[Focus Keyword: হলোকাস্ট SEO Title: হলোকাস্ট: হিটলারের ইহুদি নিধনযজ্ঞ ও ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার অজানা ইতিহাস Meta Description: হলোকাস্ট কী? কেন হিটলার ৬০ লক্ষ ইহুদি হত্যা করেছিল? গ্যাস চেম্বার থেকে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত সম্পূর্ণ ইতিহাস পড়ুন বাংলায়। Slug: holocaust-history-in-bengali]
১. ভূমিকা:
মানব সভ্যতার ইতিহাসে হলোকাস্ট (Holocaust) হলো নিষ্ঠুরতম গণহত্যার এক কালো অধ্যায়।1 দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অ্যাডলফ হিটলারের নেতৃত্বে নাৎসি বাহিনী পরিকল্পিতভাবে প্রায় ৬০ লক্ষ ইহুদিকে হত্যা করে।2 আজও বিশ্ববিবেকে এই ঘটনা এক অমোচনীয় ক্ষত। এই নিবন্ধে আমরা আলোচনা করব — হলোকাস্টের প্রেক্ষাপট, হিটলারের ইহুদি বিদ্বেষের কারণ এবং এই ভয়াবহ ঘটনা কীভাবে আধুনিক ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ খুলে দিয়েছিল।

২. হলোকাস্ট কী?
‘হলোকাস্ট’ শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ ‘Holokaustos’ থেকে, যার অর্থ ‘আগুনে সম্পূর্ণ উৎসর্গিত’।3 হিব্রু ভাষায় একে বলা হয় ‘শোয়াহ’ (Shoah)।
১৯৪১ থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে ইউরোপ জুড়ে ইহুদিদের ওপর নাৎসিরা যে বর্বর নিধনযজ্ঞ চালায়, তাকেই ইতিহাসে হলোকাস্ট বলা হয়।4 নাৎসিরা নিজেরা এটিকে বলত — ‘The Final Solution’ বা ‘ইহুদি সমস্যার চূড়ান্ত সমাধান’।5
আরও পড়ুন: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণ ও ফলাফল সম্পর্কে বিস্তারিত নোট
৩. ইহুদি বিদ্বেষের ঐতিহাসিক পটভূমি
ইহুদিদের প্রতি এই চরম ঘৃণা বা ‘এন্টি-সেমিটিজম’ একদিনে তৈরি হয়নি।6 এর পেছনে ছিল কয়েকশ বছরের সামাজিক ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপট:
- ধর্মীয় কারণ: প্রাচীনকাল থেকেই খ্রিস্টানদের একটি বড় অংশ বিশ্বাস করত যে, যিশু খ্রিস্টের ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার পেছনে ইহুদিদের ষড়যন্ত্র ছিল।
- পোগ্রোম (Pogrom): হিটলারের আগে রুশ সাম্রাজ্যেও ইহুদিদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালানো হতো, যাকে ‘পোগ্রোম’ বলা হয়। ১৮৮১ থেকে ১৯২০ সালের মধ্যে প্রায় ১ লক্ষ ইহুদি সেখানে প্রাণ হারান।7
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব: প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয় এবং পরবর্তী ‘ভার্সাই চুক্তির’ অবমাননাকর শর্তের জন্য হিটলার ও তাঁর সমর্থকরা সরাসরি ইহুদিদের দায়ী করেন।8 তাঁদের মতে, ইহুদিরা পেছন থেকে জার্মানির ওপর আঘাত করেছিল।
৪. হিটলারের ব্যক্তিগত ঘৃণা ও নাৎসি প্রোপাগান্ডা
তরুণ বয়সে আর্ট স্কুলে ভর্তি হতে ব্যর্থ হয়ে হিটলার বিশ্বাস করতেন — ইহুদি আধিপত্যই তাঁর ব্যর্থতার কারণ। পাশাপাশি তাঁর উগ্র জাতীয়তাবাদ এবং ‘আর্য শ্রেষ্ঠত্বে’র উন্মাদনা তাঁকে ইহুদি বিদ্বেষের দিকে ঠেলে দেয়। ক্ষমতায় আসার পর নাৎসি প্রোপাগান্ডা মেশিন সাধারণ জার্মানদের মনেও এই ঘৃণা ছড়িয়ে দিতে সফল হয়।

৫. হলোকাস্টের বিভীষিকা ও গ্যাস চেম্বার
হলোকাস্ট কেবল এলোপাথাড়ি হত্যা ছিল না, এটি ছিল একটি যান্ত্রিক ও পরিকল্পিত নিধনযজ্ঞ:
- নুরেমবার্গ আইন (১৯৩৫): এই আইনের মাধ্যমে ইহুদিদের নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয় এবং তাঁদের অস্পৃশ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।9
- ক্রিস্টালনাখট (Kristallnacht): ১৯৩৮ সালের ৯ নভেম্বর রাতে জার্মানি জুড়ে ইহুদিদের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সিনাগগ পুড়িয়ে দেওয়া হয়।10 একে ‘Night of Broken Glass’ বলা হয়।
- গ্যাটো (Ghetto) ও কনসেনট্রেশন ক্যাম্প: ইহুদিদের শহর থেকে আলাদা করে ঘিঞ্জি এলাকায় (Ghetto) থাকতে বাধ্য করা হয়।11 পরবর্তীকালে অউশভিৎজ (Auschwitz)-এর মতো ভয়াবহ কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে পাঠানো হয়।
- গ্যাস চেম্বার: জাইক্লন-বি (Zyklon B) নামক বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহার করে হাজার হাজার মানুষকে একসাথে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার জন্য নাৎসিরা আধুনিক কসাইখানা তৈরি করেছিল।12

আরও পড়ুন: অ্যাডলফ হিটলারের উত্থান ও পতনের অজানা কাহিনী
৬. ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও বর্তমান সংকট
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর বেঁচে থাকা ইহুদিদের জন্য ইউরোপে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে সারা বিশ্ব থেকে ইহুদিরা তাঁদের আদি জন্মভূমি বলে পরিচিত ফিলিস্তিনের দিকে পাড়ি দিতে শুরু করেন।
- ১৯৪৭-এর প্রস্তাব: জাতিসংঘ ফিলিস্তিন ভূখণ্ডকে দুই ভাগে ভাগ করার প্রস্তাব দেয়—একটি ইহুদিদের জন্য (ইসরায়েল) এবং অন্যটি আরবদের জন্য (ফিলিস্তিন)।
- ইসরায়েলের অভ্যুদয় (১৯৪৮): ১৯৪৮ সালের ১৪ মে ইসরায়েল রাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।13 কিন্তু এই রাষ্ট্র গঠনের জন্য স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের তাঁদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করা হয়, যাকে বলা হয় ‘নাকবা’ (Nakba) বা মহা-বিপর্যয়।14
হলোকাস্টের সেই ট্র্যাজেডি থেকেই একদিকে ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে, আর অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি হয়েছে এক দীর্ঘস্থায়ী ভূ-রাজনৈতিক সংকট যা আজও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের রূপ নিচ্ছে।
৭. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| হলোকাস্ট সময়কাল | ১৯৪১–১৯৪৫ |
| নিহত ইহুদির সংখ্যা | প্রায় ৬০ লক্ষ |
| পোগ্রোম | রাশিয়ায় ইহুদি নিধনযজ্ঞ |
| ক্রিস্টালনাখট | ৯ নভেম্বর ১৯৩৮ |
| নুরেমবার্গ আইন | ১৯৩৫ সাল |
| ফাইনাল সলিউশন | ইহুদি নিধনের চূড়ান্ত পরিকল্পনা |
| ইসরায়েল প্রতিষ্ঠা | ১৪ মে ১৯৪৮ |
| নাকবা | ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ |
৮. উপসংহার
হলোকাস্ট কেবল ইতিহাসের একটি অধ্যায় নয়, এটি মানুষের নিষ্ঠুরতার চরম নিদর্শন।15 লক্ষ লক্ষ নিরপরাধ মানুষের জীবনাবসান আমাদের শিখিয়ে দেয় বর্ণবাদ ও উগ্রবাদের ফলাফল কতটা ভয়াবহ হতে পারে। এই ইতিহাসের পথ ধরেই আজকের ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের শিকড় গ্রথিত। ইতিহাস পাঠের উদ্দেশ্য কেবল অতীতকে জানা নয়, বরং সেই ভুল থেকে বর্তমানকে সংশোধন করা।
এই পোস্টটি আপনার উপকারে আসলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। ইতিহাস সম্পর্কিত আরও গুরুত্বপূর্ণ নোটস পেতে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হন।
আপনি কি মনে করেন হিটলারের ইহুদি বিদ্বেষ কেবল ব্যক্তিগত ছিল নাকি এর পেছনে বৃহত্তর কোনো রাজনৈতিক নীল নকশা ছিল? কমেন্টে আপনার মতামত জানান।
নিজেকে যাচাই করতে নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দিন
১. ‘হলোকাস্ট’ (Holocaust) শব্দটি মূলত কোন ঘটনার সাথে যুক্ত?
ক) প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
খ) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইহুদি গণহত্যা
গ) ফরাসি বিপ্লব
ঘ) রুশ বিপ্লব
উত্তর: খ) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইহুদি গণহত্যা
২. হলোকাস্টের সময় প্রায় কত লক্ষ ইহুদি নিধন করা হয়েছিল?
ক) ২০ লক্ষ
খ) ৪০ লক্ষ
গ) ৬০ লক্ষ
ঘ) ৮০ লক্ষ
উত্তর: গ) ৬০ লক্ষ
৩. নাৎসি বাহিনীর নেতা কে ছিলেন, যাঁর নির্দেশে ইহুদি নিধন যজ্ঞ চলেছিল?
ক) উইনস্টন চার্চিল
খ) অ্যাডলফ হিটলার
গ) মুসোলিনি
ঘ) জোসেফ স্ট্যালিন
উত্তর: খ) অ্যাডলফ হিটলার
৪. ইহুদিদের জন্য একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলনকে কী বলা হয়?
ক) সমাজতন্ত্র
খ) জায়নবাদ (Zionism)
গ) পুঁজিবাদ
ঘ) ফ্যাসিবাদ
উত্তর: খ) জায়নবাদ (Zionism)
৫. ১৯১৭ সালে ব্রিটিশ সরকার ইহুদিদের জন্য বাসভূমি গঠনে সমর্থন জানিয়ে কোন ঘোষণা করেছিল?
ক) নেহরু রিপোর্ট
খ) বেলফোর ঘোষণা (Balfour Declaration)
গ) শিমলা চুক্তি
ঘ) আগস্ট অফার
উত্তর: খ) বেলফোর ঘোষণা
৬. জাতিসংঘ (UN) কত সালে ফিলিস্তিন বিভাজনের প্রস্তাব (Partition Plan) গ্রহণ করে?
ক) ১৯৪৫ সালে
খ) ১৯৪৬ সালে
গ) ১৯৪৭ সালে
ঘ) ১৯৪৮ সালে
উত্তর: গ) ১৯৪৭ সালে
৭. আধুনিক ইসরায়েল রাষ্ট্র কত তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণা করে?
ক) ১৪ মে ১৯৪৮
খ) ১৫ আগস্ট ১৯৪৭
গ) ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০
ঘ) ১০ জুন ১৯৬৭
উত্তর: ক) ১৪ মে ১৯৪৮
৮. নাৎসিরা ইহুদিদের বন্দি করে রাখার জন্য যে ভয়াবহ জায়গাগুলো তৈরি করেছিল, সেগুলোকে কী বলা হয়?
ক) জেলখানা
খ) কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প
গ) বাঙ্কার
ঘ) কলোনি
উত্তর: খ) কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প
৯. ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠনের ঠিক পরেই কোন যুদ্ধ শুরু হয়?
ক) প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
খ) শীতল যুদ্ধ
গ) প্রথম আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ
ঘ) ভিয়েতনাম যুদ্ধ
উত্তর: গ) প্রথম আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ
১০. ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠনের পেছনে প্রধান নৈতিক যুক্তি কোনটি ছিল?
ক) অর্থনৈতিক উন্নয়ন
খ) হলোকাস্টের বিভীষিকা থেকে ইহুদিদের নিরাপত্তা দেওয়া
গ) শিল্পায়ন বৃদ্ধি করা
ঘ) সাম্রাজ্য বিস্তার
উত্তর: খ) হলোকাস্টের বিভীষিকা থেকে ইহুদিদের নিরাপত্তা দেওয়া
প্রয়োজনীয় কিছু FAQ
১. হলোকাস্ট (Holocaust) বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় (১৯৪১-১৯৪৫) জার্মানির নাৎসি শাসক অ্যাডলফ হিটলারের নেতৃত্বে ইউরোপজুড়ে পরিকল্পিতভাবে প্রায় ৬০ লক্ষ ইহুদিকে হত্যা করা হয়। ইতিহাসের এই বর্বরোচিত গণহত্যাকেই ‘হলোকাস্ট’ বলা হয়।
২. ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠনের সাথে হলোকাস্টের সম্পর্ক কী?
উত্তর: হলোকাস্টের সময় ইহুদিরা যে অবর্ণনীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছিল, তা বিশ্ববিবেকের কাছে ইহুদিদের জন্য একটি নিরাপদ বাসভূমির প্রয়োজনীয়তাকে স্পষ্ট করে তোলে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে ইহুদিদের জন্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবি জোরালো হয় এবং শেষ পর্যন্ত ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল গঠিত হয়।
৩. বেলফোর ঘোষণা কী?
উত্তর: ১৯১৭ সালে ব্রিটিশ বিদেশ সচিব আর্থার বেলফোর ইহুদি নেতাদের একটি চিঠির মাধ্যমে জানান যে, ব্রিটিশ সরকার ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইহুদিদের জন্য একটি ‘জাতীয় আবাসভূমি’ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে। একেই বেলফোর ঘোষণা বলা হয়।
৪. ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ কেন হয়েছিল?
উত্তর: ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘ ফিলিস্তিনকে বিভক্ত করে ইহুদি ও আরবদের জন্য আলাদা দুটি রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব দেয়। ইহুদিরা এই প্রস্তাব মেনে নিলেও আরবরা এটি প্রত্যাখ্যান করে। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল স্বাধীনতা ঘোষণা করলে প্রতিবেশী আরব দেশগুলো ইসরায়েল আক্রমণ করে, যার ফলে প্রথম আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হয়।
৫. জায়নবাদ বা জায়নিজ্ম (Zionism) বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: এটি একটি রাজনৈতিক ও জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, যার মূল লক্ষ্য ছিল ইহুদিদের প্রাচীন বাসভূমি ফিলিস্তিনে (যাকে তারা ‘জিয়ন’ বলে ডাকত) একটি আধুনিক ও স্বাধীন ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। থিওডোর হার্জলকে এই আন্দোলনের প্রধান প্রবক্তা মনে করা হয়।
সূত্রনির্দেশ:
- Peter Longerich, Holocaust: The Nazi Persecution and Murder of the Jews, Oxford University Press, 2010, p. 3. ↩︎
- Raul Hilberg, The Destruction of the European Jews, Yale University Press, 2003, p. 1219. ↩︎
- Donald L. Niewyk & Francis R. Nicosia, The Columbia Guide to the Holocaust, Columbia University Press, 2000, p. 1. ↩︎
- Martin Gilbert, The Holocaust: A History of the Jews of Europe During the Second World War, Holt, Rinehart and Winston, 1985, p. 17. ↩︎
- Christopher R. Browning, The Origins of the Final Solution, University of Nebraska Press, 2004, p. 410. ↩︎
- Deborah E. Lipstadt, Antisemitism: Here and Now, Schocken Books, 2019, p. 25. ↩︎
- John D. Klier & Shlomo Lambroza, Pogroms: Anti-Jewish Violence in Modern Russian History, Cambridge University Press, 1992, p. 202. ↩︎
- Ian Kershaw, Hitler: 1889–1936 Hubris, Penguin Books, 1998, p. 232. ↩︎
- Richard J. Evans, The Third Reich in Power, Penguin Books, 2005, p. 544. ↩︎
- Saul Friedländer, Nazi Germany and the Jews, Volume I, HarperCollins, 1997, p. 272. ↩︎
- Yehuda Bauer, A History of the Holocaust, Franklin Watts, 2001, p. 152. ↩︎
- Robert Jan van Pelt, The Case for Auschwitz, Indiana University Press, 2002, p. 88. ↩︎
- Benny Morris, 1948: A History of the First Arab-Israeli War, Yale University Press, 2008, p. 65. ↩︎
- Ilan Pappé, The Ethnic Cleansing of Palestine, Oneworld Publications, 2006, p. xiii. ↩︎
- Timothy Snyder, Bloodlands: Europe Between Hitler and Stalin, Basic Books, 2010, p. 409. ↩︎

Pingback: All History Posts - Subhas Biswas – Lekhapora