Bharatiya jatiyotabad (ভারতীয় জাতীয়তাবাদ) উনিশ শতকের ভারতের ইতিহাসে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই সময়ে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটে এবং ধীরে ধীরে এটি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হয়। ব্রিটিশ শাসনের শোষণ, পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার, সংবাদপত্রের বিকাশ এবং সমাজ-সংস্কার আন্দোলনের প্রভাব মিলিয়ে ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয় চেতনার বিকাশ ঘটে।
উনিশ শতকে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের এই বিকাশই পরবর্তীকালে স্বাধীনতা আন্দোলনের ভিত্তি স্থাপন করে এবং ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে। এই প্রবন্ধে Bharatiya jatiyotabad-এর কারণ, বিকাশ, বৈশিষ্ট্য এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
ভারতীয় জাতীয়তাবাদ উনিশ শতকের ভারতের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যা আধুনিক ভারতের রাজনৈতিক চেতনার সূচনা করে। Indian nationalism বা ভারতীয় জাতীয়তাবাদ উনিশ শতকের ভারতের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যা আধুনিক ভারতের রাজনৈতিক চেতনার সূচনা করে।
1. ভুমিকা: উনিশ শতকে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশের কারণ
উনিশ শতকে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ও বিকাশ আধুনিক ভারতের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ব্রিটিশ শাসনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ফল হিসেবেই এই জাতীয় চেতনার উন্মেষ ঘটে। সাধারণত 1858 থেকে 1885 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে ভারতে জাতীয়তাবাদের বিকাশ কাল বলা হয়। ঐতিহাসিকরা মনে করেন, উনিশ শতকে ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত মধ্যবিত্তশ্রেণি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ধারক ও বাহক ছিল। ইতিহাসবিদ বিপান চন্দ্র তাঁর ‘মডার্ন ইন্ডিয়া’ গ্রন্থে লিখেছেন, “ভারতীয় ও ব্রিটিশ স্বার্থের সংঘাতই ছিল ভারতীয় জাতীয়তাবাদের উন্মেষের মূল কারণ।”1

2. ব্রিটিশ দমননীতি:
উনিশ শতকে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ও বিকাশের অন্যতম কারণ ছিল ভারতীয়দের উপর দমননীতি।2 ব্রিটিশ সরকার বিভিন্ন সময়ে দমননীতি প্রয়োগের দ্বারা ভারতীয়দের স্বাধীনতা খর্ব করতে চেয়েছিল। লর্ড ওয়েলেসলি প্রবর্তিত অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি, ডালহৌসি প্রবর্তিত স্বত্ববিলোপ নীতি3, লর্ড আমহার্স্ট প্রবর্তিত জুরি আইন, লর্ড পিট প্রবর্তিত ভারত শাসন আইন, লর্ড কার্জন প্রবর্তিত মিউনিসিপ্যালিটি আইন ইত্যাদির আঘাত ভারতবাসীর মনে জাতীয়তাবাদের আগুনে ঘৃতাহুতি দেয়। ব্রিটিশ শাসনের এইসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে ভারতীয়দের মধ্যে এক ঐক্যবোধ জাগ্রত হয়। এই ঐক্যবোধ থেকেই ভারতীয় জাতীয়তাবাদের উন্মেষ হয়।
3. বর্ণগত বৈষম্য ও জাতিগত বিদ্বেষ4:
জাতিগত দিক থেকে ব্রিটিশ শাসকরা ভারতীয়দের তুলনায় নিজেদের শ্রেষ্ঠ বলে মনে করতেন। ভারতীয়রা তাদের কাছে ছিল ঘৃণ্য ও বর্বর। বেশির ভাগ সরকারি উচ্চপদ, উচ্চশ্রেণীর প্রতিক্ষালয়, রেল কামরা প্রভৃতিতে ইউরোপীয়দের জন্য আসন সংরক্ষিত থাকত। পদস্থ ভারতীয়দের লাঞ্ছিত করতে তারা কোনো দ্বিধাবোধ করতো না। ভারতীয়দের ওপর ব্রিটিশদের এই লাঞ্ছনা এবং সীমাহীন ঔদ্ধত্য শিক্ষিত ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন কোনোও ভারতীয়র পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব ছিল না। এই অপমানবোধ তাদের জাতীয়তাবাদে উজ্জীবিত করে তোলে।
4. অর্থনৈতিক শোষণ5:
ব্রিটিশ সরকারের অপশাসন, দেশীয় শিল্পের ধ্বংসসাধন6, বৈষম্যমূলক করভার ক্রমশ ভারতীয় অর্থনীতির অবস্থা শোচনীয় হয়ে ওঠে। কৃষকদের ওপর সরকারি করের বোঝা, জমিদার ও মহাজনদের শোষণ ভারতীয়দের চরম দুর্দশায় ঠেলে দেয়। ইংল্যান্ড-জাত দ্রব্য ভারতে বিনা শুল্কে আমদানি এবং ভারতীয় দ্রব্যের ওপর চাপানো হয় বিশাল করের বোঝা। এই অসম প্রতিযোতিতার ফলে ভারতীয় কুটির ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। শ্রমিকরা ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করে সংঘবদ্ধভাবে নিজেদের দাবিদাওয়া আদায় করতে চেষ্টা করলে সরকার কঠোর হাতে তা দমন করতেন। সুতরাং কৃষক, কারিগর ও শ্রমিক—এই তিন শ্রেণির মানুষ ক্রমেই অনুভব করতে থাকে যে, তাদের রাজনৈতিক অধিকার বলতে কিছু নেই এবং বিদেশি পুঁজিপতিরা তাদের শোষণ করতেই সর্বদা সচেষ্ট।
5. ভারতীয়দের বেকারত্ব জ্বালা:
ঊনবিংশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে ভারতের শিক্ষিত মধ্যবিত্তদের মধ্যে বেকারের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে যেতে থাকে। মহারানী ভিক্টোরিয়ার ঘোষণাপত্রে7(1858 খ্রি.) যোগ্য ভারতীয়দের চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, সরকার এই প্রতিশ্রুতি পালন করার পরিবর্তে তা ভাঙতেই বেশি তৎপর হয়ে ওঠেন। ক্রমশ শিক্ষিতদের পক্ষে সরকারি চাকুরি পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এই সময়ে সরকারের উচ্চ ও দায়িত্বশীল পদগুলি ইউরোপীয়দের জন্যই সংরক্ষিত রাখা হত এবং কিছু কিছু নিম্নপদে ভারতীয়দের নিয়োগ করা হত। এই সব বিভিন্ন কারণে শিক্ষিত ভারতীয়দের মনে এক তীব্র বিক্ষোভের সঞ্চার হয় এবং তারা এই ধারণায় বদ্ধমূল হয় যে, বিদেশি শাসনের অবসান ঘটাতে পারলেই ভারতের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতি সম্ভব।

6. ভারতীয় সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ:
পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রভাব এদেশের সাহিত্যের ওপর পড়লেও তা বেশিদিন স্থায়ী হতে পারেনি। প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতির গবেষণা এবং রামমোহন, দয়ানন্দ, রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দের নব্য-হিন্দুধর্ম প্রচারের ফলে ভারত ও বিশ্ববাসী ভারতের সুপ্রাচীন ও মহত্তর সভ্যতা সম্পর্কে জানতে সমর্থ হয়। এক্ষেত্রে 1884 খ্রি. উইলিয়াম জোন্স কর্তৃক এশিয়াটিক সোসাইটি-র প্রতিষ্ঠা8 এবং ম্যাক্স মুলার, মনিয়র উইলিয়মস্, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, রামকৃষ্ণ গোপাল ভাণ্ডারকর, রাজেন্দ্রলাল মিত্র প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। এর ফলে ভারতে এক সাংস্কৃতিক নবজাগরণ দেখা দেয় এবং তা ভারতীয় জাতীয়তাবাদ গঠনে সাহায্য করে। ডঃ রমেশচন্দ্র মজুমদারের মতে, “ভারতীয় সংস্কৃতির পুনঃসংস্কারের ওপর ভিত্তি করে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের উন্মেষ হয়।”9
7. জাতীয়তাবাদী বিভিন্ন সাহিত্য:
জাতীয়তাবাদের অগ্রগতিতে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রকাশিত সাহিত্যগুলির অবদান অনস্বীকার্য। কবি, সাহিত্যিক ও প্রবন্ধকারগণ তাঁদের রচনার মাধ্যমে দেশবাসীর অন্তরে জাতীয়তাবোধ জাগ্রত করেন। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, দীনবন্ধু মিত্র, নবীনচন্দ্র সেন দেশবাসীকে জাতীয়তাবোধের নতুন চেতনায় উদ্দীপ্ত করেন। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাস10 দেশবাসীকে জাতীয়তাবাদের নতুন মন্ত্রে দীক্ষিত করে। স্বামী বিবেকানন্দের রচনা দেশবাসীকে আত্মদান, আত্মত্যাগ, আত্ম-বিশ্বাস ও জাতীয়তার অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষিত করে ভারতে এক নবযুগের সৃষ্টি করে। হিন্দি, মারাঠি, তামিল, তেলুগু, গুজরাটি, ওড়িয়া, অসমীয়া এবং উর্দু সাহিত্যেও যুগান্তর আসে।

8. ভারতীয় স্বার্থের প্রতি উদাসীন মনোভাব:
পাশ্চাত্য শিক্ষা ও রাজনৈতিক দর্শনের ছোঁয়ায় ভারতীয়রা উপলব্ধি করে যে, প্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থাই সর্বশ্রেষ্ঠ শাসনব্যবস্থা। মহাবিদ্রোহের পর প্রশাসনিক পরিবর্তন করা হলেও, তা ভারতীয়দের সন্তুষ্ট করতে পারেনি। কেন্দ্রীয় আইন পরিষদে সেইসব ভারতীয়দের মনোনীত করা হয়, যারা ইংরেজদের অনুগত ছিলেন। প্রাদেশিক আইন পরিষদগুলিতেও ভারতীয়দের অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ ছিল না। এছাড়া, ভারত শাসন পরিচালনার অত্যধিক ব্যয়, ভারত সরকারের নামে গৃহীত ঋণের সুদ, ইংরেজ স্বার্থে পরিচালিত বিভিন্ন সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের ব্যয়ভার, সেনাবাহিনীর জন্য বিপুল ব্যয় এবং অপরদিকে ভারতীয় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সেচ, শিল্পোন্নয়ন প্রভৃতির প্রতি চরম অবহেলা মধ্যবিত্ত সম্প্রদায়কে ক্ষুব্ধ করে তোলে।
9. সংবাদপত্রের অবদান11:
ভারতীয় জাতীয় জাগরণের ইতিহাসে বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষা ও ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে। সিপাহি বিদ্রোহের পরবর্তীকালে ভারতীয় মালিকানাধীন সংবাদপত্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। ভারতবাসীর রাজনৈতিক শিক্ষা, দেশাত্মবোধ ও জাতীয় চেতনা বৃদ্ধিতে সংবাদপত্রগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সংবাদপত্রে সরকারি অনাচার, ব্যর্থতা, অর্থনৈতিক শোষণ, ভারতবাসীর দুর্দশা ও ভারতীয়দের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ এবং সরকারের বিভিন্ন ভ্রান্ত নীতির বিরুদ্ধে কঠোর মতামত প্রকাশিত হতে থাকে। এক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষায় ‘হিন্দু প্যাট্রিয়ট’, ‘বেঙ্গলি’, ‘অমৃতবাজার’, ‘ইন্ডিয়ান মিরর’ এবং বাংলা ভাষায় প্রকাশিত ‘সোমপ্রকাশ’, ‘বঙ্গবাসী’, ‘সঞ্জীবনী’ প্রভৃতির ভূমিকা অনস্বীকার্য।
10 উপসংহার:
পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রভাব, ব্রিটিশ শোষণের নগ্নরূপ সম্পর্কে সর্বস্তরের ভারতবাসীর চেতনা, ইউরোপ ও আমেরিকার জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের দৃষ্টান্ত ইত্যাদি ভারতের জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটায়। বিভিন্ন দুর্বলতা সত্ত্বেও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের অন্তর্নিহিত প্রকৃতি এবং ভারতীয়দের মধ্যে তার ক্ষতিকর প্রভাবের ফলে সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী জাতীয়তাবাদী চেতনা ক্রমেই বৃদ্ধি পায়। জাতীয়তাবাদের এই চেতনাই পরবর্তী দিনে জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার12 মধ্যে দিয়ে ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।
আরও বিশদে জানতে পড়ুন: ভারতীয় জাতীয়তাবাদ
আরও পড়ুন: Nationalism in India
পরিশিষ্ট
পরিশিষ্ট-১: ভারতীয় জাতীয়তাবাদ প্রসঙ্গে অন্যান্য টপিক:
- ১৯ শতকে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের উন্মেষের কারণ।
- ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রভাব।
- জাতীয়তাবাদের উন্মেষের বৈশিষ্ট্য ও সীমাবদ্ধতা।
- দশম শ্রেণির চতুর্থ অধ্যায়ের স্টাডি ম্যাটিরিয়াল
- বি.এ. ইতিহাসের আধুনিক ভারতের স্টাডি ম্যাটিরিয়াল
পরিশিষ্ট-২: উনিশ শতকে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ টাইমলাইন
আরও পড়ুন
নিচের বিষয়গুলির ওপর ক্লিক করে আলাদা পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা পড়ুন।
পরিশিষ্ট-৩: ভারতীয় জাতীয়তাবাদ প্রসঙ্গে বিভিন্ন মনীষী:
ভারতীয় জাতীয়তাবাদ প্রসঙ্গে বিভিন্ন মনীষী
১৯ শতকে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশে বহু মনীষী গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। সাহিত্য, ধর্মচেতনা, সমাজসংস্কার, রাজনৈতিক সংগঠন এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাঁরা ভারতবাসীর মনে জাতীয় চেতনা, স্বদেশপ্রেম ও আত্মমর্যাদাবোধ জাগিয়ে তোলেন। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দাদাভাই নওরোজির মতো ব্যক্তিত্বেরা আধুনিক ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ভিত্তি নির্মাণে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
পরিচয়: ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক ও জাতীয় চেতনার অন্যতম অগ্রদূত।
অবদান: তাঁর আনন্দমঠ উপন্যাস এবং ‘বন্দে মাতরম্’ গান ভারতীয় জাতীয়তাবাদের সাংস্কৃতিক ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে।
গুরুত্ব: সাহিত্যকে দেশপ্রেম ও জাতীয় জাগরণের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।
সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
পরিচয়: রাজনৈতিক নেতা, বক্তা এবং ‘রাষ্ট্রগুরু’ নামে খ্যাত জাতীয়তাবাদী ব্যক্তিত্ব।
অবদান: ভারত সভা বা Indian Association-এর মাধ্যমে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষকে রাজনৈতিক আন্দোলনে যুক্ত করেন।
গুরুত্ব: সর্বভারতীয় রাজনৈতিক ঐক্যের ধারণা গড়ে তুলে জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার ভূমি প্রস্তুত করেন।
দাদাভাই নওরোজি
পরিচয়: অর্থনৈতিক চিন্তাবিদ, জাতীয়তাবাদী নেতা এবং ‘ভারতের পিতামহ’।
অবদান: তাঁর Drain Theory ব্রিটিশ অর্থনৈতিক শোষণের প্রকৃত রূপ উন্মোচন করে।
গুরুত্ব: ভারতীয় জাতীয়তাবাদকে অর্থনৈতিক যুক্তি ও তথ্যভিত্তিক সমালোচনার শক্ত ভিত প্রদান করেন।
আরও পড়ুন
নিচের বিষয়গুলির ওপর ক্লিক করে আলাদা পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা পড়ুন।
পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
পরীক্ষায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দাদাভাই নওরোজির অবদান থেকে সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্ন প্রায়ই আসে। বিশেষভাবে বন্দে মাতরম্, ভারত সভা এবং ড্রেন তত্ত্ব—এই তিনটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ।
Section A- QUIZ: মক টেস্ট দিয়ে নিজেকে যাচাই করুন
ভারতীয় জাতীয়তাবাদ: ইন্টারঅ্যাক্টিভ মক টেস্ট
UGC NET / SET / Competitive Level Practice
Section B-Basic MCQ: নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দিন
Section B: Basic MCQ
Section C-Advanced MCQ: নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দিন
Section C: Advanced MCQ
Section D-FAQ: জাতীয়তাবাদের বিকাশের কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
১. উনিশ শতকে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের উন্মেষ বলতে কী বোঝায়?
উনিশ শতকে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের উন্মেষ বলতে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয় চেতনার বিকাশ এবং একটি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক পরিচয়ের গঠনকে বোঝায়।
২. উনিশ শতকে জাতীয়তাবাদের উন্মেষের প্রধান কারণগুলি কী ছিল?
ব্রিটিশ অর্থনৈতিক শোষণ, পাশ্চাত্য শিক্ষা, সংবাদপত্রের প্রসার, রেল ও টেলিগ্রাফের উন্নতি এবং সমাজ-সংস্কার আন্দোলন—এই সবগুলি মিলিতভাবে জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটায়।
৩. ব্রিটিশ অর্থনৈতিক শোষণ কীভাবে জাতীয়তাবাদকে উত্সাহিত করে?
ব্রিটিশদের ধন-নিষ্কাশন নীতি, দেশীয় শিল্পের পতন এবং কৃষকের দুরবস্থা ভারতীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে, যা জাতীয়তাবাদী চেতনার জন্ম দেয়।
৪. পাশ্চাত্য শিক্ষার ভূমিকা কী ছিল?
পাশ্চাত্য শিক্ষা ভারতীয়দের মধ্যে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, সাম্য ও জাতীয় অধিকারের ধারণা গড়ে তোলে, যা জাতীয়তাবাদের ভিত্তি শক্তিশালী করে।
৫. সংবাদপত্র জাতীয়তাবাদের বিকাশে কীভাবে সাহায্য করে?
সংবাদপত্র ব্রিটিশ শাসনের সমালোচনা করে এবং বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষকে একত্রিত করে জাতীয় চেতনা গড়ে তোলে।
৬. রেল ও টেলিগ্রাফের উন্নতি জাতীয়তাবাদে কী প্রভাব ফেলে?
রেল ও টেলিগ্রাফ ভারতীয়দের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করে, ফলে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ পরস্পরের সমস্যার সাথে পরিচিত হয় এবং ঐক্যবদ্ধ জাতীয় আন্দোলনের পথ সুগম হয়।
৭. সমাজ-সংস্কার আন্দোলনের ভূমিকা কী ছিল?
সমাজ-সংস্কার আন্দোলন ভারতীয়দের মধ্যে আত্মপরিচয় ও আত্মসম্মানের বোধ জাগিয়ে তোলে, যা জাতীয়তাবাদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৮. সাংস্কৃতিক জাগরণ জাতীয়তাবাদকে কীভাবে প্রভাবিত করে?
সাহিত্য, গান ও ধর্মীয় পুনর্জাগরণ ভারতীয়দের মধ্যে দেশপ্রেম ও ঐতিহ্যের প্রতি গর্ব তৈরি করে, যা জাতীয়তাবাদকে শক্তিশালী করে।
৯. ভারতীয় মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভূমিকা কী ছিল?
শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি জাতীয়তাবাদের নেতৃত্ব দেয় এবং রাজনৈতিক সংগঠন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১০. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা জাতীয়তাবাদে কী প্রভাব ফেলে?
১৮৮৫ সালে কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জাতীয়তাবাদ একটি সংগঠিত রাজনৈতিক রূপ লাভ করে এবং সর্বভারতীয় আন্দোলনের সূচনা হয়।
১১. জাতীয়তাবাদ কেন উনিশ শতকে ধীরে ধীরে বিকশিত হয়?
বিভিন্ন সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে ধীরে ধীরে জাতীয় চেতনা গড়ে ওঠে, যা সময়ের সাথে শক্তিশালী হয়।
১২. উনিশ শতকের জাতীয়তাবাদকে ‘আধুনিক’ বলা হয় কেন?
কারণ এটি গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও জাতীয় অধিকারের আধুনিক ধারণার উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।
----------- আরও পড়ুন ----------
সূত্র নির্দেশ:
- Bipan Chandra, Modern India, NCERT, p. 173 ↩︎
- Bipan Chandra et al., India’s Struggle for Independence, Penguin, p. 33–35 ↩︎
- Sekhar Bandyopadhyay, From Plassey to Partition, Orient Blackswan, p. 117 ↩︎
- Sumit Sarkar, Modern India 1885–1947, Macmillan, p. 21 ↩︎
- Dadabhai Naoroji, Poverty and Un-British Rule in India, p. 25 ↩︎
- R.C. Dutt, The Economic History of India, Vol. 2, p. 112 ↩︎
- B.L. Grover & S. Grover, A New Look at Modern Indian History, p. 210 ↩︎
- A.L. Basham, The Wonder That Was India, p. 482 ↩︎
- R.C. Majumdar, History of the Freedom Movement in India, Vol. 1, p. 95 ↩︎
- Bankim Chandra Chattopadhyay, Anandamath, Introduction section ↩︎
- Bipan Chandra, India’s Struggle for Independence, p. 40 ↩︎
- Bipan Chandra, Modern India, p. 188 ↩︎



Pingback: All History Posts in Bengali | Indian History Articles, Notes, MCQ