব্যর্থতায় সাধারণ মানুষের প্রতিরোধ গড়ে ওঠে।

Q10. সোহরাওয়ার্দীর রাজনৈতিক জীবনের দ্বৈত মূল্যায়নের কারণ কী?

A. অর্থনৈতিক ব্যর্থতা
B. শিক্ষাগত সীমাবদ্ধতা
C. গণতন্ত্রপন্থী ও বিতর্কিত ভূমিকা
D. আন্তর্জাতিক বিরোধ
সঠিক উত্তর: C. গণতন্ত্রপন্থী ও বিতর্কিত ভূমিকাব্যাখ্যা: একদিকে গণতন্ত্রপন্থী নেতা, অন্যদিকে দাঙ্গার জন্য বিতর্কিত।
সঠিক উত্তর: C. গণতন্ত্রপন্থী ও বিতর্কিত ভূমিকা। ব্যাখ্যা: একদিকে গণতন্ত্রপন্থী নেতা, অন্যদিকে দাঙ্গার জন্য বিতর্কিত।

Q11. ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে সোহরাওয়ার্দীর সম্পর্কের প্রকৃতি কী ছিল?

A. সহযোগিতামূলক
B. বিরোধী
C. নিরপেক্ষ
D. বৈরী
সঠিক উত্তর: A. সহযোগিতামূলকব্যাখ্যা: তিনি বহু ক্ষেত্রে ব্রিটিশ প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করেন।
সঠিক উত্তর: A. সহযোগিতামূলক। ব্যাখ্যা: তিনি বহু ক্ষেত্রে ব্রিটিশ প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করেন।

Q12. ‘অখণ্ড বাংলা’ পরিকল্পনার ঐতিহাসিক গুরুত্ব কী ছিল?

A. ভারত বিভাজন রোধ
B. পাকিস্তান গঠন
C. কংগ্রেস শক্তিশালী করা
D. ব্রিটিশ শাসন বজায় রাখা
সঠিক উত্তর: A. ভারত বিভাজন রোধব্যাখ্যা: এটি বাংলা ভাগ না করে স্বাধীন রাখার প্রস্তাব ছিল।
সঠিক উত্তর: A. ভারত বিভাজন রোধ। ব্যাখ্যা: এটি বাংলা ভাগ না করে স্বাধীন রাখার প্রস্তাব ছিল।

Q13. সোহরাওয়ার্দীর রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন কোন বৃহত্তর প্রবণতাকে নির্দেশ করে?

A. জাতীয়তাবাদ বৃদ্ধি
B. সাম্প্রদায়িক রাজনীতির উত্থান
C. গণতন্ত্রের বিস্তার
D. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
সঠিক উত্তর: B. সাম্প্রদায়িক রাজনীতির উত্থানব্যাখ্যা: তাঁর পরিবর্তন সাম্প্রদায়িক রাজনীতির উত্থানকে প্রতিফলিত করে।
সঠিক উত্তর: B. সাম্প্রদায়িক রাজনীতির উত্থান। ব্যাখ্যা: তাঁর পরিবর্তন সাম্প্রদায়িক রাজনীতির উত্থানকে প্রতিফলিত করে।

Q14. ১৯৪৬ সালের দাঙ্গা বিশ্লেষণে কোন বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?

A. সামরিক শক্তি
B. আন্তর্জাতিক রাজনীতি
C. প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত
D. অর্থনৈতিক অবস্থা
সঠিক উত্তর: C. প্রশাসনিক সিদ্ধান্তব্যাখ্যা: প্রশাসনের সিদ্ধান্ত দাঙ্গার গতিপথ নির্ধারণ করে।
সঠিক উত্তর: C. প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। ব্যাখ্যা: প্রশাসনের সিদ্ধান্ত দাঙ্গার গতিপথ নির্ধারণ করে।

Q15. সোহরাওয়ার্দীর জীবন থেকে প্রধান শিক্ষা কী?

A. অর্থনৈতিক উন্নয়ন জরুরি
B. রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা গুরুত্বপূর্ণ
C. সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিপদ
D. আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দরকার
সঠিক উত্তর: C. সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিপদব্যাখ্যা: তাঁর জীবন সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিপদের দিকটি তুলে ধরে।
সঠিক উত্তর: C. সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিপদ। ব্যাখ্যা: তাঁর জীবন সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিপদের দিকটি তুলে ধরে।

১. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কে ছিলেন?

উত্তর: তিনি ছিলেন উপমহাদেশের একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, আইনজীবী এবং অবিভক্ত বাংলার শেষ প্রধানমন্ত্রী (১৯৪৬-৪৭)। পরে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী (১৯৫৬) হন এবং আওয়ামী মুসলিম লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

২. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর জন্ম কবে এবং কোথায়?

উত্তর: তাঁর জন্ম ১৮৯২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মেদিনীপুরে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে।

৩. সোহরাওয়ার্দী কোন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত ছিলেন?

উত্তর: তিনি প্রথমে স্বরাজ দলে যুক্ত ছিলেন, পরে মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং পরে আওয়ামী মুসলিম লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হন।

৪. ১৯৪৬ সালের ‘ডিরেক্ট অ্যাকশন ডে’ কী ছিল?

উত্তর: মুসলিম লীগ কর্তৃক ঘোষিত একটি আন্দোলন, যার উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিকে জোরদার করা। কিন্তু এটি কলকাতায় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় রূপ নেয়।

৫. ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ কী?

Great Calcutta Killing 1946 riot scene in Kolkata during Direct Action Day communal violence

উত্তর: ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট কলকাতায় সংঘটিত এক ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, যেখানে হাজার হাজার মানুষ নিহত ও আহত হয়। এটি Direct Action Day-এর ফল।

৬. সোহরাওয়ার্দীর ভূমিকা কী ছিল ‘ক্যালকাটা কিলিং’-এ?

উত্তর: সমালোচকদের মতে, তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রশাসনকে নিষ্ক্রিয় রাখেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন, যার ফলে দাঙ্গা ব্যাপক আকার ধারণ করে।

৭. কেন তাঁকে ‘ক্যালকাটার কসাই’ বলা হয়?

উত্তর: ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার সময় তাঁর ভূমিকার জন্য অনেক সমালোচক তাঁকে এই উপাধি দেন, যদিও এই বিষয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

৮. ‘ডিরেক্ট অ্যাকশন ডে’ কে ঘোষণা করেছিলেন?

উত্তর: মুসলিম লীগের নেতা মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ ১৬ আগস্ট ১৯৪৬-কে Direct Action Day হিসেবে ঘোষণা করেন।

৯. সোহরাওয়ার্দীর সাম্প্রদায়িক রাজনীতি কীভাবে গড়ে ওঠে?

উত্তর: প্রথমদিকে তিনি অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে মুসলিম লীগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে সক্রিয় হন।

১০. ‘অখণ্ড বাংলা’ পরিকল্পনা কী ছিল?

Bangladesh district map in Bengali showing all divisions and districts with labels

উত্তর: দেশভাগের সময় সোহরাওয়ার্দী ও শরৎচন্দ্র বসু প্রস্তাব করেছিলেন যে, বাংলা ভাগ না করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে রাখা হোক, তবে এটি সফল হয়নি।

১১. সোহরাওয়ার্দী কি ব্রিটিশদের সমর্থন করতেন?

উত্তর: অনেক ক্ষেত্রে তিনি ব্রিটিশ প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করেছিলেন, বিশেষত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও Quit India Movement-এর সময়।

১২. আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনে সুরাবর্দির ভূমিকা কী?

উত্তর: ১৯৪৯ সালে গঠিত এই দলের অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও নেতা ছিলেন তিনি।10

১৩. শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে তাঁর সম্পর্ক কী ছিল?

Sheikh Mujibur Rahman portrait, founder of Bangladesh and first President

উত্তর: শেখ মুজিব তাঁকে রাজনৈতিক গুরু হিসেবে মানতেন এবং তাঁর কাছ থেকেই রাজনীতির প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন।

১৪. সুরাবর্দি কি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন?

উত্তর: হ্যাঁ, তিনি ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।11

১৫. সুরাবর্দির মৃত্যু কবে ও কোথায় হয়?

উত্তর: ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর লেবাননের বেইরুট শহরে তাঁর মৃত্যু হয়।12

১৬. সুরাবর্দির মৃত্যু কি রহস্যজনক ছিল?

উত্তর: সরকারিভাবে হৃদরোগ বলা হলেও তাঁর মৃত্যু নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা বিতর্ক ও সন্দেহ রয়েছে।

১৭. ‘ডিরেক্ট অ্যাকশন ডে’ কেন ব্যর্থ হয়েছিল?

উত্তর: এটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হিসেবে শুরু হলেও দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় পরিণত হয়।

১৮. কলকাতা দাঙ্গায় কত মানুষ নিহত হয়?

উত্তর: সরকারি হিসেবে প্রায় ৪,০০০ মানুষ নিহত হন, যদিও বেসরকারি হিসেবে সংখ্যা আরও বেশি বলে মনে করা হয়।

১৯. গোপাল পাঁঠা কে ছিলেন?

উত্তর: কলকাতার দাঙ্গার সময় হিন্দুদের রক্ষায় প্রতিরোধ গড়ে তোলা এক নেতা, যিনি স্থানীয় প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠেন।

২০. সুরাবর্দির ঐতিহাসিক মূল্যায়ন কী?

উত্তর: তিনি একদিকে গণতন্ত্রপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত, অন্যদিকে ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার জন্য বিতর্কিত—এই দ্বৈত মূল্যায়নই তাঁর ঐতিহাসিক পরিচয়।

-------------- আরও পড়ুন ---------------


  1. Ayesha Jalal, The Sole Spokesman: Jinnah, the Muslim League and the Demand for Pakistan, Cambridge University Press, 1985. ↩︎
  2. Bipan Chandra et al., India’s Struggle for Independence, Penguin Books, 1989. ↩︎
  3. Sekhar Bandyopadhyay, From Plassey to Partition and After, Orient Blackswan, 2004. ↩︎
  4. R.C. Majumdar, History of the Freedom Movement in India (Vol. III), Firma KLM, 1963. ↩︎
  5. Sumit Sarkar, Modern India 1885–1947, Macmillan, 1983. ↩︎
  6. Sekhar Bandyopadhyay, From Plassey to Partition and After, Orient Blackswan, 2004. ↩︎
  7. Bipan Chandra et al., India’s Struggle for Independence, Penguin Books, 1989. ↩︎
  8. Joya Chatterji, Bengal Divided: Hindu Communalism and Partition, Cambridge University Press, 1994. ↩︎
  9. Joya Chatterji, Bengal Divided, Cambridge University Press, 1994. ↩︎
  10. Talukder Maniruzzaman, The Bangladesh Revolution and Its Aftermath, University Press Limited, 1988. ↩︎
  11. Ayesha Jalal, The State of Martial Rule: The Origins of Pakistan's Political Economy of Defence, Cambridge University Press, 1990. ↩︎
  12. Oxford Dictionary of National Biography, Oxford University Press. ↩︎

1 thought on “হোসেন শহীদ সুরাবর্দি: ইতিহাসের খলনায়ক নাকি পরিস্থিতির শিকার? ১৯৪৬-এর দাঙ্গা ও এক বিতর্কিত অধ্যায়”

  1. Pingback: All History Posts - Subhas Biswas – Lekhapora

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top