Bhagat Singh vs Gandhi বিতর্ক ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত অধ্যায়।1
1. ভূমিকা:
ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছর পার হয়ে গেলেও আজও ইতিহাসের অলিন্দে একটি প্রশ্ন বারবার প্রতিধ্বনিত হয়— মহাত্মা গান্ধী কি পারতেন ভগত সিংয়ের ফাঁসি আটকাতে? ১৯৩১ সালের ২৩ শে মার্চ লাহোর সেন্ট্রাল জেলে যখন ভগত সিং, রাজগুরু ও সুখদেবের ফাঁসি হয়, তখন সমগ্র ভারতবর্ষ শোকে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল।2 এই নিবন্ধে আমরা অনুসন্ধান করব সেই রক্তঝরা দিনগুলোর ইতিহাস, যেখানে একদিকে ছিল গান্ধীর অহিংস নীতি আর অন্যদিকে ভগত সিংয়ের আপসহীন বৈপ্লবিক সমাজতন্ত্র।

📌 Bhagat Singh vs Gandhi: সংক্ষিপ্ত তথ্য
- ভগত সিং: বিপ্লবী নেতা, ১৯৩১ সালে ফাঁসি
- গান্ধী: অহিংস আন্দোলনের নেতা
- ঘটনা: লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা
- মূল প্রশ্ন: গান্ধী কি ভগত সিংয়ের ফাঁসি আটকাতে পারতেন?
- বিতর্ক: আজও ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে
2. বিচারের নামে প্রহসন: লাহোর ষড়যন্ত্র মামলার আইনি অসংগতি
ভগত সিংয়ের বিচার প্রক্রিয়া ছিল ব্রিটিশ আইনের এক চূড়ান্ত নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।3 ভাইসরয় লর্ড আরউইন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছিলেন।4 এমনকি ব্রিটিশ পার্লামেন্টের অনুমোদন ছাড়াই অর্ডিন্যান্স পাশ করে এই বিচার চালানো হয়। হংসরাজ ভোরা ও ফনীন্দ্রনাথ ঘোষের মতো বিশ্বাসঘাতক সঙ্গীদের অর্থের বিনিময়ে সাক্ষী সাজিয়ে ব্রিটিশ সরকার এই ‘আইনি হত্যা’ নিশ্চিত করেছিল।5 ভারতের তৎকালীন আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই বিচার প্রক্রিয়াটি আগাগোড়াই ছিল অসাংবিধানিক।
3. আদর্শিক সংঘাত: গান্ধী বনাম ভগত সিং
গান্ধী ও ভগত সিংয়ের মধ্যে মূল পার্থক্য ছিল স্বাধীনতার সংজ্ঞায়।6
- ভগত সিংয়ের সমাজতন্ত্র: ভগত সিং কেবল ব্রিটিশদের বিতাড়ন নয়, বরং সমাজ থেকে শোষণের চিরস্থায়ী অবসান চেয়েছিলেন।7 তিনি HSRA (Hindustan Socialist Republican Association) গঠনের মাধ্যমে সমাজতান্ত্রিক ভারতের স্বপ্ন দেখতেন।8 তাঁর মনন জগতে কার্ল মার্কস, লেনিন এবং ভলতেয়ারের গভীর প্রভাব ছিল।
- গান্ধীর অহিংসা: গান্ধী বিশ্বাস করতেন নৈতিক জয় ও হৃদয়ের পরিবর্তনে।9 ভগত সিংয়ের সশস্ত্র বিপ্লবকে তিনি ভারতের সংস্কৃতির পরিপন্থী বলে মনে করতেন।
4. চৌরিচৌরা ও মোহভঙ্গ
১৯২২ সালে চৌরিচৌরা ঘটনার পর যখন গান্ধীজি আকস্মিক অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন, তখন তরুণ ভগত সিংয়ের মনে গান্ধীর নেতৃত্বের প্রতি গভীর অনাস্থা তৈরি হয়।10 ব্রিটিশের অত্যাচারের মুখে দাঁড়িয়ে একটি ছোট হিংসার ঘটনার জন্য কোটি কোটি মানুষের আন্দোলন থামিয়ে দেওয়াকে ভগত সিং ‘বিপ্লবের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখেছিলেন। এখান থেকেই তাঁর নিজস্ব বৈপ্লবিক পথ চলা শুরু।
5. বধিরকে শোনাতে বজ্রনিনাদ: অ্যাসেম্বলি বোমা হামলা
১৯২৯ সালে দিল্লির সেন্ট্রাল অ্যাসেম্বলিতে ভগত সিং ও বটুকেশ্বর দত্ত যে বোমা নিক্ষেপ করেছিলেন, তার উদ্দেশ্য কাউকে হত্যা করা ছিল না।11 তাঁরা লিফলেট ছড়িয়ে পরিষ্কার জানিয়েছিলেন— “To make the deaf hear” (বধিরকে শোনাতেই এই বজ্রধ্বনি)।12 সাইমন কমিশন বিরোধী আন্দোলনে লালা লাজপত রায়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে তাঁরা স্যান্ডার্সকে হত্যা করলেও, ব্যক্তিগত হিংসা তাঁদের লক্ষ্য ছিল না; লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদকে কাঁপিয়ে দেওয়া।

📜 আদালতে ভগত সিং-এর ঐতিহাসিক বক্তব্য
“To make the deaf hear, the sound has to be very loud.”
ভগত সিং ও বটুকেশ্বর দত্ত ১৯২৯ সালে দিল্লির সেন্ট্রাল অ্যাসেম্বলিতে বোমা নিক্ষেপের পর এই বিখ্যাত উক্তিটি করেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল কাউকে হত্যা করা নয়, বরং ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।
👉 এই বক্তব্য স্বাধীনতা আন্দোলনে বিপ্লবী আদর্শের অন্যতম শক্তিশালী প্রতীক হয়ে ওঠে।
6. যতীন দাসের আত্মত্যাগ ও গান্ধীর শীতল প্রতিক্রিয়া
জেলের ভেতরে রাজবন্দিদের মর্যাদা আদায়ের দাবিতে ভগত সিংরা ঐতিহাসিক অনশন শুরু করেন। ৬৩ দিনের দীর্ঘ অনশনের পর শহিদ হন বিপ্লবী যতীন দাস।13 সমগ্র দেশ যখন উত্তাল, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন যতীন দাসের স্মৃতিতে গান বাঁধছেন, সুভাষচন্দ্র বসু যখন তাঁর শেষযাত্রায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন— তখন গান্ধীজি এই আত্মত্যাগকে ‘এক প্রকার আত্মহত্যা’ বলে অভিহিত করেছিলেন। গান্ধীর এই শীতল আচরণ বিপ্লবী শিবিরের সাথে তাঁর দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়।

📜 ভগত সিং-এর ফাঁসি ও গান্ধীর ভূমিকা: বিখ্যাত মতামত
- সুভাষচন্দ্র বসু: “গান্ধী যদি চাইতেন, ভগত সিং-এর জীবন রক্ষা করা সম্ভব ছিল।” 👉 (The Indian Struggle-এ এই মনোভাব প্রতিফলিত)
- জওহরলাল নেহরু: “ভগত সিং আজ দেশের তরুণদের কাছে এক প্রতীক হয়ে উঠেছেন।” 👉 (তাঁর আত্মত্যাগের স্বীকৃতি, যদিও সরাসরি গান্ধী সমালোচনা নয়)
- এ.জি. নূরানি (ইতিহাসবিদ): “গান্ধী ভগত সিং-এর প্রাণদণ্ড রোধে যথেষ্ট রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেননি।” 👉 (The Trial of Bhagat Singh)
- বিপন চন্দ্র (ইতিহাসবিদ): “গান্ধীর পক্ষে ব্রিটিশদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করানো খুব কঠিন ছিল।” 👉 (India’s Struggle for Independence)
- সাধারণ জনগণের প্রতিক্রিয়া (১৯৩১): “গান্ধী চাইলেই ভগত সিংকে বাঁচাতে পারতেন”—এই ধারণা তৎকালীন যুবসমাজে প্রবল ছিল।
7. গান্ধী-আরউইন চুক্তি ও ফাঁসি আটকানোর শেষ সুযোগ
১৯৩১ সালের গান্ধী-আরউইন চুক্তির সময় সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল, গান্ধীজি হয়তো ভগত সিংদের মুক্তি বা সাজা কমানোর শর্ত রাখবেন।14
- গান্ধীর প্রচেষ্টা: গান্ধীজি আরউইনকে ফাঁসি স্থগিত করার অনুরোধ করেছিলেন সত্য, কিন্তু তিনি এটিকে চুক্তির প্রধান শর্ত হিসেবে রাখেননি।15
- সুভাষচন্দ্রের পরামর্শ: সুভাষচন্দ্র বসু পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, ভগত সিংয়ের প্রশ্নে প্রয়োজনে গান্ধীজির উচিত ভাইসরয়ের সাথে আলোচনা বা সম্পর্ক ছিন্ন করা।16 কিন্তু গান্ধীজি তাঁর অহিংসার আদর্শে এতটাই অনড় ছিলেন যে, সহিংস বিপ্লবীদের জন্য তিনি চূড়ান্ত রাজনৈতিক ঝুঁকি নিতে চাননি।17
📌 ভগত সিং-এর ফাঁসি: ৫টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- ফাঁসির তারিখ: ২৩ মার্চ ১৯৩১
- স্থান: লাহোর সেন্ট্রাল জেল
- মামলা: লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা
- সহযোদ্ধা: রাজগুরু ও সুখদেব
- বিশেষ তথ্য: নির্ধারিত সময়ের আগেই গোপনে ফাঁসি কার্যকর করা হয়

8. উপসংহার: ইতিহাসের নিষ্ঠুর সত্য
- ২৩ শে মার্চ সন্ধ্যায় নির্ধারিত সময়ের আগেই ভগত সিংদের ফাঁসি দিয়ে দেওয়া হয়।18 গান্ধীজি পরবর্তীকালে জানিয়েছিলেন যে, বিপ্লবীদের কৃতকর্মের জন্য তিনি লজ্জিত ছিলেন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, গান্ধীজি তাঁর নিজস্ব আদর্শিক গণ্ডির উপরে উঠতে পারেননি। মহাত্মা গান্ধী হয়তো মহৎ ছিলেন, কিন্তু ভগত সিংয়ের ফাঁসি আটকানোর ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা আজও অমীমাংসিত বিতর্কের জন্ম দেয়।19
- আজকের স্বাধীন ভারত শহিদ ভগত সিংকে তাঁর বীরত্বের জন্য মনে রাখে, আর সেই রক্তঝরা ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয়— স্বাধীনতা কখনও দান হিসেবে আসেনি, তা ছিনিয়ে নিতে হয়েছে জীবনের বিনিময়ে।
ভগত সিং বনাম গান্ধী সম্পর্কে আরও জানতে সংবাদ প্রতিদিন থেকে পড়ুন
আরও পড়ুন:
গান্ধীজি কেন ভগৎ সিং-এর ফাঁসি আটকাননি?
ভগত সিং বনাম গান্ধী সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
————– ভগত সিং বনাম গান্ধী সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর —————
Section A- QUIZ: মক টেস্ট দিয়ে নিজেকে যাচাই করুন
ভগত সিং বনাম গান্ধী: মক টেস্ট
স্বাধীনতা আন্দোলনের দুই ভিন্ন পথ—বিপ্লবী সংগ্রাম ও অহিংস রাজনীতির উপর গুরুত্বপূর্ণ MCQ।
মক টেস্ট সম্পূর্ণ হয়েছে
Section B-Basic MCQ: নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দিন
ভগত সিং ও মহাত্মা গান্ধী: MCQ Answer Reveal
প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।
Section C-Advanced MCQ: নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দিন
Section D-FAQ: ভগত সিং বনাম গান্ধী সংক্রান্ত জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
১. গান্ধীজি কি সত্যিই ভগত সিং-এর ফাঁসি আটকাতে পারতেন?
উত্তর: এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত প্রশ্নগুলির একটি। অনেকের মতে, গান্ধী যদি গান্ধী-আরউইন চুক্তির সময় ফাঁসি রদের শর্ত জোর দিয়ে তুলতেন, তাহলে ব্রিটিশ সরকার চাপের মুখে সিদ্ধান্ত বদলাতে পারত। তবে অন্য ইতিহাসবিদরা বলেন, ব্রিটিশ সরকার ইতিমধ্যেই কঠোর অবস্থানে ছিল এবং গান্ধীর একার পক্ষে সিদ্ধান্ত বদলানো সম্ভব ছিল না।
২. ভগত সিংকে ফাঁসি দেওয়ার আসল কারণ কী ছিল?
উত্তর: ভগত সিংকে মূলত লাহোর ষড়যন্ত্র মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়, যেখানে সন্ডার্স হত্যাকাণ্ড এবং অ্যাসেম্বলি বোমা নিক্ষেপের জন্য তাঁকে দায়ী করা হয়। ব্রিটিশ সরকার এই ঘটনাকে রাষ্ট্রবিরোধী সন্ত্রাসবাদ হিসেবে দেখেছিল।
৩. গান্ধী কেন ভগত সিং-এর সহিংস পদ্ধতির বিরোধিতা করেছিলেন?
উত্তর: গান্ধীর রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল অহিংসা। তিনি বিশ্বাস করতেন যে সহিংসতা ব্যবহার করলে স্বাধীনতা এলেও তা স্থায়ী বা নৈতিক হবে না। তাই তিনি ভগত সিং-এর উদ্দেশ্যকে শ্রদ্ধা করলেও তাঁর পদ্ধতির বিরোধিতা করেছিলেন।
৪. ভগত সিং কেন অহিংস পথকে অপ্রতুল মনে করতেন?
উত্তর: ভগত সিং মনে করতেন ব্রিটিশ শাসন অত্যন্ত দমনমূলক এবং কেবল অহিংস প্রতিবাদে তা ভাঙা সম্ভব নয়। তাঁর মতে, বিপ্লবী সংগ্রাম জনগণকে জাগ্রত করে এবং শোষকদের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
৫. গান্ধী-আরউইন চুক্তি ভগত সিং-এর ফাঁসির উপর কী প্রভাব ফেলেছিল?
উত্তর: এই চুক্তিতে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির কথা থাকলেও ভগত সিং-এর মতো বিপ্লবীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে তাঁর ফাঁসির সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আসেনি, যা পরবর্তীতে বড় বিতর্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
৬. ভগত সিং-এর মৃত্যুর পর গান্ধীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ কেন বেড়ে যায়?
উত্তর: অনেক তরুণ ও বিপ্লবী সমর্থক মনে করেছিলেন গান্ধী যথেষ্ট চেষ্টা করেননি। এই ধারণা থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও কালো পতাকা দেখানোর ঘটনা ঘটে, বিশেষ করে করাচি কংগ্রেস অধিবেশনে।
৭. ভগত সিং কি গান্ধীকে সমালোচনা করেছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, ভগত সিং তাঁর লেখনী ও চিন্তায় গান্ধীর অহিংস নীতির সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেছিলেন। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে গান্ধীর সততা ও নেতৃত্বের ক্ষমতার প্রশংসাও করেছিলেন।
৮. গান্ধী কি কখনো ভগত সিংকে ‘শহিদ’ হিসেবে স্বীকার করেছিলেন?
উত্তর: গান্ধী সরাসরি তাঁকে “শহিদ” বলে উল্লেখ না করলেও, তাঁর আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন এবং ভারতীয় যুবসমাজের মধ্যে তাঁর প্রভাবকে স্বীকার করেছিলেন।
৯. ভগত সিং-এর জনপ্রিয়তা কেন এত দ্রুত বেড়ে যায়?
উত্তর: তাঁর সাহসী পদক্ষেপ, আদালতে বিপ্লবী বক্তব্য, এবং ফাঁসির মুখে নির্ভীক আচরণ তাঁকে যুবসমাজের নায়ক করে তোলে। তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীক হয়ে ওঠেন।20
১০. ভগত সিং ও গান্ধীর মধ্যে কি কোনো সরাসরি সাক্ষাৎ হয়েছিল?
উত্তর: না, তাঁদের মধ্যে কোনো সরাসরি সাক্ষাৎ হয়নি। তবে গান্ধী তাঁর সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন এবং তাঁর ফাঁসি রদের বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন।
১১. ভগত সিং কি শুধুই বিপ্লবী ছিলেন, নাকি একজন চিন্তাবিদও ছিলেন?
উত্তর: ভগত সিং শুধু বিপ্লবী নন, তিনি একজন গভীর চিন্তাবিদও ছিলেন। তাঁর লেখা ‘Why I am an Atheist’ এবং অন্যান্য প্রবন্ধ তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক গভীরতা প্রমাণ করে।
১২. গান্ধীর অহিংস আন্দোলন ও ভগত সিং-এর বিপ্লবী আন্দোলনের মধ্যে কোনটি বেশি কার্যকর ছিল?
উত্তর: এই প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর নেই। ইতিহাসবিদদের মতে, এই দুই পদ্ধতি একসঙ্গে ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনকে শক্তিশালী করেছিল—একটি জনসমর্থন তৈরি করে, অন্যটি ব্রিটিশদের ভয় দেখায়।
১৩. কেন ভগত সিং আজও তরুণদের কাছে এত জনপ্রিয়?
উত্তর: তাঁর আত্মত্যাগ, নির্ভীকতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মানসিকতা আজও তরুণদের অনুপ্রাণিত করে। তিনি বিদ্রোহ ও স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
১৪. গান্ধী ও ভগত সিং—দুজনের লক্ষ্য কি এক ছিল?
উত্তর: হ্যাঁ, দুজনেরই মূল লক্ষ্য ছিল ভারতের স্বাধীনতা। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনের পদ্ধতি সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল—একজন অহিংস, অন্যজন বিপ্লবী।
১৫. ইতিহাসে গান্ধী বনাম ভগত সিং বিতর্ক কেন এখনও গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: এই বিতর্ক স্বাধীনতা সংগ্রামের বিভিন্ন কৌশল ও নৈতিকতার প্রশ্ন তুলে ধরে। এটি আজও রাজনৈতিক চিন্তা ও আন্দোলনের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক।
-------------- আরও পড়ুন ---------------
- Bipan Chandra et al., India’s Struggle for Independence, Penguin Books, 1989 ↩︎
- K. N. Panikkar, Against Lord and State: Religion and Peasant Uprisings in Malabar 1836–1921, Oxford University Press, 1989 ↩︎
- A. G. Noorani, The Trial of Bhagat Singh: Politics of Justice, Oxford University Press, 2005. ↩︎
- A. G. Noorani, The Trial of Bhagat Singh: Politics of Justice, Oxford University Press, 2005. ↩︎
- A. G. Noorani, The Trial of Bhagat Singh: Politics of Justice, Oxford University Press, 2005. ↩︎
- Bipan Chandra et al., India’s Struggle for Independence, Penguin Books, 1989 ↩︎
- S. Irfan Habib, To Make the Deaf Hear: Ideology and Programme of Bhagat Singh and His Comrades, Three Essays Collective, 2007. ↩︎
- S. Irfan Habib, To Make the Deaf Hear: Ideology and Programme of Bhagat Singh and His Comrades, Three Essays Collective, 2007. ↩︎
- Judith M. Brown, Gandhi: Prisoner of Hope, Yale University Press, 1989. ↩︎
- Bipan Chandra et al., India’s Struggle for Independence, Penguin Books, 1989. ↩︎
- S. Irfan Habib, To Make the Deaf Hear: Ideology and Programme of Bhagat Singh and His Comrades, Three Essays Collective, 2007. ↩︎
- Bhagat Singh and B. K. Dutt’s Assembly Bomb Statement; সংকলিত: Shiv Verma, Selected Writings of Shaheed Bhagat Singh, National Book Centre. ↩︎
- Bipan Chandra et al., India’s Struggle for Independence, Penguin Books, 1989 ↩︎
- A. G. Noorani, The Trial of Bhagat Singh: Politics of Justice, Oxford University Press, 2005. ↩︎
- A. G. Noorani, The Trial of Bhagat Singh: Politics of Justice, Oxford University Press, 2005. ↩︎
- Subhas Chandra Bose, The Indian Struggle 1920–1942, Oxford University Press, 1997 reprint ↩︎
- Collected Works of Mahatma Gandhi (CWMG), Volume 45. ↩︎
- A. G. Noorani, The Trial of Bhagat Singh: Politics of Justice, Oxford University Press, 2005. ↩︎
- Judith M. Brown, Gandhi: Prisoner of Hope, Yale University Press, 1989; A. G. Noorani, The Trial of Bhagat Singh: Politics of Justice, Oxford University Press, 2005. ↩︎
- S. Irfan Habib, To Make the Deaf Hear: Ideology and Programme of Bhagat Singh and His Comrades, Three Essays Collective, 2007. ↩︎

Pingback: All History Posts - Subhas Biswas – Lekhapora