ট্রাম ভাড়া আন্দোলন ১৯৫৩ কলকাতার এক গুরুত্বপূর্ণ গণআন্দোলন, যা সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত। ট্রাম ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে এই আন্দোলন দ্রুত জনসমর্থন লাভ করে এবং ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ একত্রিত হয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে। ফলে কলকাতার জনজীবনে এর গভীর প্রভাব পড়ে এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতের গণআন্দোলনের ইতিহাসে এটি একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হয়ে ওঠে।
কলকাতায় ১৯৫৩ সালের ট্রাম ভাড়া আন্দোলন (1953 Tram Fare Movement): এক পয়সার লড়াই, ক্যালকাটা ট্রামওয়েজ কোম্পানি, জ্যোতি বসুর আন্দোলন, পশ্চিমবঙ্গের গণআন্দোলনের ইতিহাস, বিধানচন্দ্র রায় ও ট্রাম আন্দোলন।
১৯৫৩ সালের ট্রাম ভাড়া আন্দোলন বা Tram Fare Movement 1953 পশ্চিমবঙ্গের তথা কলকাতার গণআন্দোলনের ইতিহাসে একটি স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায়। এটি সাধারণ মানুষের কাছে ‘এক পয়সার লড়াই’ নামেও পরিচিত। এই আন্দোলন সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত। ১৯৫৩ সালের ট্রাম ভাড়া আন্দোলনের পটভূমিতে ছিল ট্রাম ভাড়া বৃদ্ধি, যা সাধারণ মানুষের জীবনে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে। ফলে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ—বিশেষ করে ছাত্র, শ্রমিক ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণি—একত্রিত হয়ে প্রতিবাদে সামিল হয়। ‘এক পয়সার লড়াই’ নামেও পরিচিত এই আন্দোলন স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতের গণআন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। কলকাতার জনজীবনে এর গভীর প্রভাব পড়ে এবং সংগঠিত প্রতিবাদের শক্তিকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করে।
🔎 মূল শব্দ: ট্রাম ভাড়া আন্দোলন ১৯৫৩, কলকাতা ট্রাম আন্দোলন, গণআন্দোলন, পশ্চিমবঙ্গ ইতিহাস
১. ভূমিকা: ট্রাম ভাড়া আন্দোলন ১৯৫৩
- ট্রাম ভাড়া আন্দোলন ১৯৫৩ ((Tram Fare Movement 1953)) ছিল কলকাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ গণআন্দোলন, যা সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত। ট্রাম ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে সংগঠিত এই আন্দোলনের মাধ্যমে জনসাধারণ ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতের গণআন্দোলনের ধারায় একটি নতুন দিশা উন্মোচিত হয়।1
- ১৯৫৩ সালের জুলাই মাসে স্বাধীন ভারতের বয়স তখন মাত্র কয়েক বছর। ব্রিটিশ শাসনের অবসান হলেও সাধারণ মানুষের আর্থিক সংকট পুরোপুরি কাটেনি। দেশভাগের ফলে পূর্ববঙ্গ থেকে উদ্বাস্তুদের আগমন, খাদ্যসংকট এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির চাপ কলকাতার জনজীবনকে কঠিন করে তোলে।2 এই পরিস্থিতিতে ট্রাম ভাড়া বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত বোঝা হয়ে দাঁড়ায় এবং এর প্রতিবাদে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়।
- এই প্রেক্ষাপটে ‘এক পয়সার লড়াই’ নামে পরিচিত ট্রাম ভাড়া আন্দোলন ১৯৫৩ ((Tram Fare Movement 1953)) গড়ে ওঠে। ছাত্র, শ্রমিক ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির সক্রিয় অংশগ্রহণে আন্দোলন দ্রুত ব্যাপক রূপ ধারণ করে এবং কলকাতার জনজীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। এটি স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতের অন্যতম উল্লেখযোগ্য গণআন্দোলন হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে।

আন্দোলনের প্রেক্ষাপট: Tram Fare Movement 1953 কেন শুরু হয়েছিল?
২. ট্রাম ভাড়া আন্দোলন ১৯৫৩-এর কারণ: ‘এক পয়সা’ বৃদ্ধির ঐতিহাসিক গুরুত্ব
- বর্তমান সময়ে ‘এক পয়সা’ তুচ্ছ মনে হলেও ১৯৫৩ সালে এর প্রভাব ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিটিশ মালিকানাধীন ‘ক্যালকাটা ট্রামওয়েজ কোম্পানি’ (CTC) ট্রামের দ্বিতীয় শ্রেণির ভাড়া এক পয়সা বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেয়3, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
- তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ড. বিধানচন্দ্র রায়ের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকার এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেও বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হয়ে ওঠে।4 তাদের যুক্তি ছিল—যখন খাদ্যসংকট, বেকারত্ব ও দারিদ্র্য সাধারণ মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে, তখন ট্রাম ভাড়া বৃদ্ধি তাদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে।
- এই পরিস্থিতি থেকেই ট্রাম ভাড়া আন্দোলন ১৯৫৩-এর সূচনা হয়, যা দ্রুত এক ব্যাপক গণআন্দোলনে পরিণত হয়।
আরও পড়ুন: ডঃ বিধানচন্দ্র রায়ের জীবনী ও আধুনিক পশ্চিমবঙ্গ নির্মাণে তাঁর অবদান
৩. ট্রাম ভাড়া আন্দোলন ১৯৫৩-এর অগ্রগতি: প্রতিবাদ কমিটির গঠন
আন্দোলনকে সুসংগঠিত ও কার্যকর করার উদ্দেশ্যে ১৯৫৩ সালের ১৮ জুলাই ‘ট্রাম-বাস ভাড়া বৃদ্ধি প্রতিবাদ কমিটি’ গঠন করা হয়। এই কমিটি আন্দোলনকে সংগঠিত রূপ দিতে এবং জনসমর্থন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এই কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন বামপন্থী নেতৃবৃন্দ—যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
- জ্যোতি বসু
- হেমন্ত কুমার বসু
- সুরেশ ব্যানার্জি
- সত্যপ্রিয় ব্যানার্জি
কমিটির প্রধান দাবি ছিল ট্রাম কোম্পানিকে সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনা বা জাতীয়করণ করা এবং বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার করা। এই দাবিগুলির ভিত্তিতেই আন্দোলন আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং বৃহত্তর গণসমর্থন লাভ করে।
ট্রাম ভাড়া আন্দোলন ১৯৫৩-এ ছাত্র ও যুব সমাজের ভূমিকা
ট্রাম ভাড়া আন্দোলন ১৯৫৩ ((Tram Fare Movement 1953))-এ ছাত্র ও যুব সমাজের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রণী। ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ডাককে তারা দ্রুত সংগঠিত করে তোলে এবং বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্ররা মিছিল, সভা ও প্রচার কর্মসূচির মাধ্যমে জনসাধারণকে সচেতন করে। যুবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে আন্দোলনটি দ্রুত শহরজুড়ে বিস্তার লাভ করে এবং সাধারণ মানুষের সমর্থন অর্জন করে। অনেক ক্ষেত্রে ছাত্র ও যুবকরাই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়, পুলিশের দমননীতির মুখেও তারা পিছপা হয়নি। ফলে ট্রাম ভাড়া আন্দোলন ১৯৫৩ কেবল একটি অর্থনৈতিক প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা এক শক্তিশালী গণআন্দোলনে রূপান্তরিত হয়।

৪. ট্রাম ভাড়া আন্দোলনের বিস্তার ও জনজীবনে তার প্রতিফলন
আন্দোলনটি কেবল মিছিলেই সীমাবদ্ধ ছিল না, এটি প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছিল। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এটি এক বিশাল গণজাগরণে রূপ নেয়।5
- ভাড়া বর্জন: হাজার হাজার যাত্রী ট্রামে উঠতেন কিন্তু টিকিট কাটতেন না অথবা পুরনো ভাড়ার বেশি টাকা দিতেন না।
- পিকেটিং: কলকাতার রাজপথে ট্রাম চলাচল বন্ধ করতে ছাত্র ও যুব সমাজ লাইনের ওপর শুয়ে পিকেটিং শুরু করে।
- সাধারণ মানুষের ভোগান্তি: বাজারে চালের অভাব ও কালোবাজারির প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ে। অডিওর সেই ‘সুবিমল’ ও ‘কুন্তি’-র কাল্পনিক সংলাপগুলো আসলে সেই সময়ের মধ্যবিত্ত জীবনেরই বাস্তব চিত্র।
৫. ট্রাম ভাড়া আন্দোলন ১৯৫৩-এর সময় সরকারি দমননীতি ও সংঘাত
- আন্দোলন দমনের লক্ষ্যে সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। কলকাতার বিভিন্ন অঞ্চলে ১৪৪ ধারা জারি করা হয় এবং পুলিশ লাঠিচার্জ ও গুলি চালনার মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের দমন করার চেষ্টা করে।6 অনেক স্থানে ট্রাম চলাচল ব্যাহত করতে আন্দোলনকারীরা ট্রাম আটকায় বা আগুন লাগানোর ঘটনাও ঘটে।
- এই পরিস্থিতিতে বহু ছাত্র, শ্রমিক ও রাজনৈতিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। সংঘর্ষের ফলে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু ঘটে, যদিও মৃতের সঠিক সংখ্যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
- এই দমননীতি ও সহিংসতার ফলে ট্রাম ভাড়া আন্দোলন ১৯৫৩ কেবল একটি অর্থনৈতিক প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা রাজনৈতিক সংঘাতের রূপ ধারণ করে এবং কংগ্রেস ও বামপন্থী শক্তির মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্বের প্রকাশ ঘটায়।

আরও পড়ুন: তেভাগা আন্দোলনের ইতিহাস ও বাংলার কৃষক সংগ্রাম
৬. ট্রাম ভাড়া আন্দোলন ১৯৫৩-এর ফলাফল ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব
দীর্ঘদিনের সংগ্রাম ও গণআন্দোলনের পর শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের দাবি আংশিকভাবে সফল হয় এবং ট্রাম কোম্পানি বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। এর মাধ্যমে জনতার ঐক্যবদ্ধ শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সফলতা: ট্রাম ভাড়া আন্দোলন ১৯৫৩ স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতের প্রথম সফল গণআন্দোলনগুলির মধ্যে অন্যতম, যা সরকার ও কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে বাধ্য করেছিল।
- বামপন্থীদের উত্থান: এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থী রাজনৈতিক শক্তির ভিত্তি সুদৃঢ় হয় এবং জ্যোতি বসুর মতো নেতারা জনমানসে বিশেষভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।7
- গণশক্তির প্রকাশ: ‘এক পয়সার লড়াই’ কেবল অর্থনৈতিক দাবির আন্দোলন ছিল না, বরং এটি জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তির এক জোরালো প্রকাশ হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে।
- ঐতিহাসিক গুরুত্ব: ট্রাম ভাড়া আন্দোলন ১৯৫৩ ভারতের গণআন্দোলনের ধারায় একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।

পরীক্ষার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট (Quick Recap)
- সময়কাল: জুলাই, ১৯৫৩।
- আন্দোলনের নাম: এক পয়সার আন্দোলন।
- প্রধান কারণ: ট্রামের দ্বিতীয় শ্রেণির ভাড়া ১ পয়সা বৃদ্ধি।
- মুখ্যমন্ত্রী: ডঃ বিধানচন্দ্র রায়।
- নেতৃবৃন্দ: জ্যোতি বসু, হেমন্ত বসু।
- ঐতিহাসিক গুরুত্ব: স্বাধীন ভারতের প্রথম সফল গণআন্দোলন।8
৭. উপসংহার
‘এক পয়সার লড়াই’ কেবল ভাড়া কমানোর লড়াই ছিল না, এটি ছিল আত্মমর্যাদা এবং অধিকার রক্ষার সংগ্রাম। কলকাতার রাজপথে ঝরা সেই রক্ত আর ইনকিলাব স্লোগান আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ যেকোনো শক্তিকে পরাজিত করতে সক্ষম।
এই লেখাটি আপনার উপকারে আসলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে নিয়মিত ইতিহাসের নোটস সংগ্রহ করুন।
আপনি কি মনে করেন আজকের যুগেও সাধারণ মানুষ এমন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করতে সক্ষম? আপনার মতামত কমেন্টে জানান।
এক পয়সার ট্রাম ভাড়া আন্দোলন সম্পর্কে আরও পড়তে ক্লিক করুন
ট্রাম ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে আন্দোলন সম্পর্কে আরও জানতে নিচের ভিডিওটি দেখুন।
————– এক পয়সার ট্রাম ভাড়া আন্দোলন সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর —————
Section A- QUIZ: মক টেস্ট দিয়ে নিজেকে যাচাই করুন
এক পয়সার লড়াই ১৯৫৩: ইন্টারঅ্যাক্টিভ মক টেস্ট
১০টি গুরুত্বপূর্ণ MCQ, সঙ্গে সঠিক উত্তর, ব্যাখ্যা, স্কোর, Streak ও Sound Feedback।
🎉 মক টেস্ট সম্পন্ন!
Section B-Basic MCQ: নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দিন
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা ১৮৮৫: Answer Reveal MCQ
প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেখতে বাটনে ক্লিক করুন। উত্তর প্রকাশের সঙ্গে ব্যাখ্যাও দেখা যাবে।
পেজটি শেয়ার করুন
Section C-Advanced MCQ: নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দিন
Section D-FAQ: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা ১৮৮৫ সংক্রান্ত জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
১. ‘এক পয়সার লড়াই’ কী?
উত্তর: ১৯৫৩ সালে ব্রিটিশ মালিকানাধীন কলকাতা ট্রামওয়েজ কোম্পানি ট্রামের দ্বিতীয় শ্রেণির ভাড়া এক পয়সা বাড়িয়ে দেয়। এই সামান্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ এবং বামপন্থী দলগুলো যে বিশাল আন্দোলন গড়ে তুলেছিল, তাকেই ‘এক পয়সার লড়াই’ বলা হয়।
২. কেন মাত্র এক পয়সার জন্য মানুষ এত বড় আন্দোলনে নেমেছিল?
উত্তর: সেই সময়ে সাধারণ মানুষের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। এক পয়সার মূল্য অনেক ছিল। এছাড়া ব্রিটিশ কোম্পানির এই সিদ্ধান্তকে সাধারণ মানুষ তাদের ওপর অন্যায় চাপিয়ে দেওয়া এবং সরকারের জনবিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে দেখেছিল।
৩. এই আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা কেমন ছিল?
উত্তর: আন্দোলন দমাতে তৎকালীন সরকার কঠোর দমননীতি গ্রহণ করেছিল। লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস ছোঁড়া এবং ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল। এমনকি জ্যোতি বসুসহ বহু নেতা ও আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
৪. এই আন্দোলনের ফলাফল কী হয়েছিল?
উত্তর: দীর্ঘ এক মাস আন্দোলনের পর জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধের কাছে নতি স্বীকার করে সরকার এবং ট্রাম কোম্পানি বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়। এটি ছিল স্বাধীন ভারতে সাধারণ মানুষের প্রথম বড় বিজয়।
৫. এই আন্দোলনের গুরুত্ব কী?
উত্তর: এই আন্দোলন প্রমাণ করেছিল যে সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে সরকারের জনবিরোধী সিদ্ধান্তকে পরিবর্তন করতে পারে। এটি পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থী রাজনীতির ভিত মজবুত করতে সাহায্য করেছিল।
৬. ‘এক পয়সার লড়াই’ কবে শুরু হয়?
উত্তর: ১৯৫৩ সালের জুলাই মাসে কলকাতায় এই আন্দোলনের সূচনা হয়, যখন ট্রামের ভাড়া এক পয়সা বৃদ্ধি করা হয়।
৭. ‘এক পয়সার লড়াই’ কোথায় সংঘটিত হয়েছিল?
উত্তর: এই আন্দোলন প্রধানত কলকাতা শহরে সংঘটিত হয়, যেখানে ট্রাম ছিল সাধারণ মানুষের অন্যতম প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম।
৮. এই আন্দোলনের নেতৃত্ব কারা দিয়েছিলেন?
উত্তর: বামপন্থী রাজনৈতিক দল, বিশেষত কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। জ্যোতি বসু ছিলেন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা।
৯. ‘এক পয়সার লড়াই’-এ কোন শ্রেণির মানুষ বেশি অংশগ্রহণ করেছিল?
উত্তর: মূলত শ্রমিক, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ এই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিল।
১০. এই আন্দোলন কতদিন স্থায়ী হয়েছিল?
উত্তর: প্রায় এক মাস ধরে এই আন্দোলন চলেছিল এবং ক্রমে তা বৃহৎ গণআন্দোলনের রূপ নেয়।
১১. ‘এক পয়সার লড়াই’ কি শুধুই ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে ছিল?
উত্তর: না, এটি শুধু ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে নয়, বরং ব্রিটিশ মালিকানাধীন কোম্পানির শোষণ এবং জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধেও একটি প্রতিবাদ ছিল।
১২. এই আন্দোলনের সঙ্গে ট্রামওয়ে কোম্পানির সম্পর্ক কী ছিল?
উত্তর: ব্রিটিশ মালিকানাধীন কলকাতা ট্রামওয়েজ কোম্পানির ভাড়া বৃদ্ধি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই এই আন্দোলন শুরু হয়।
১৩. ‘এক পয়সার লড়াই’ কেন ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: এটি স্বাধীন ভারতের প্রথম বড় গণআন্দোলনগুলির একটি, যা সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ শক্তির পরিচয় দেয়।
১৪. এই আন্দোলনের ফলে বামপন্থী রাজনীতির উপর কী প্রভাব পড়ে?
উত্তর: এই আন্দোলনের ফলে পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থী দলগুলির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায় এবং তাদের রাজনৈতিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়।
১৫. ‘এক পয়সার লড়াই’ থেকে কী শিক্ষা পাওয়া যায়?
উত্তর: এই আন্দোলন থেকে শিক্ষা পাওয়া যায় যে, সংগঠিত জনআন্দোলন সরকারের নীতি পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
১৬. ট্রাম ভাড়া আন্দোলন ১৯৫৩ কী?
উত্তর: ট্রাম ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে কলকাতায় সংগঠিত একটি গণআন্দোলন।
সূত্রনির্দেশ:
- Bipan Chandra et al., India Since Independence, Penguin, 2008, p. 210–212. ↩︎
- Ranabir Samaddar, The Marginal Nation, Sage Publications, 1999, p. 85–90. ↩︎
- Sovan Ray, Calcutta Tramways: A History, Firma KLM, 1992, p. 132–135. ↩︎
- Narayan Chaudhuri, Dr. B.C. Roy: A Biography, Publications Division, Govt. of India, 2004, p. 156–158. ↩︎
- Partha Chatterjee, The Politics of the Governed, Columbia University Press, 2004, p. 45–50. ↩︎
- Government of West Bengal, Home (Political) Department Records, 1953, File No. 23/1953. ↩︎
- Jyoti Basu, Memoirs: A Political Biography, National Book Trust, 1998, p. 78–80. ↩︎
- Bipan Chandra et al., India Since Independence, Penguin, 2008, p. 215. ↩︎

Pingback: All History Posts in Bengali | Indian History Articles, Notes, MCQ