14 August 1947 night history in Bengali ভারতের ইতিহাসের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই রাতেই স্বাধীনতার সূচনা হয় এবং মধ্যরাতে নেহরুর ঐতিহাসিক Tryst with Destiny ভাষণের মাধ্যমে ভারত নতুন যুগে প্রবেশ করে।1
📌 স্বাধীনতা ও আইনগত ভিত্তি
- ১৪ই আগস্ট ১৯৪৭ পাকিস্তানের স্বাধীনতার দিন হিসেবে ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
- ১৫ই আগস্ট ১৯৪৭ মধ্যরাতে ভারত স্বাধীনতা অর্জন করে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটায়।
- ৩ জুন ১৯৪৭-এর মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনার মাধ্যমেই ভারত বিভাজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- ভারতীয় স্বাধীনতা আইন ১৯৪৭ ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাস হয়ে স্বাধীনতার আইনি ভিত্তি তৈরি করে।
- স্বাধীনতার সময় ভারত ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাস পায়।
14 August 1947 night history in Bengali: মধ্যরাতের ঘটনাবলি
ভূমিকা:
১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট ভারতের ইতিহাসে এক স্বর্ণাক্ষরে লেখা দিন। কিন্তু এই মাহেন্দ্রক্ষণের ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ ১৪ই আগস্টের ইতিহাস ছিল অত্যন্ত জটিল এবং আবেগপ্রবণ। একদিকে ছিল ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসানের উত্তেজনা, আর অন্যদিকে ছিল দেশভাগের এক রক্তাক্ত ক্ষত। আজ আমরা ফিরে দেখব সেই ঐতিহাসিক দিনটি এবং জানব কেন স্বাধীনতার উৎসবে মহাত্মা গান্ধী উপস্থিত ছিলেন না।

১. মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা (Mountbatten Plan)
- ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাজন ও স্বাধীনতার ক্ষেত্রে মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা (৩ জুন পরিকল্পনা) ছিল একটি ঐতিহাসিক মোড় পরিবর্তনকারী সিদ্ধান্ত।2 Lord Mountbatten ভারতে এসে দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের লক্ষ্যে এই পরিকল্পনা প্রস্তাব করেন। সে সময় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, মুসলিম লীগের পৃথক রাষ্ট্রের দাবি এবং ব্রিটিশদের প্রশাসনিক সংকট পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে।
- এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভারতকে দুটি রাষ্ট্র—ভারত ও পাকিস্তানে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।3 বাংলা ও পাঞ্জাব প্রদেশকে ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে ভাগ করার কথা বলা হয়4 এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কংগ্রেস অনিচ্ছাসত্ত্বেও এই পরিকল্পনা মেনে নেয়, কারণ গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা ক্রমশ বাড়ছিল।
- তবে পরিকল্পনার তাড়াহুড়ো বাস্তবায়নই ছিল সবচেয়ে বড় সমস্যা। সীমান্ত নির্ধারণ, প্রশাসনিক বিভাজন ও উদ্বাস্তু সমস্যা যথাযথভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি, যার ফলে ব্যাপক মানবিক বিপর্যয় ঘটে। তাই মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা একদিকে স্বাধীনতার পথ প্রশস্ত করলেও, অন্যদিকে দেশভাগের রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের সূচনা করে।

২. ভারতীয় স্বাধীনতা আইন, ১৯৪৭ (Indian Independence Act, 1947)
- ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতার আইনগত ভিত্তি গড়ে ওঠে Indian Independence Act 1947-এর মাধ্যমে। 5এই আইনটি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ১৯৪৭ সালের জুলাই মাসে পাস হয়6 এবং এর মাধ্যমে প্রায় ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটে।
- এই আইনের মূল বৈশিষ্ট্য ছিল—ভারতকে দুটি স্বাধীন ডোমিনিয়নে বিভক্ত করা, যথা ভারত ও পাকিস্তান। উভয় রাষ্ট্রকে নিজস্ব সংবিধান প্রণয়নের অধিকার দেওয়া হয় এবং ব্রিটিশ সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে তুলে নেওয়া হয়। পাশাপাশি, গভর্নর জেনারেল পদ সৃষ্টি করে ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি সাংবিধানিক কাঠামো নির্ধারণ করা হয়।
- এই আইনের মাধ্যমে স্বাধীনতা প্রাপ্তি নিশ্চিত হলেও, দেশভাগের প্রক্রিয়াকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ায় এটি এক দ্বৈত চরিত্র বহন করে। একদিকে এটি স্বাধীনতার ভিত্তি স্থাপন করে, অন্যদিকে ভারতীয় উপমহাদেশকে বিভক্ত করার পথকে চূড়ান্ত রূপ দেয়। ফলে Indian Independence Act, 1947 স্বাধীনতা ও বিভাজন—উভয় ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করে।
৩. দেশভাগের পটভূমি এবং র্যাডক্লিফ লাইনের অভিশাপ
- ১৯৪৭ সালের শুরু থেকেই অখণ্ড ভারতের মানচিত্র বদলে যাওয়ার সুর বেজে উঠেছিল। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট অ্যাটলি চেয়েছিলেন শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর7, কিন্তু সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। তৎকালীন মুসলিম লীগ নেতা মোহাম্মদ আলি জিন্নাহর পৃথক পাকিস্তান রাষ্ট্রের দাবি এবং ব্রিটিশদের ‘বিভাজন ও শাসন’ নীতির ফলে দেশভাগ অনিবার্য হয়ে পড়ে।
- লন্ডন থেকে তলব করা হলো ব্যারিস্টার স্যার সিরিল র্যাডক্লিফকে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, যে মানুষটি ভারতের সীমানা নির্ধারণ করলেন, তিনি তার আগে কোনোদিন এই দেশে পা রাখেননি।8 এখানকার ভৌগোলিক অবস্থান বা মানুষের ধর্মীয় আবেগ সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণা ছিল না। স্রেফ কলমের এক খোঁচায় তিনি কয়েক কোটি মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিলেন, যা ইতিহাসে ‘র্যাডক্লিফ লাইন’ নামে পরিচিত।
🧭 দেশভাগ ও সীমান্ত নির্ধারণ
- দেশভাগের ফলে ভারত ও পাকিস্তান—এই দুই স্বাধীন রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।
- বাংলা ও পাঞ্জাব প্রদেশ ধর্মীয় ভিত্তিতে বিভক্ত হয়েছিল দেশভাগের সময়।
- স্যার সিরিল র্যাডক্লিফ ভারত-পাকিস্তানের সীমানা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
- র্যাডক্লিফ লাইন ভারত ও পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক সীমানা হিসেবে পরিচিত।
- ১৪-১৫ আগস্ট ১৯৪৭ দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক মানচিত্র সম্পূর্ণভাবে বদলে দেয়।

- নামকরণ: এই সীমানা রেখাটির নাম ব্রিটিশ আইনজীবী স্যার সিরিল র্যাডক্লিফ-এর নামানুসারে রাখা হয়েছে।
- সময়কাল: ১৭ই আগস্ট ১৯৪৭ তারিখে এই সীমানা রেখাটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
- বিভাজন: পাঞ্জাব ও বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করে ভারত ও পাকিস্তানের সীমানা নির্ধারণ করা হয়।
- বর্তমান অবস্থা: পশ্চিমাংশ ভারত-পাকিস্তান এবং পূর্বাংশ বর্তমানে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত হিসেবে পরিচিত।
- উদ্দেশ্য: ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সীমানা নির্ধারণ করা ছিল এর মূল লক্ষ্য।
৪. কেন স্বাধীনতার উৎসবে দিল্লিতে ছিলেন না মহাত্মা গান্ধী?
- স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রহরে যখন দিল্লির রাজপথ উৎসবে মেতেছিল, তখন জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী ছিলেন দিল্লি থেকে হাজার মাইল দূরে, কলকাতায়। বাংলা তখন সাম্প্রদায়িক হিংসায় দাউদাউ করে জ্বলছে। সর্দার প্যাটেল এবং জওহরলাল নেহরু তাঁকে দিল্লি আসার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লিখলেও গান্ধীজি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
- তিনি তৎকালীন কলকাতা ও নোয়াখালীর দাঙ্গা কবলিত মানুষের পাশে থাকা এবং সম্প্রীতি বজায় রাখাকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছিলেন।9 ১৫ই আগস্ট তিনি উপবাস থেকে প্রার্থনা করেছিলেন এবং কলকাতার বেলেঘাটায় দাঙ্গা থামানোর জন্য আমরণ অনশনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। ইতিহাসে এটি ‘কলকাতার মিরাকল’ হিসেবে পরিচিত।10

৫. নেহরুর দ্বিধা এবং লাহোরের ট্র্যাজেডি
১৪ই আগস্ট বিকেলে পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর কাছে লাহোর থেকে একটি ফোন আসে। সেই ফোনে লাহোরে হিন্দু ও শিখদের ওপর চলমান অকথ্য নির্যাতন এবং জলের লাইন কেটে দেওয়ার খবর শুনে নেহরু মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। এমনকি এক পর্যায়ে তিনি ভেবেছিলেন ১৫ই আগস্টের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ দিতে যাবেন না। কিন্তু জাতীয় নেতৃত্বের চাপে এবং বিশাল জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশার কথা ভেবে তিনি শেষ পর্যন্ত নিজেকে সামলে নেন।

🎤 নেহরু, সংবিধান সভা ও স্বাধীনতার রাত
- ১৪ আগস্ট রাত ভারতের স্বাধীনতার প্রাক্কালে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত ছিল।
- স্বাধীনতার আগের রাতেই সংবিধান সভার বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
- জওহরলাল নেহরু ১৪-১৫ আগস্ট মধ্যরাতে “Tryst with Destiny” ভাষণ দেন।
- “Tryst with Destiny” ভাষণটি ভারতের স্বাধীনতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত।
- স্বাধীনতার রাত ভারতীয় ইতিহাসের এক মোড় পরিবর্তনকারী অধ্যায়।
৬. ট্রিস্ট উইথ ডেসটিনি: মধ্যরাতের সেই কালজয়ী ভাষণ
১৪ই আগস্ট রাত ১১টা বেজে ৫৫ মিনিট। দিল্লির সংবিধান সভাঘরে (Constituent Assembly) পিনপতন নিস্তব্ধতা। ঝমঝম করে বৃষ্টি পড়ছে বাইরে। ঠিক সেই মুহূর্তে নেহরু তাঁর অমর ভাষণ শুরু করেন11— “At the stroke of the midnight hour, when the world sleeps, India will awake to life and freedom.”12 এই ভাষণটি কেবল ভারতের জন্য নয়, বরং গোটা বিশ্বের উপনিবেশবাদবিরোধী সংগ্রামের এক অনন্য দলিল হয়ে আছে। ২০০ বছরের দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে ভারত এক নতুন ভোরের দিকে যাত্রা শুরু করে।
📌 স্বাধীনতার রাতের ঘটনা
১৪ আগস্ট ১৯৪৭ রাত ভারতের ইতিহাসে এক মোড় পরিবর্তনকারী মুহূর্ত। এই রাতেই ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘনিয়ে আসে এবং ১৫ আগস্ট মধ্যরাতে ভারত স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- সংবিধান সভার অধিবেশন: ১৪ আগস্ট রাতে দিল্লির Constituent Assembly Hall-এ বিশেষ অধিবেশন বসে।
- নেহরুর ভাষণ: জওহরলাল নেহরু মধ্যরাতে ঐতিহাসিক “Tryst with Destiny” ভাষণ দেন।
- স্বাধীনতার সূচনা: রাত ১২টার পর ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হয়।
- জাতীয় আবেগ: স্বাধীনতার আনন্দের সঙ্গে দেশভাগের বেদনা একই সময়ে ভারতবাসী অনুভব করেছিল।
- গান্ধীর অনুপস্থিতি: মহাত্মা গান্ধী দিল্লির উৎসবে না থেকে কলকাতায় সাম্প্রদায়িক শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যস্ত ছিলেন।
৭. সংবিধান সভার ঐতিহাসিক অধিবেশন
- ১৪ই আগস্ট রাতে দিল্লির Constituent Assembly Hall-এ সংবিধান সভার বিশেষ অধিবেশন বসে।13 এই অধিবেশনেই আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটিশ শাসনের অবসান এবং স্বাধীন ভারতের সূচনা ঘোষণা করা হয়। সভায় উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে এক গভীর আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।
- এই ঐতিহাসিক অধিবেশন শুরু হয় “বন্দে মাতরম্” গান দিয়ে এবং শেষ হয় “জন গণ মন” গানের মাধ্যমে। এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, বরং জাতীয় চেতনা ও স্বাধীনতার আবেগের এক প্রতীকী প্রকাশ।
- ১৪ই আগস্ট রাত থেকেই ব্রিটিশ শাসনের ক্ষমতা ধীরে ধীরে ভারতীয় নেতাদের হাতে হস্তান্তর করা শুরু হয়। Lord Mountbatten এই প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দেন এবং তিনি স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- ঠিক রাত ১২টা (১৫ই আগস্টের সূচনা) মুহূর্তটিকে স্বাধীনতার সময় হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। এই সময়কে বেছে নেওয়ার পেছনে ঐতিহাসিক ও প্রতীকী গুরুত্ব ছিল—পুরনো শাসনের অবসান ও নতুন যুগের সূচনা একসাথে বোঝাতে।
⚔️ দাঙ্গা, সাম্প্রদায়িকতা ও গান্ধী
- কলকাতা ও নোয়াখালীর দাঙ্গা দেশভাগের আগের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে।
- দেশভাগের মূল কারণ ছিল সাম্প্রদায়িক রাজনীতির উত্থান।
- মুসলিম লীগের পৃথক রাষ্ট্রের দাবিই পাকিস্তান সৃষ্টির পথ প্রশস্ত করে।
- ১৯৪৬ সালের Direct Action Day দেশভাগের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
- মহাত্মা গান্ধী দেশভাগের সময় কলকাতায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য অবস্থান করেন।
- গান্ধীর উদ্যোগে কলকাতার দাঙ্গা থামায় একে “কলকাতার মিরাকল” বলা হয়।
৮. দেশভাগের পরিসংখ্যান ও নির্মম বাস্তবতা (Statistics of Partition)
- ১৯৪৭ সালের দেশভাগ ছিল মানব ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম গণ-অভিবাসন ও মানবিক বিপর্যয়।14 ভারত ও পাকিস্তানের সীমানা নির্ধারণের পর প্রায় ১ থেকে ১.৫ কোটি মানুষ নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে নতুন দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।15 এই বিশাল জনসংখ্যা স্থানান্তরের সময় ব্যাপক সহিংসতা, লুটপাট ওসাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ঘটে।
- বিশেষত পাঞ্জাব ও বাংলা অঞ্চলে পরিস্থিতি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। ইতিহাসবিদদের মতে, এই সময়ে প্রায় ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ নিহত হন16, যদিও সঠিক সংখ্যা আজও বিতর্কিত। ট্রেন, গ্রাম ও শহরে গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ এবং নির্যাতনের অসংখ্য ঘটনা ঘটে, যা দেশভাগকে এক রক্তাক্ত অধ্যায়ে পরিণত করে।
- এই পরিস্থিতির ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পড়েন এবং শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশনের মতো স্থানগুলি ছিন্নমূল মানুষের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়।17 তাই দেশভাগ শুধু একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল না, বরং এটি ছিল এক গভীর মানবিক সংকট, যার প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় সমাজ ও অর্থনীতিতে প্রতিফলিত হয়েছে।
🏛️ রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও জাতীয়তাবাদ
- স্বাধীনতার সময় ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন জওহরলাল নেহরু।
- পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
- NWFP-তে গণভোটের মাধ্যমে পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- দেশভাগের ফলে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের নতুন রূপ গড়ে ওঠে।
৯. বাংলার চিত্র: দাঙ্গা থেকে ভ্রাতৃত্বের মিলন
কলকাতায় ১৪ই আগস্টের সকাল ছিল আতঙ্কের, কিন্তু বিকেল হতেই পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। গান্ধীজির উপস্থিতিতে হিন্দু ও মুসলিম যুবকরা একসাথে জাতীয় পতাকা হাতে রাস্তায় নেমে আসেন। স্লোগান ওঠে— “হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই”।
- শহর কলকাতার বড় বড় বাড়িগুলোতে ব্রিটিশ পতাকা নামিয়ে তেরঙা জাতীয় পতাকা ওড়ানো হয়।
- মিষ্টির দোকানে রাতভর কাজ চলে।
- মন্দির, মসজিদ এবং গুরুদ্বার থেকে সাধারণ মানুষের জন্য অন্ন ও শরবত বিতরণ করা হয়।
- শহরের অলিতে গলিতে সানাই আর ড্রামের আওয়াজে স্বাধীনতার আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে।
১৯৪৭ সালের দেশভাগ মানব ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম গণ-অভিবাসনের ঘটনা। এই সময় প্রায় ১ থেকে ১.৫ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয় এবং সহিংসতায় লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু ঘটে। বিশেষত পাঞ্জাব অঞ্চল সবচেয়ে বেশি সহিংসতার শিকার হয়।
১০. দেশভাগের নির্মম বাস্তবতা ও উদ্বাস্তু সমস্যা
স্বাধীনতার আনন্দের সমান্তরালে এক বিশাল মানবিক বিপর্যয় ঘনিয়ে আসছিল। কয়েক লক্ষ মানুষ তাঁদের ভিটেমাটি হারিয়ে রিক্ত হস্তে সীমানা পার হচ্ছিলেন। এক বিশাল জনসমষ্টি রাতারাতি ‘উদ্বাস্তু’ বা রিফিউজি হয়ে পড়ল। শিয়ালদহ স্টেশন এবং হাওড়া স্টেশন হয়ে উঠল ছিন্নমূল মানুষের কান্নার সাক্ষী। পাঞ্জাব এবং বাংলার সীমান্ত অঞ্চলগুলোতে যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছিল, তা আজও ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়।
🌍 উদ্বাস্তু সমস্যা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব
- দেশভাগ মানব ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম গণ-অভিবাসনের ঘটনা।
- দেশভাগের ফলে প্রায় ১ থেকে ১.৫ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল।
- দেশভাগের সহিংসতায় প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের মৃত্যু ঘটে বলে অনুমান করা হয়।
- পাঞ্জাব অঞ্চল দেশভাগের সময় সবচেয়ে বেশি সহিংসতার শিকার হয়।
- বাংলায় দেশভাগের ফলে ব্যাপক উদ্বাস্তু সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল।
- দেশভাগের ফলে শরণার্থী পুনর্বাসন ভারতের বড় প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে।
- উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের জন্য ভূমি সংস্কার নীতি গ্রহণ করা হয়।
- শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশন উদ্বাস্তুদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়।
- দেশভাগ ভারতের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে গভীর প্রভাব ফেলে।
- স্বাধীনতা ও দেশভাগ একই সঙ্গে আনন্দ ও বেদনার দ্বৈত অনুভূতি সৃষ্টি করে।
- ১৯৪৭ সালের দেশভাগ বিশ্ব ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা।
- দেশভাগের ফলে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের দিকে এগিয়ে যায়।
- দেশভাগের সময় প্রশাসনিক ত্রুটি ও তাড়াহুড়ো সহিংসতা বাড়িয়ে দেয়।
- দেশভাগের ফলে লক্ষ লক্ষ পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
উপসংহার:
১৯৪৭ সালের ১৪ ও ১৫ই আগস্ট ভারতের ইতিহাসে এক মিশ্র অনুভূতির দিন। এটি ছিল যেমন দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল, তেমনি ছিল বিচ্ছেদের এক করুণ আখ্যান। আজ ৭৮তম স্বাধীনতা দিবসের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আমাদের স্মরণ করা উচিত সেইসব বীর শহীদদের এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মতো মহানায়কদের, যাদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজকের এই মুক্ত বাতাস গ্রহণ করছি।
এই বিষয়ে আরও জানতে ক্লিক করে পড়ুন উইকিপিডিয়া থেকে
————– ১৪ই আগস্ট ১৯৪৭: স্বাধীনতার আনন্দ বনাম দেশভাগের হাহাকার সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর —————
Section A- QUIZ: মক টেস্ট দিয়ে নিজেকে যাচাই করুন
১৪ আগস্ট ১৯৪৭: স্বাধীনতার আগের রাত — মক টেস্ট
২০টি গুরুত্বপূর্ণ MCQ দিয়ে নিজের প্রস্তুতি যাচাই করুন।
🎯 আপনার ফলাফল
Section B-Basic MCQ: নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দিন
১৪ আগস্ট ১৯৪৭: স্বাধীনতার আগের রাত — MCQ উত্তর দেখুন
প্রশ্ন পড়ুন, তারপর “সঠিক উত্তর দেখতে” ক্লিক করুন।
Section C-Advanced MCQ: নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দিন
দেশভাগ ও স্বাধীনতা: Advanced MCQ Answer Reveal
WBCS / UPSC স্তরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
Section D-FAQ: স্বাধীনতার মূহুর্ত সংক্রান্ত জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
১. ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট কেন ভারতের স্বাধীনতা দিবস হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল?
উত্তর: লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৫ই আগস্ট তারিখটিকে বেছে নিয়েছিলেন কারণ এই দিনটি ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আত্মসমর্পণের দ্বিতীয় বার্ষিকী। এছাড়া জ্যোতিষশাস্ত্রীয় ও লজিস্টিক কারণে মধ্যরাতকে বেছে নেওয়া হয়।
২. জওহরলাল নেহরুর ঐতিহাসিক ভাষণটির নাম কী এবং এটি কখন দেওয়া হয়েছিল?
উত্তর: নেহরুর ঐতিহাসিক ভাষণটির নাম ‘ট্রিস্ট উইথ ডেসটিনি’ (Tryst with Destiny)। এটি ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট মধ্যরাতে দিল্লির সংবিধান সভাঘরে দেওয়া হয়েছিল।
৩. কেন মহাত্মা গান্ধী স্বাধীনতার উৎসবে দিল্লিতে উপস্থিত ছিলেন না?
উত্তর: স্বাধীনতার সময় বাংলা ও নোয়াখালীতে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা চলছিল। গান্ধীজি দাঙ্গা থামানো এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তখন কলকাতার বেলেঘাটায় অবস্থান করছিলেন।
৪. ‘কলকাতার মিরাকল’ (Miracle of Calcutta) বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ১৯৪৭ সালের আগস্টে কলকাতায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা চলাকালীন মহাত্মা গান্ধী তাঁর অহিংস উপস্থিতি ও অনশনের মাধ্যমে হিন্দু-মুসলিম ভ্রাতৃত্ব ফিরিয়ে আনেন। লর্ড মাউন্টব্যাটেন এই শান্তি ফেরানোর ঘটনাকে ‘কলকাতার মিরাকল’ বলে অভিহিত করেন।
৫. রেডক্লিফ লাইন (Radcliffe Line) কী?
উত্তর: ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তানের সীমানা নির্ধারণের জন্য যে কাল্পনিক রেখা টানা হয়েছিল, তাকে রেডক্লিফ লাইন বলা হয়। এটি ব্যারিস্টার স্যার সিরিল রেডক্লিফের নামানুসারে করা হয়েছে।
৬. ভারত ও পাকিস্তানের সীমানা নির্ধারণ করেছিলেন কে?
উত্তর: ব্রিটিশ আইনজীবী স্যার সিরিল রেডক্লিফ (Sir Cyril Radcliffe) ভারত ও পাকিস্তানের সীমানা নির্ধারণকারী কমিশনের প্রধান ছিলেন।
৭. মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা বা ৩ জুনের পরিকল্পনা কী ছিল?
উত্তর: ১৯৪৭ সালের ৩ জুন লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারত বিভাজন ও দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের যে পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, তাকেই মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা বলা হয়।
৮. কেন পাকিস্তান ১৪ই আগস্ট এবং ভারত ১৫ই আগস্ট স্বাধীনতা দিবস পালন করে?
উত্তর: লর্ড মাউন্টব্যাটেন যেন উভয় দেশের ক্ষমতা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন, তাই ১৪ই আগস্ট করাচিতে পাকিস্তানের এবং ১৫ই আগস্ট দিল্লিতে ভারতের স্বাধীনতা অনুষ্ঠান ঠিক করা হয়েছিল।
৯. ১৯৪৭ সালের ভারতীয় স্বাধীনতা আইন (Indian Independence Act) কবে পাস হয়?
উত্তর: ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ১৯৪৭ সালের ১৮ই জুলাই ‘ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স অ্যাক্ট’ রাজকীয় সম্মতি পায় এবং পাস হয়।
১০. স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
উত্তর: লর্ড মাউন্টব্যাটেন ছিলেন স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল। পরবর্তীকালে প্রথম ভারতীয় হিসেবে এই পদে বসেন চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী।
১১. দেশভাগের সময় মূলত কোন দুটি প্রদেশকে দ্বিখণ্ডিত করা হয়েছিল?
উত্তর: ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বাংলা এবং পাঞ্জাব—এই দুটি প্রদেশকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ভাগ করা হয়েছিল।
১২. স্বাধীনতার সময় ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি কে ছিলেন?
উত্তর: ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার সময় আচার্য জে. বি. কৃপালিনী (J.B. Kripalani) ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন।
১৩. পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল এবং প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
উত্তর: পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন লিয়াকত আলী খান।
১৪. স্বাধীনতার রাতে দিল্লির সংবিধান সভায় কোন গানটি প্রথম গাওয়া হয়েছিল?
উত্তর: ১৪ই আগস্ট মধ্যরাতের অধিবেশনে প্রথম গাওয়া হয়েছিল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বন্দে মাতরম্’।
১৫. দেশভাগের ফলে আনুমানিক কত মানুষ উদ্বাস্তু হয়েছিলেন?
উত্তর: ইতিহাসবিদদের মতে, দেশভাগের ফলে প্রায় ১.৫ কোটির বেশি মানুষ তাঁদের ভিটেমাটি ছেড়ে সীমান্তে পাড়ি দিয়েছিলেন, যা বিশ্বের বৃহত্তম গণ-অভিবাসন।
১৬. কেন নেহরু লাহোর থেকে আসা ফোনের পর ভেঙে পড়েছিলেন?
উত্তর: লাহোরে হিন্দু ও শিখদের ওপর ভয়াবহ আক্রমণ এবং জলের লাইন কেটে দেওয়ার খবর শুনে নেহরু বিচলিত হয়ে পড়েছিলেন। তবে জাতীয় স্বার্থে তিনি নিজেকে সামলে নিয়ে ভাষণ দিতে যান।
১৭. রেডক্লিফ অ্যাওয়ার্ড কবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয়েছিল?
উত্তর: সিরিল রেডক্লিফের ম্যাপ বা সীমানা নির্ধারণী ঘোষণাটি স্বাধীনতার দুই দিন পর, অর্থাৎ ১৯৪৭ সালের ১৭ই আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল।
১৮. ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় কে ছিলেন?
উত্তর: লর্ড মাউন্টব্যাটেন ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয়, যিনি ক্ষমতা হস্তান্তরের মূল প্রক্রিয়া পরিচালনা করেছিলেন।
১৯. ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট মহাত্মা গান্ধী কী করেছিলেন?
উত্তর: ১৫ই আগস্ট গান্ধীজি কোনো উৎসবে যোগ দেননি; তিনি কলকাতায় উপবাস থেকে প্রার্থনা করেছিলেন এবং চরকা কেটেছিলেন।
২০. ‘ট্রিস্ট উইথ ডেসটিনি’ ভাষণের মূল কথা কী ছিল?
উত্তর: এই ভাষণের মূল কথা ছিল—দীর্ঘদিনের দাসত্বের অবসান ঘটিয়ে ভারত এক নতুন জীবনের পথে যাত্রা শুরু করল এবং বিশ্বের কাছে ভারতের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল।
সূত্রনির্দেশ:
- Bipan Chandra et al., India’s Struggle for Independence, Penguin Books, 1988, p. 521. ↩︎
- Sekhar Bandyopadhyay, From Plassey to Partition: A History of Modern India, Orient Blackswan, 2015, p. 441. ↩︎
- Sumit Sarkar, Modern India 1885–1947, Macmillan, 1983, p. 422. ↩︎
- Ian Talbot & Gurharpal Singh, The Partition of India, Cambridge University Press, 2009, p. 78. ↩︎
- Granville Austin, The Indian Constitution: Cornerstone of a Nation, Oxford University Press, 1966, p. 12. ↩︎
- V.P. Menon, The Transfer of Power in India, Orient Longman, 1957, p. 385. ↩︎
- Nicholas Mansergh (ed.), The Transfer of Power 1942–47, Vol. XII, HMSO, 1983, p. 210. ↩︎
- Larry Collins & Dominique Lapierre, Freedom at Midnight, Vikas Publishing, 1975, p. 145. ↩︎
- Judith M. Brown, Gandhi: Prisoner of Hope, Yale University Press, 1989, p. 356. ↩︎
- Ramachandra Guha, India After Gandhi, HarperCollins, 2007, p. 63. ↩︎
- Sarvepalli Gopal, Jawaharlal Nehru: A Biography, Vol. II, Oxford University Press, 1979, p. 317. ↩︎
- Jawaharlal Nehru, Tryst with Destiny Speech, Constituent Assembly Debates, 14 August 1947. ↩︎
- B. Shiva Rao, The Framing of India’s Constitution, Vol. I, Indian Institute of Public Administration, 1967, p. 102. ↩︎
- Yasmin Khan, The Great Partition, Yale University Press, 2007, p. 1. ↩︎
- Ian Talbot & Gurharpal Singh, The Partition of India, Cambridge University Press, 2009, p. 2. ↩︎
- Gyanendra Pandey, Remembering Partition, Cambridge University Press, 2001, p. 45. ↩︎
- Joya Chatterji, The Spoils of Partition, Cambridge University Press, 2007, p. 189. ↩︎

Pingback: All History Posts - Subhas Biswas – Lekhapora