Emergency 1975 India বা ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থা ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত অধ্যায়।
ভূমিকা:
ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের পাতায় ২৫শে জুন একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ২০২৪ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এই দিনটিকে ‘সংবিধান হত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু কেন এই দিনটি এত বিতর্কিত? আজ থেকে প্রায় পাঁচ দশক আগে, ১৯৭৫ সালের এই দিনেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী দেশে ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি’ বা জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন। আগামী দুই বছর ভারত যা প্রত্যক্ষ করেছিল, তা ছিল আধুনিক গণতান্ত্রিক ইতিহাসের এক অন্ধকারাচ্ছন্ন অধ্যায়।
কেন এই দিনটিকে ‘সংবিধান হত্যা দিবস’ বলা হয়?
১৯৭৫ সালের ২৫ জুন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর পরামর্শে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। এই সময় নাগরিকদের মৌলিক অধিকার স্থগিত, সংবাদপত্রে সেন্সরশিপ আরোপ এবং বিরোধী নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তাই অনেকের মতে, এই দিনটি ছিল ভারতের গণতন্ত্র ও সংবিধানিক স্বাধীনতার উপর এক গভীর আঘাত।

১. জরুরি অবস্থার প্রেক্ষাপট: ১৯৭১-এর নির্বাচন ও আইনি লড়াই
জরুরি অবস্থার সূত্রপাত ঘটেছিল ১৯৭১ সালের সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। ইন্দিরা গান্ধী সেই নির্বাচনে রায়বরেলি কেন্দ্র থেকে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হন।1 কিন্তু তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনারায়ণ এলাহাবাদ হাইকোর্টে ইন্দিরা গান্ধীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে মামলা করেন।
১৯৭৫ সালের ১২ই জুন এলাহাবাদ হাইকোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে ইন্দিরা গান্ধীর নির্বাচনকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং পরবর্তী ৬ বছরের জন্য তাঁর নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করে।2 সুপ্রিম কোর্ট শর্তসাপেক্ষে তাঁকে ক্ষমতায় থাকার অনুমতি দিলেও, সংসদীয় কার্যক্রমে তাঁর ভোট দেওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়।3 এই আইনি রায়ই মূলত ইন্দিরা গান্ধীকে কোণঠাসা করে ফেলে।
এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়: কীভাবে এক সিদ্ধান্ত বদলে দিল ভারতের রাজনীতি?
১৯৭৫ সালের ১২ জুন এলাহাবাদ হাইকোর্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ১৯৭১ সালের নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত বলে রায় দেয়। আদালত তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিল করে এবং ছয় বছরের জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
এই রায়ের ফলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি হঠাৎ করেই অস্থির হয়ে ওঠে এবং বিরোধী দলগুলির আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে।
অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন, এই রায়ই পরবর্তী ২৫ জুন ১৯৭৫-এর জরুরি অবস্থা ঘোষণার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে ওঠে।
২. জয়প্রকাশ নারায়ণ ও ‘সম্পূর্ণ বিপ্লব’ (Total Revolution)
আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি দেশজুড়ে তখন প্রবল গণ-অসন্তোষ। বেকারত্ব, চরম দারিদ্র্য এবং মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে প্রবীণ জননেতা জয়প্রকাশ নারায়ণ (JP) ‘টোটাল রেভোলিউশন’ বা সম্পূর্ণ বিপ্লবের ডাক দেন।4 দিল্লির রামলীলা ময়দানে লক্ষ লক্ষ মানুষের জমায়েত সরকারকে বিচলিত করে তোলে। ইন্দিরা গান্ধী বুঝতে পেরেছিলেন যে তাঁর রাজনৈতিক অস্তিত্ব বিপন্ন।

‘Total Revolution’ আসলে কী? JP আন্দোলনের আসল উদ্দেশ্য
‘Total Revolution’ বা ‘সম্পূর্ণ বিপ্লব’ ছিল জয়প্রকাশ নারায়ণের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এক বৃহত্তর গণআন্দোলনের ধারণা। এর উদ্দেশ্য ছিল শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বরং রাজনীতি, শিক্ষা, সমাজ, অর্থনীতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার সামগ্রিক সংস্কার।
১৯৭০-এর দশকে দুর্নীতি, মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব এবং শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে ছাত্র-যুব আন্দোলন ক্রমে সর্বভারতীয় রাজনৈতিক প্রতিবাদে পরিণত হয়।
তাই ‘Total Revolution’ ছিল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের দাবিতে এক ঐতিহাসিক জনআন্দোলনের আহ্বান।
মধ্যরাতের সিদ্ধান্ত: এক ঘোষণায় কীভাবে বদলে গেল ১৩০ কোটি মানুষের জীবন
১৯৭৫ সালের ২৫ জুন রাতে রাষ্ট্রপতি ফখরুদ্দিন আলি আহমেদ, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর পরামর্শে দেশে জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন। এরপর থেকেই ভারতের রাজনৈতিক ও নাগরিক জীবনে এক গভীর পরিবর্তন শুরু হয়।
বিরোধী নেতাদের গ্রেপ্তার, সংবাদপত্রে সেন্সরশিপ, নাগরিক স্বাধীনতার সংকোচন এবং প্রশাসনিক দমননীতি—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কার্যত সীমিত হয়ে পড়ে।
এই কারণেই জরুরি অবস্থাকে ভারতের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক “কালো অধ্যায়” বলা হয়।
৩. মধ্যরাতের ঘোষণা: নাগরিকদের স্বাধীনতা হরণ
১৯৭৫ সালের ২৫শে জুন মধ্যরাতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ফখরুদ্দিন আলী আহমেদ জরুরি অবস্থার নথিতে স্বাক্ষর করেন।5 পরদিন সকালে আকাশবাণী রেডিওর মাধ্যমে ইন্দিরা গান্ধী দেশবাসীকে জানান, “মাননীয় রাষ্ট্রপতি দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।” ভারতীয় সংবিধানের ৩৫২ নম্বর ধারা অনুসারে এই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।6 এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই ভারতীয় নাগরিকদের সমস্ত মৌলিক অধিকার (Fundamental Rights) কেড়ে নেওয়া হয় এবং সংবাদপত্রের ওপর কঠোর সেন্সরশিপ আরোপ করা হয়।7
৫টি মৌলিক অধিকার যেগুলো কার্যত কেড়ে নেওয়া হয়েছিল
- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা – সংবাদপত্রে কঠোর সেন্সরশিপ আরোপ করা হয়
- ব্যক্তিগত স্বাধীনতা – বিনা বিচারে গ্রেপ্তার (MISA আইনের মাধ্যমে)
- আইনের আশ্রয় নেওয়ার অধিকার – আদালতে যাওয়ার পথ কার্যত বন্ধ
- সমাবেশের স্বাধীনতা – সভা-সমিতি ও প্রতিবাদ নিষিদ্ধ
- সংগঠন গঠনের অধিকার – রাজনৈতিক সংগঠনগুলির কার্যক্রম সীমিত
এই অধিকারগুলির স্থগিতাদেশ ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
MISA আইন: কীভাবে মানুষ বিনা বিচারে জেলে যেত?
MISA (Maintenance of Internal Security Act, 1971) ছিল এমন একটি আইন, যার মাধ্যমে সরকার কোনো ব্যক্তিকে সন্দেহের ভিত্তিতে বিনা বিচারেই গ্রেপ্তার ও আটক রাখতে পারত।
জরুরি অবস্থার সময় এই আইনের অপব্যবহার করে হাজার হাজার রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক এবং সাধারণ নাগরিককে কোনো প্রমাণ বা বিচার ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে কারারুদ্ধ করা হয়।
ফলে MISA আইন ভারতের ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় দমননীতির অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে।
৪. রাজনৈতিক বন্দি ও জেলের অন্ধকার ইতিহাস
জরুরি অবস্থা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বিরোধীদের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করতে শুরু হয় গণ-গ্রেপ্তার। অটল বিহারী বাজপেয়ী, লালকৃষ্ণ আদভানি, মোরারজি দেশাই এবং জয়প্রকাশ নারায়ণের মতো শীর্ষ নেতাদের জেলে বন্দি করা হয়।8 ‘মিশা’ (MISA) আইনের অপপ্রয়োগ করে বিনা বিচারে হাজার হাজার মানুষকে আটক রাখা হয়।9 বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিল ও বই (যেমন: Torture of Political Prisoners in India) থেকে জানা যায়, জেলে বন্দিদের ওপর অকথ্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো।
জোরপূর্বক নাসবন্দী: ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত সরকারি কর্মসূচি
জরুরি অবস্থার সময় সঞ্জয় গান্ধীর উদ্যোগে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের নামে দেশজুড়ে জোরপূর্বক নাসবন্দী (Sterilization Programme) চালানো হয়।
বহু ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে প্রলোভন, চাপ কিংবা সরাসরি প্রশাসনিক জোর প্রয়োগ করে এই অপারেশনে বাধ্য করা হয়, যার ফলে ব্যাপক জনঅসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
এই কর্মসূচি শুধু মানবাধিকারের লঙ্ঘনই নয়, বরং সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে নষ্ট করে দেয়।
৫. জোরপূর্বক নাসবন্দী বা স্টেরিলাইজেশন
জরুরি অবস্থার অন্যতম বিতর্কিত অধ্যায় ছিল সঞ্জয় গান্ধীর নেতৃত্বে চালানো ‘জোরপূর্বক নাসবন্দী’ কর্মসূচি।10 জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের অজুহাতে গ্রামের সাধারণ মানুষ, এমনকি অবিবাহিত যুবকদেরও রাস্তা থেকে ধরে এনে জোর করে অপারেশন করানো হতো। টার্গেট পূরণ করতে গিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে করা এই অপারেশনের ফলে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটেছিল।

তুর্কমান গেট হত্যাকাণ্ড: কেন এটি রাষ্ট্রীয় দমননীতির প্রতীক?
১৯৭৬ সালে দিল্লির তুর্কমান গেট এলাকায় জরুরি অবস্থার সময় সরকার পরিচালিত বস্তি উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষ প্রতিবাদে নামেন।
এই প্রতিবাদ দমন করতে পুলিশ গুলি চালায়, যার ফলে বহু নিরীহ মানুষের মৃত্যু ঘটে এবং এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এই ঘটনাকে আজও জরুরি অবস্থার সময় রাষ্ট্রীয় দমননীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের এক জ্বলন্ত উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়।
৬. তুর্কমান গেট হত্যাকাণ্ড ও মিডিয়া সেন্সরশিপ
১৯৭৬ সালের এপ্রিল মাসে দিল্লির তুর্কমান গেট এলাকায় অবৈধ বস্তি উচ্ছেদের প্রতিবাদ করায় পুলিশের গুলিতে বহু মানুষ নিহত হন।11 এই নৃশংস ঘটনার কোনো খবরই তৎকালীন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করতে দেওয়া হয়নি। গণমাধ্যমের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। এমনকি অল ইন্ডিয়া রেডিওতে বিখ্যাত গায়ক কিশোর কুমারের গান নিষিদ্ধ করা হয়েছিল কারণ তিনি সরকারি অনুষ্ঠানে গাইতে রাজি হননি।
৭. সংবিধানের ম্যানিপুলেশন ও ৪২তম সংশোধনী
জরুরি অবস্থার সময় ইন্দিরা গান্ধী সংবিধানের ৪২তম সংশোধনী পাস করেন, যা ভারতের সংবিধানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হিসেবে পরিচিত।12 এই সংশোধনীর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা কমিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা বহুগুণ বাড়ানো হয়েছিল।
৮. উপসংহার:
১৯৭৭ সালের মার্চ মাসে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হয় এবং সাধারণ নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধীর শোচনীয় পরাজয় ঘটে।13 ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সালের সেই ২১ মাস ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর এক বিরাট আঘাত ছিল।14 আজকের দিনে দাঁড়িয়ে সেই ইতিহাসকে স্মরণ করার অর্থ হলো গণতন্ত্রের মূল্য এবং নাগরিক অধিকারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন থাকা। গণতন্ত্র কেবল সরকার গঠন নয়, বরং সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা ও বিরোধিতার অধিকারকেও স্বীকৃতি দেওয়া।
১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থা সম্পর্কে আরও জানতে উইকিপিডিয়া থেকে পড়ুন
————– ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থা সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর —————
Section A- QUIZ: মক টেস্ট দিয়ে নিজেকে যাচাই করুন
Section B-Basic MCQ: নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দিন
১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থা: MCQ Answer Reveal
Section C-Advanced MCQ: নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দিন
১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থা: Advanced MCQ Answer Reveal
Q১. ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার ঘোষণার প্রধান রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কী ছিল বলে অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন?
Q২. এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় এবং জরুরি অবস্থার মধ্যে সম্পর্ক কী?
Q৩. ‘Total Revolution’ আন্দোলনের প্রকৃত তাৎপর্য কী ছিল?
Q৪. জরুরি অবস্থার সময় গণতন্ত্রের কোন মৌলিক নীতিটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
Q৫. MISA আইনের প্রয়োগ গণতান্ত্রিক কাঠামোর কোন দিককে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে?
Q৬. ৪২তম সংবিধান সংশোধনীর মূল বৈশিষ্ট্য কী ছিল?
Q৭. জরুরি অবস্থার সময় সংবাদপত্রের সেন্সরশিপের ফলে কোন প্রভাবটি দেখা যায়?
Q৮. জোরপূর্বক নির্বীজন কর্মসূচি কেন মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়?
Q৯. তুর্কমান গেট হত্যাকাণ্ড কোন দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ?
Q১০. জরুরি অবস্থার সময় বিচার বিভাগের ভূমিকা কীভাবে সীমাবদ্ধ হয়েছিল?
Q১১. জরুরি অবস্থার ফলে ভারতের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কী পরিবর্তন আসে?
Q১২. জরুরি অবস্থার অভিজ্ঞতা থেকে পরবর্তীকালে কোন গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী আনা হয়?
Q১৩. জরুরি অবস্থার সময় প্রশাসনিক ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ কী নির্দেশ করে?
Q১৪. জরুরি অবস্থার সময় রাজনৈতিক বিরোধীদের গ্রেপ্তার করার উদ্দেশ্য কী ছিল?
Q১৫. জরুরি অবস্থার সময় ‘কালো অধ্যায়’ শব্দটি ব্যবহারের মূল কারণ কী?
Section D-FAQ: ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
১. ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থা কী?
উত্তর: ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন ভারতের রাষ্ট্রপতি ফখরুদ্দিন আলি আহমেদ সংবিধানের ৩৫২ অনুচ্ছেদের অধীনে ‘আভ্যন্তরীণ অশান্তি’-র কারণ দেখিয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন, যা ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
২. ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থা কেন জারি করা হয়েছিল?
উত্তর: সরকার দাবি করেছিল দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিরোধী আন্দোলনের কারণে জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে। তবে অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন, এলাহাবাদ হাইকোর্টে ইন্দিরা গান্ধীর নির্বাচন বাতিল হওয়ার পর ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
৩. জরুরি অবস্থা কতদিন স্থায়ী ছিল?
উত্তর: প্রায় ২১ মাস—২৫ জুন ১৯৭৫ থেকে ২১ মার্চ ১৯৭৭ পর্যন্ত।
৪. জরুরি অবস্থা কোন অনুচ্ছেদের অধীনে জারি হয়েছিল?
উত্তর: ভারতীয় সংবিধানের ৩৫২ অনুচ্ছেদের অধীনে।
৫. জরুরি অবস্থার সময় ভারতের রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?
উত্তর: ফখরুদ্দিন আলি আহমেদ।
৬. জরুরি অবস্থার সময় মৌলিক অধিকার কেন স্থগিত করা হয়েছিল?
উত্তর: সরকারের মতে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বজায় রাখতে নাগরিক স্বাধীনতা সীমিত করা জরুরি ছিল; ফলে সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদসহ বিভিন্ন অধিকার স্থগিত করা হয়।
৭. MISA আইন কী ছিল?
উত্তর: Maintenance of Internal Security Act (MISA) ছিল এমন একটি আইন যার মাধ্যমে বিনা বিচারে মানুষকে গ্রেপ্তার ও আটক রাখা যেত।
৮. জরুরি অবস্থায় কি আদালতে যাওয়ার অধিকার ছিল?
উত্তর: না, হেবিয়াস কর্পাসের অধিকারও কার্যত স্থগিত করা হয়েছিল, ফলে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আদালতের সাহায্য নিতে পারতেন না।
৯. জরুরি অবস্থায় সংবাদপত্রের সেন্সরশিপ কীভাবে চালু হয়েছিল?
উত্তর: সমস্ত সংবাদ প্রকাশের আগে সরকারের অনুমতি নিতে হতো; সরকারবিরোধী লেখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল।
১০. কোন সংবাদপত্র সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিল?
উত্তর: ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ ও ‘স্টেটসম্যান’-এর মতো পত্রিকাগুলি সম্পাদকীয় কলাম ফাঁকা রেখে প্রতিবাদ জানায়।
১১. জয়প্রকাশ নারায়ণ (JP)-এর ভূমিকা কী ছিল?
উত্তর: তিনি ‘সম্পূর্ণ বিপ্লব’ আন্দোলনের নেতা ছিলেন এবং জরুরি অবস্থা বিরোধী আন্দোলনের প্রধান মুখ হিসেবে উঠে আসেন।
১২. এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
উত্তর: এই রায়ে ইন্দিরা গান্ধীর নির্বাচনে অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়, যা জরুরি অবস্থার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত।
১৩. জরুরি অবস্থার সময় কোন রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল?
উত্তর: জয়প্রকাশ নারায়ণ, মরারজি দেশাই, অটল বিহারী বাজপেয়ীসহ বহু বিরোধী নেতা গ্রেপ্তার হন।
১৪. জরুরি অবস্থার সময় জোরপূর্বক নির্বীজন (Sterilization) কেন বিতর্কিত হয়েছিল?
উত্তর: জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের নামে অনেক ক্ষেত্রে জোর করে নির্বীজন করা হয়, যা মানুষের মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে সমালোচিত হয়।
১৫. জরুরি অবস্থায় সাধারণ মানুষের জীবন কীভাবে প্রভাবিত হয়েছিল?
উত্তর: ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল; স্বাধীন মত প্রকাশ, রাজনৈতিক কার্যকলাপ এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা সীমিত হয়ে পড়ে।
১৬. জরুরি অবস্থার অবসান কীভাবে হয়েছিল?
উত্তর: ১৯৭৭ সালে নির্বাচন ঘোষণা করা হয় এবং নির্বাচনে কংগ্রেস পরাজিত হওয়ার পর জরুরি অবস্থার অবসান ঘটে।
১৭. জরুরি অবস্থার পর কোন সরকার ক্ষমতায় আসে?
উত্তর: জনতা পার্টি সরকার (মোরারজি দেশাই প্রধানমন্ত্রী হন)।
১৮. জরুরি অবস্থার দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক প্রভাব কী ছিল?
উত্তর: ভারতের গণতন্ত্রে নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং কেন্দ্রে প্রথম অ-কংগ্রেস সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯. ‘Internal Emergency’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা বা গোলযোগের কারণে ঘোষিত জরুরি অবস্থা।
২০. জরুরি অবস্থাকে কেন ‘ভারতের গণতন্ত্রের কালো অধ্যায়’ বলা হয়?
উত্তর: কারণ এই সময়ে গণতান্ত্রিক অধিকার, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছিল।
২১. ৪৪তম সংবিধান সংশোধনীর সঙ্গে জরুরি অবস্থার কী সম্পর্ক?
উত্তর: জরুরি অবস্থার অপব্যবহার রোধ করতে ৪৪তম সংশোধনী (১৯৭৮) দ্বারা ভবিষ্যতে জরুরি অবস্থা ঘোষণার নিয়ম কঠোর করা হয়।
২২. Emergency 1975 India কে ঘোষণা করেছিলেন?
উত্তর: রাষ্ট্রপতি ফখরুদ্দিন আলি আহমেদ (ইন্দিরা গান্ধীর পরামর্শে)।
২৩. Emergency 1975 India কবে শুরু হয়?
উত্তর: ২৫ জুন ১৯৭৫।
২৪. Emergency 1975 India কবে শেষ হয়?
উত্তর: ২১ মার্চ ১৯৭৭।
- Bipan Chandra, India Since Independence, Penguin Books, 2008, p. 212 ↩︎
- Granville Austin, Working a Democratic Constitution: The Indian Experience, Oxford University Press, 1999, p. 308 ↩︎
- H.M. Seervai, Constitutional Law of India, Universal Law Publishing, 2005, Vol. 3, p. 2458 ↩︎
- Bipan Chandra et al., India’s Struggle for Independence, Penguin Books, 1989, p. 553 ↩︎
- Ramachandra Guha, India After Gandhi, HarperCollins, 2007, p. 498 ↩︎
- Constitution of India, Article 352 / Shah Commission Report (1978). ↩︎
- Ramachandra Guha, India After Gandhi, HarperCollins, 2007, p. 502 ↩︎
- Bipan Chandra, India Since Independence, Penguin Books, 2008, p. 215 ↩︎
- A.G. Noorani, Constitutional Questions in India, Oxford University Press, 2000, p. 178 ↩︎
- Ramachandra Guha, India After Gandhi, HarperCollins, 2007, p. 515 ↩︎
- Bipan Chandra, India Since Independence, Penguin Books, 2008, p. 220 ↩︎
- D.D. Basu, Introduction to the Constitution of India, LexisNexis, 2015, p. 412 ↩︎
- Ramachandra Guha, India After Gandhi, HarperCollins, 2007, p. 524 ↩︎
- Sekhar Bandyopadhyay, From Plassey to Partition and After, Orient BlackSwan, 2015, p. 498 ↩︎

Pingback: All History Posts - Subhas Biswas – Lekhapora