‘[Dadabhai Naoroji Drain Theory ভারতের অর্থনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। Dadabhai Naoroji ছিলেন ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ এবং ‘Grand Old Man of India’ নামে পরিচিত। তিনি প্রথম ব্রিটিশ শাসনের অর্থনৈতিক শোষণের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন, যা ‘Drain Theory’ নামে পরিচিত। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, ভারতের সম্পদ ধীরে ধীরে ইংল্যান্ডে পাচার হয়ে দেশের দারিদ্র্যের সৃষ্টি করে। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ Poverty and Un-British Rule in India-তে এই তত্ত্বের বিশদ আলোচনা পাওয়া যায়। বর্তমান পোস্টে Dadabhai Naoroji ও Drain Theory সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ MCQ প্রশ্নোত্তর দেওয়া হয়েছে, যা WBCS, WBSET, UGC NET, SSC এবং মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত সহায়ক। প্রতিটি প্রশ্নের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, যাতে বিষয়টি সহজে বোঝা যায় এবং পরীক্ষায় সঠিক উত্তর নির্বাচন করা যায়।]
ভূমিকা:
উনবিংশ শতকের মধ্যভাগে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটতে শুরু করে। ভারতীয় জাতীয়তাবাদের সামাজিক প্রেক্ষাপট অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তবে তা কেবল রাজনৈতিক, সামাজিক বা সাংস্কৃতিক কারণে সীমাবদ্ধ ছিল না। এর অন্তর্নিহিত চালিকাশক্তি ছিল ভারতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভীর অর্থনৈতিক শোষণের বাস্তবতা। ঔপনিবেশিক শাসনের প্রথম দিকে অনেক ভারতীয় শিক্ষিত সমাজ মনে করতেন যে ব্রিটিশ শাসন আধুনিকতা, শিক্ষা ও উন্নয়নের পথ খুলে দিচ্ছে। কিন্তু ক্রমে দেখা যায়, এই উন্নয়নের আড়ালে চলছে সুপরিকল্পিত অর্থনৈতিক নিঃস্বতার প্রক্রিয়া। এই সত্যটি প্রথম সুসংগঠিত ও বৈজ্ঞানিকভাবে তুলে ধরেন ‘ভারতের পিতামহ’ (Grand Old Man of India) দাদাভাই নওরোজি।1 তাঁর বিশ্লেষণ ইতিহাসে ‘ড্রেন তত্ত্ব’ বা ‘সম্পদ নির্গমন তত্ত্ব’ বা ‘সম্পদের বহির্গমন তত্ত্ব’ নামে সুপরিচিত। এই Drain Theory বা সম্পদের নির্গমন তত্ত্ব শুধু একটি অর্থনৈতিক ধারণাই নয়, বরং ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বৌদ্ধিক ভিত্তি নির্মাণে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে।2
ড্রেন তত্ত্ব (Drain Theory)
ড্রেন তত্ত্ব হলো এমন একটি ধারণা, যেখানে বলা হয় ভারতের সম্পদ ব্রিটিশ শাসনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ইংল্যান্ডে চলে যাচ্ছিল।
এই তত্ত্বটি প্রথম তুলে ধরেন Dadabhai Naoroji।
তিনি দেখান যে ভারতের দারিদ্র্যের প্রধান কারণ ছিল এই সম্পদ নির্গমন।
ভারত থেকে কর, বেতন, মুনাফা ইত্যাদির মাধ্যমে বিপুল অর্থ বিদেশে চলে যেত।
এর ফলে দেশের ভেতরে পুঁজি সঞ্চয় কমে যায় এবং উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
এই তত্ত্ব ভারতীয়দের মধ্যে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করে।
এটি পরবর্তীকালে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে ওঠে।

কংগ্রেসের প্রথম পর্বে নরমপন্থী নেতৃত্ব
১৮৮৫ সালে জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৯০৫ সাল পর্যন্ত সময়কালকে কংগ্রেসের নমরপন্থী পর্ব বলা হয়। এই পর্বের নরমপন্থী কংগ্রেসের নেতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরোজশাহ মেহতা, কে.টি. তেলাং, দাদাভাই নওরোজি রমেশচন্দ্র দত্ত প্রমুখ। তাঁরা ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও আলোচনার মাধ্যমে প্রশাসনিক সংস্কার এবং ভারতীয়দের অধিক অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। তাদের নীতি ‘প্রার্থনা ও আবেদন নীতি’ (Prayer, Petition and Protest) নামে পরিচিত। এই নরমপন্থী নেতৃত্বই ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ভিত্তি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ড্রেন তত্ত্বের মূল ধারণা
নওরোজি প্রথমবার পরিসংখ্যান ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখান যে ভারতের দারিদ্র্য কোনো প্রাকৃতিক বা অভ্যন্তরীণ সমস্যার ফল নয়, বরং এটি Drain Theory অর্থাৎ ঔপনিবেশিক নীতির সরাসরি ফল।3 তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ Poverty and Un-British Rule in India (১৯০১)-এ বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন যে, ব্রিটিশ শাসনের ফলে ভারতের সম্পদ ধারাবাহিকভাবে ইংল্যান্ডে স্থানান্তরিত হচ্ছে, অথচ তার বিনিময়ে ভারতবাসী কোনো প্রকৃত অর্থনৈতিক প্রতিদান পাচ্ছে না।4 তিনি এই প্রক্রিয়াকে “ড্রেন” বা ‘নির্গমন’ বা ‘রক্তক্ষরণ’-এর সঙ্গে তুলনা করেন—অর্থাৎ একটি দেশের সম্পদ ধীরে ধীরে বেরিয়ে যাচ্ছে এবং দেশটি দুর্বল হয়ে পড়ছে।5নওরোজির মতে, এই সম্পদ নির্গমন প্রধানত দুইভাবে সংঘটিত হতো—যার মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসন ভারতের অর্থনীতিকে ধারাবাহিকভাবে দুর্বল করে তোলে এবং দেশের ভেতরে পুঁজি সঞ্চয়ের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।
প্রত্যক্ষ (Direct Drain):
প্রত্যক্ষ নির্গমন বলতে সেই সমস্ত অর্থের বহির্গমনকে বোঝানো হয়, যা সরাসরি ভারতের রাজস্ব বা আয়ের উৎস থেকে ব্রিটেনে স্থানান্তরিত হতো। এর মধ্যে প্রধানত অন্তর্ভুক্ত ছিল—ব্রিটিশ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উচ্চ বেতন ও পেনশন, লন্ডনে অবস্থিত ভারত সচিবের দপ্তরের ব্যয় (Home Charges), ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ব্যয়, এবং ব্রিটিশ সরকারের ঋণের সুদ পরিশোধ। এই সমস্ত খরচ ভারতের জনগণের করের টাকা থেকেই মেটানো হতো, কিন্তু তার বিনিময়ে ভারত কোনো বাস্তব অর্থনৈতিক সুবিধা পেত না। ফলে এই ধরনের নির্গমন ছিল একেবারেই একমুখী এবং ভারতের অর্থনীতির জন্য সরাসরি ক্ষতিকর।
পরোক্ষ (Indirect Drain):
পরোক্ষ নির্গমন ছিল অপেক্ষাকৃত সূক্ষ্ম এবং কাঠামোগত, যা সরাসরি চোখে ধরা না পড়লেও দীর্ঘমেয়াদে আরও গভীর প্রভাব ফেলত। এর অন্তর্ভুক্ত ছিল বিদেশি পুঁজিপতিদের মুনাফা ও লভ্যাংশ, যা ভারতে উৎপন্ন হলেও ব্রিটেনে স্থানান্তরিত হতো। এছাড়া বাণিজ্যিক উদ্বৃত্ত—অর্থাৎ ভারত থেকে অধিক রপ্তানি হলেও সেই অর্থের বড় অংশ দেশে না ফিরে বিদেশেই থেকে যেত—এটিও পরোক্ষ নির্গমনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এর ফলে ভারতের অভ্যন্তরে পুঁজি সঞ্চয়, শিল্পোন্নয়ন এবং বিনিয়োগের সুযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। নওরোজি দেখিয়েছিলেন যে এই পরোক্ষ নির্গমনই দীর্ঘমেয়াদে ভারতের অর্থনৈতিক স্থবিরতার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সম্পদ নির্গমনের প্রধান মাধ্যমসমূহ
নওরোজি বিভিন্ন উপায়ে এই সম্পদের নির্গমন বা পাচারের চিত্র তুলে ধরেন—
১. হোম চার্জেস (Home Charges)
লন্ডনে অবস্থিত ব্রিটিশ সরকারের ভারত-সংক্রান্ত প্রশাসনিক খরচ, ভারত সচিবের অফিস, ব্রিটিশ কর্মচারীদের বেতন ও পেনশন—সবই ভারতের রাজস্ব থেকে প্রদান করা হতো।6 ফলে ভারতের অর্থ সরাসরি বিদেশে চলে যেত।
২. বিদেশি পুঁজির মুনাফা
ভারতে রেলপথ, বাণিজ্য ও শিল্পে ব্রিটিশ পুঁজি বিনিয়োগ করা হলেও, সেই বিনিয়োগের অধিকাংশ লাভ ইংল্যান্ডে পাঠানো হতো।7 ফলে ভারতের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে সেই সম্পদের পুনঃবিনিয়োগ ঘটত না।
৩. সামরিক ব্যয়
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্বার্থে আফগানিস্তান বা অন্যান্য অঞ্চলে পরিচালিত যুদ্ধের ব্যয়ও ভারতের ওপর চাপানো হতো।8 এতে ভারতের অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়।
৪. বাণিজ্যিক উদ্বৃত্ত
ভারত থেকে বিপুল পরিমাণে কাঁচামাল (যেমন তুলা, পাট, নীল) রপ্তানি করা হতো, কিন্তু সেই রপ্তানির লাভের একটি বড় অংশ ইংল্যান্ডে থেকে যেত। ভারতের সাধারণ মানুষ সেই লাভ থেকে বঞ্চিত হতো।
৫. প্রশাসনিক উচ্চপদে বিদেশিদের প্রাধান্য
উচ্চপদস্থ ব্রিটিশ কর্মচারীরা ভারতে কাজ করে বিপুল বেতন উপার্জন করতেন এবং সেই অর্থ বিদেশে পাঠাতেন। এতে ভারতীয়দের কর্মসংস্থানের সুযোগও কমে যেত।
একনজরে সম্পদ নির্গমনের ৫টি মাধ্যম
| খাতের নাম | শোষণের ধরণ ও প্রভাব |
| ১. হোম চার্জেস | লন্ডন অফিসে কর্মরত ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের বেতন, পেনশন ও অফিস খরচ ভারতের রাজস্ব থেকে দেওয়া হতো। |
| ২. পুঁজি বিনিয়োগের সুদ | রেলওয়ে ও অন্যান্য পরিকাঠামোয় ব্রিটিশরা যে বিনিয়োগ করত, তার উচ্চহারের সুদ ভারত থেকে পাচার হতো। |
| ৩. সামরিক ব্যয় | ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য পরিচালিত যুদ্ধের (যেমন- আফগান যুদ্ধ) সিংহভাগ খরচ ভারতের ওপর চাপানো হতো। |
| ৪. বাণিজ্যিক লুণ্ঠন | ভারত থেকে কম দামে কাঁচামাল রপ্তানি করা হতো, কিন্তু তার লভ্যাংশ কখনোই ভারতীয়দের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়নি। |
| ৫. বেতন ও সঞ্চয় | উচ্চপদস্থ ব্রিটিশ কর্মচারীরা ভারতে কাজ করে যে বিপুল বেতন পেতেন, তা তাঁরা ইংল্যান্ডে পাঠিয়ে দিতেন। |
ড্রেন তত্ত্ব: ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গি বনাম ব্রিটিশ সরকারের যুক্তি
| বিচারের বিষয় | দাদাভাই নওরোজির যুক্তি (ড্রেন তত্ত্ব) | ব্রিটিশ সরকারের দাবি ও যুক্তি |
| ভারতের দারিদ্র্য | দারিদ্র্য হলো ব্রিটিশদের শোষণমূলক অর্থনৈতিক নীতির পরিকল্পিত ফলাফল। | দারিদ্র্য একটি প্রাকৃতিক সমস্যা এবং অধিক জনসংখ্যার ফল। |
| রেলওয়ে নির্মাণ | সম্পদ দ্রুত ভারত থেকে বন্দরে ও ব্রিটেনে পাচারের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। | ভারতকে আধুনিক করা এবং যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতির একটি মহৎ উদ্যোগ। |
| টাকা পাচার | ভারত থেকে একতরফাভাবে সম্পদ ব্রিটেনে যাচ্ছে, যার বিনিময়ে ভারত কিছু পাচ্ছে না। | এটি পাচার নয়, বরং ভারতকে সুশাসন ও সুরক্ষা দেওয়ার বিনিময়ে প্রাপ্য খরচ (Service Charge)। |
| পুঁজি বিনিয়োগ | ব্রিটিশ পুঁজি কেবল নিজেদের মুনাফার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, ভারতের শিল্পের জন্য নয়। | বিদেশি বিনিয়োগ ভারতের শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করছে এবং কর্মসংস্থান বাড়াচ্ছে। |
| প্রশাসনিক ব্যয় | উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বড় বড় বেতন ভারতের অর্থনীতিকে রক্তশূন্য (Bleeding) করছে। | দক্ষ ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের নিয়োগ ভারতের প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি। |
অর্থনৈতিক প্রভাব ও সামাজিক বাস্তবতা
ড্রেন তত্ত্বের ফলে ভারতের অর্থনীতিতে যে প্রভাব পড়েছিল তা ছিল বহুমাত্রিক—
- দারিদ্র্যের বৃদ্ধি: দেশের উৎপন্ন সম্পদের একটি বড় অংশ ধারাবাহিকভাবে ইংল্যান্ডে চলে যাওয়ার ফলে ভারতের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে। এই সম্পদ নির্গমনের কারণে দেশে পুঁজি সঞ্চয়ের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়, যার ফলে শিল্প, কৃষি ও বাণিজ্যের স্বাভাবিক বিকাশ সম্ভব হয়নি। এর ফলস্বরূপ সাধারণ মানুষের আয় হ্রাস পায়, ক্রয়ক্ষমতা কমে যায় এবং দারিদ্র্য ব্যাপক আকার ধারণ করে।9
- শিল্পের অবক্ষয়: ব্রিটিশ নীতির ফলে দেশীয় শিল্প, বিশেষত কুটির ও হস্তশিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একদিকে ব্রিটিশ প্রস্তুতকৃত পণ্যের অবাধ প্রবেশ এবং অন্যদিকে ভারতীয় শিল্পের ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপের ফলে স্থানীয় শিল্প প্রতিযোগিতায় টিকতে পারেনি। ফলে বহু কারিগর ও শিল্পী তাদের জীবিকা হারায় এবং শিল্পভিত্তিক অর্থনীতি ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে।10
- কৃষকের দুরবস্থা: ব্রিটিশ রাজস্ব নীতির কারণে কৃষকদের ওপর অত্যধিক করের বোঝা চাপানো হয়, যা অনেক ক্ষেত্রেই উৎপাদনের তুলনায় অযৌক্তিক ছিল। এর সঙ্গে যুক্ত হয় মহাজনী ঋণের ফাঁদ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব, যার ফলে কৃষকরা ক্রমশ ঋণগ্রস্ত ও নিঃস্ব হয়ে পড়ে। অনেক কৃষক জমি হারিয়ে ভূমিহীন শ্রমিকে পরিণত হয়, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করে তোলে।11
- বেকারত্ব বৃদ্ধি: দেশীয় শিল্পের পতন এবং নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠার অভাবের ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। কৃষিক্ষেত্রেও অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ তৈরি হয়, ফলে পর্যাপ্ত কাজের অভাব দেখা দেয়। এর ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষ বেকার বা অর্ধ-বেকার অবস্থায় জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থবিরতার সৃষ্টি করে।12
নওরোজি দেখান যে ভারতের অর্থনৈতিক সংকট কোনো “অযোগ্যতা” বা “অবিকাশ”-এর ফল নয়, বরং এটি ঔপনিবেশিক অর্থনীতির একটি কাঠামোগত সমস্যা।
দাদাভাই নওরোজির ড্রেন তত্ত্ব (Drain Theory) এর প্রভাব
ড্রেন তত্ত্ব ভারতীয়দের মধ্যে নতুন চেতনার জন্ম দেয়। এর আগে অনেকেই ব্রিটিশ শাসনকে উন্নয়নের মাধ্যম মনে করলেও, এই তত্ত্ব তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়।
- এটি প্রমাণ করে যে ব্রিটিশ শাসন শোষণমূলক
- ভারতের দারিদ্র্য প্রাকৃতিক নয়, পরিকল্পিত
- অর্থনৈতিক মুক্তি পেতে হলে রাজনৈতিক স্বাধীনতা অপরিহার্য
এই তত্ত্বের প্রভাবেই ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রাথমিক নেতারা অর্থনৈতিক দাবি উত্থাপন করেন এবং পরবর্তীতে ‘স্বরাজ’-এর দাবি জোরদার হয়। একই সঙ্গে ‘স্বদেশী’ আন্দোলনের পেছনেও এই অর্থনৈতিক চিন্তাধারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
স্বদেশি আন্দোলন (Swadeshi Movement)
স্বদেশি আন্দোলন ছিল বিদেশি পণ্য বর্জন এবং দেশীয় পণ্য ব্যবহারের আন্দোলন।
এটি মূলত ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদ হিসেবে শুরু হয়।
এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল ভারতের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা।
মানুষ বিদেশি কাপড় বর্জন করে দেশীয় শিল্পকে সমর্থন করতে শুরু করে।
এর ফলে দেশীয় শিল্প ও উৎপাদন কিছুটা উন্নতি লাভ করে।
এই আন্দোলন জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগিয়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
স্বদেশি আন্দোলন পরবর্তীকালে স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি বড় ধাপ হয়ে ওঠে।
সমালোচনা ও সীমাবদ্ধতা
দাদাভাই নওরোজি যখন ব্রিটিশ শোষণের চিত্র তুলে ধরেন, তখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী ঐতিহাসিক এবং কিছু রক্ষণশীল অর্থনীতিবিদ এর বিপক্ষে বেশ কিছু যুক্তি খাড়া করেন। তাঁদের সমালোচনার প্রধান দিকগুলো ছিল নিম্নরূপ:
১. পরিষেবার মূল্য বা ‘সার্ভিস চার্জ’ (Service Charge) যুক্তি
ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদদের মতে, ভারত থেকে যে অর্থ ‘হোম চার্জেস’ বা বেতন ও পেনশন হিসেবে লন্ডনে যেত, তা কোনো ‘লুণ্ঠন’ ছিল না। তাঁদের দাবি ছিল, ব্রিটেন ভারতকে একটি সুসংগঠিত প্রশাসনিক ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ শান্তি এবং বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিচ্ছে। এই বিশাল প্রশাসনিক ও সামরিক নিরাপত্তার বিনিময়ে ভারত যে অর্থ ব্যয় করছে, তাকে তাঁরা ‘সুশাসনের মূল্য’ বা ‘Service Charge’ হিসেবে গণ্য করতেন।
হোম চার্জেস (Home Charges)
হোম চার্জেস বলতে ব্রিটেনে বসে ভারতের জন্য যে প্রশাসনিক খরচ হতো, তাকে বোঝায়।
এই খরচের মধ্যে ছিল ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের বেতন, পেনশন ও অফিস খরচ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই সমস্ত খরচ ভারতের রাজস্ব থেকেই দেওয়া হতো।
অর্থাৎ ভারতীয়দের করের টাকা সরাসরি ইংল্যান্ডে পাঠানো হতো।
এর বিনিময়ে ভারতবাসী কোনো সরাসরি সুবিধা পেত না।
এই হোম চার্জেস ছিল ড্রেন তত্ত্বের একটি প্রধান অংশ।
এটি ভারতের অর্থনীতিকে দুর্বল করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছিল।
২. আধুনিক পরিকাঠামো ও উৎপাদনশীল বিনিয়োগ
তাত্ত্বিক ভেরা অ্যান্সটি (Vera Anstey) এবং থিওডোর মরিসন দাবি করেন যে, ব্রিটিশরা ভারতে রেলপথ, টেলিগ্রাফ, আধুনিক সেচ ব্যবস্থা এবং বন্দর নির্মাণে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছিল। নওরোজির তত্ত্বে এই বিনিয়োগের ইতিবাচক দিকগুলোকে কিছুটা উপেক্ষা করা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, ব্রিটিশ মূলধন ভারতে আসার ফলেই এদেশের আধুনিক শিল্পায়নের পথ প্রশস্ত হয়েছিল। তাঁরা রেলওয়ে নির্মাণের ঋণকে ‘অনুৎপাদনশীল’ না বলে ‘উৎপাদনশীল ঋণ’ (Productive Debt) বলে অভিহিত করেন।
৩. দারিদ্র্যের অভ্যন্তরীণ কারণসমূহ
সমালোচকদের মতে, নওরোজি ভারতের দারিদ্র্যের জন্য একমাত্র ব্রিটিশ শাসনকেই দায়ী করেছেন। কিন্তু ভারতের দারিদ্র্যের পেছনে আরও কিছু অভ্যন্তরীণ আর্থ-সামাজিক কারণ ছিল যা ড্রেন তত্ত্বে কম গুরুত্ব পেয়েছে। যেমন—
- জনসংখ্যা বৃদ্ধি: ভারতের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছিল।
- সামাজিক কুসংস্কার ও কারিগরি শিক্ষার অভাব: আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে অনীহা এবং প্রাচীন কৃষি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা।
- পুঁজি সঞ্চয়ের অনীহা: ভারতীয় সমাজ ব্যবস্থার কিছু কাঠামোগত সমস্যার কারণে স্থানীয় পুঁজি গঠন বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল।
৪. বিশ্ববাজারের সঙ্গে সংযোগ
ব্রিটিশদের যুক্তি ছিল, ভারতের কাঁচামাল রপ্তানি হওয়ার ফলে ভারত বিশ্ববাজারের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরেছে। যদিও এর বিনিময়ে প্রাপ্ত অর্থের বড় অংশ বাইরে চলে যেত, কিন্তু এর ফলে ভারতীয় কৃষিপণ্যের একটি আন্তর্জাতিক চাহিদা তৈরি হয়েছিল, যা দীর্ঘমেয়াদে ভারতের বাণিজ্যিক প্রসারে সহায়ক ছিল বলে তাঁরা দাবি করেন।
৫. পরিসংখ্যানগত অস্পষ্টতা
নওরোজি যে পরিসংখ্যান ব্যবহার করেছিলেন, তা তৎকালীন সময়ে অনেকটা অনুমানের ওপর ভিত্তি করে ছিল। অনেক সমালোচক মনে করেন, নির্গত সম্পদের পরিমাণ নিয়ে নওরোজি যে তথ্য দিয়েছিলেন তা কিছুটা অতিরঞ্জিত হতে পারে। তবে আধুনিক ঐতিহাসিকরা মনে করেন যে, পরিমাণের পার্থক্য থাকলেও সম্পদ পাচারের যে মূল কাঠামো তিনি দেখিয়েছিলেন, তা ছিল অনস্বীকার্য সত্য।
মূল্যায়ন: ড্রেন তত্ত্ব কি সত্যিই সীমাবদ্ধ?
এই সমালোচনাগুলো সত্ত্বেও ড্রেন তত্ত্বের ঐতিহাসিক গুরুত্ব কোনোভাবেই ম্লান হয় না। এর কারণসমূহ হলো:
- রাজনৈতিক অস্ত্র: ড্রেন তত্ত্ব কেবল একটি অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ ছিল না, এটি ছিল ব্রিটিশ শাসনের ‘নৈতিক ভিত্তি’ ভেঙে দেওয়ার একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক অস্ত্র। এটি ভারতবাসীর মনে এই ধারণা বদ্ধমূল করে দেয় যে, ব্রিটেনের সমৃদ্ধি ভারতের ধ্বংসের ওপর দাঁড়িয়ে।
- জাতীয়তাবাদের ভিত্তি: এই তত্ত্বটিই প্রথম ভারতীয়দের মনে ‘স্বদেশী’ ভাবনার জন্ম দেয়। যদি সম্পদ বিদেশে চলে যায়, তবে বিদেশের পণ্য বর্জন করাই শ্রেয়—এই ধারণা থেকেই পরবর্তীতে বয়কট ও স্বদেশী আন্দোলনের জন্ম হয়।
- একতরফা শোষণ: সমালোচকরা ‘পরিষেবার মূল্য’ বললেও, আধুনিক অর্থনৈতিক বিচারে প্রমাণিত যে, ভারত যে পরিমাণ সম্পদ ব্রিটিশদের দিত, তার তুলনায় প্রাপ্ত পরিষেবার মান ও মূল্য ছিল অত্যন্ত নগণ্য। এটি ছিল মূলত একটি ‘একতরফা পাচার’ (Unilateral Transfer)।
আরও পড়ুন: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়
উপসংহার
দাদাভাই নওরোজির ড্রেন তত্ত্ব ছিল ব্রিটিশ শাসনের নৈতিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর এক শক্তিশালী আঘাত। তিনি কেবল আবেগের ওপর নির্ভর করেননি; বরং তথ্য, পরিসংখ্যান ও যুক্তির মাধ্যমে প্রমাণ করেন যে ভারত ধীরে ধীরে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। তাঁর এই তত্ত্ব ভারতীয় জাতীয়তাবাদকে বৌদ্ধিক ভিত্তি দেয় এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের অর্থনৈতিক যুক্তি প্রতিষ্ঠা করে। আজও এই তত্ত্ব ঔপনিবেশিক অর্থনীতির বিশ্লেষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হয় এবং আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—রাজনৈতিক স্বাধীনতার সঙ্গে অর্থনৈতিক স্বাধীনতাও সমানভাবে অপরিহার্য।
দাদাভাই নওরোজি সম্পর্কে আরও জানতে উইকিপিডিয়া থেকে পড়ুন
দাদাভাই নওরোজি: জীবনপঞ্জি
📌 ১৮২৫ – জন্ম
- ৪ সেপ্টেম্বর ১৮২৫ সালে বোম্বেতে (বর্তমান মুম্বই) জন্মগ্রহণ
- পারসি পরিবারে জন্ম, শৈশব থেকেই শিক্ষার প্রতি আগ্রহী ছিলেন
📌 ১৮৫০-এর দশক – শিক্ষাজীবন ও অধ্যাপনা
- এলফিনস্টোন কলেজে অধ্যয়ন ও পরবর্তীতে অধ্যাপক হিসেবে যোগদান
- প্রথম ভারতীয়দের মধ্যে একজন যিনি উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেন
📌 ১৮৫৫ – ইংল্যান্ডে যাত্রা
- ব্যবসায়িক কারণে লন্ডনে যান
- এখান থেকেই ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও জনমতের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা শুরু করেন
📌 ১৮৬৬ – East India Association প্রতিষ্ঠা
- East India Association প্রতিষ্ঠা
- উদ্দেশ্য: ব্রিটিশদের কাছে ভারতের সমস্যাগুলি তুলে ধরা
📌 ১৮৭০-এর দশক – ড্রেন তত্ত্ব প্রচার
- ব্রিটিশদের দ্বারা ভারতের সম্পদ লুণ্ঠনের বিষয়টি তুলে ধরেন
- এই তত্ত্ব পরবর্তীকালে “Drain Theory” নামে পরিচিত হয়
📌 ১৮৮৫ – কংগ্রেস প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা
- Indian National Congress প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত
- জাতীয় রাজনীতিতে নেতৃত্বের সূচনা
📌 ১৮৮৬ – কংগ্রেস সভাপতি (প্রথমবার)
- Indian National Congress-এর সভাপতি নির্বাচিত হন
- জাতীয় আন্দোলনের Moderate পর্যায়ের প্রধান নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত
📌 ১৮৯২ – ব্রিটিশ পার্লামেন্টে নির্বাচিত
- ব্রিটিশ সংসদের সদস্য (MP) নির্বাচিত হন
- প্রথম ভারতীয় হিসেবে এই ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন
📌 ১৮৯৩ ও ১৯০৬ – কংগ্রেস সভাপতি
- মোট তিনবার কংগ্রেস সভাপতি হন (১৮৮৬, ১৮৯৩, ১৯০৬)
- ১৯০৬ সালে “Swaraj” শব্দটি প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহৃত হয়
📌 ১৯০১ – গ্রন্থ প্রকাশ
- Poverty and Un-British Rule in India প্রকাশ
- ড্রেন তত্ত্বের বিশদ ব্যাখ্যা প্রদান
📌 ১৯১৭ – মৃত্যু
- ৩০ জুন ১৯১৭ সালে তাঁর মৃত্যু
- তাঁকে “Grand Old Man of India” বলা হয়
দাদাভাই নওরোজি সম্পর্কে ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- দাদাভাই নওরোজি ৪ সেপ্টেম্বর ১৮২৫ সালে বোম্বাই (মুম্বাই)-এ একটি পারসি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পরবর্তীকালে ‘Grand Old Man of India’ নামে পরিচিত হন।
- তিনি এলফিনস্টোন কলেজ-এ অধ্যাপনা করে প্রথম ভারতীয় অধ্যাপক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
- তিনি পারসি সমাজ সংস্কারের জন্য Rahnumai Mazdayasnan Sabha (১৮৫১) প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৫২ সালে তিনি Bombay Association-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে রাজনৈতিক কার্যকলাপে অংশ নেন।
- তিনি গুজরাটি ভাষায় ‘Rast Goftar’ পত্রিকা প্রকাশ করেন।
- ১৮৬৫ সালে তিনি লন্ডনে London Indian Society প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৬৬ সালে তিনি East India Association গঠন করেন।
- তিনি প্রথম ভারতীয় হিসেবে National Income গণনার প্রচেষ্টা করেন।
- ১৮৬৭-৬৮ সালে তাঁর মতে মাথাপিছু আয় ছিল মাত্র ২০ টাকা।
- তিনি Drain Theory (সম্পদ নির্গমন তত্ত্ব)-এর প্রবর্তক।
- তিনি unrequited export-এর মাধ্যমে সম্পদ বিদেশে চলে যাওয়ার কথা বলেন।
- ১৮৭৬ সালে তিনি ‘Poverty of India’ প্রবন্ধ রচনা করেন।
- তিনি Indian National Congress-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।
- ১৮৮৬ সালে কলকাতা অধিবেশনে কংগ্রেসের সভাপতি হন।
- তিনি Moderate (নরমপন্থী) নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ICS পরীক্ষা ভারত ও ইংল্যান্ডে একসঙ্গে নেওয়ার দাবি জানান।
- ১৮৯২ সালে তিনি British House of Commons-এর প্রথম ভারতীয় সদস্য হন।
- তিনি Liberal Party-র প্রার্থী হিসেবে Finsbury Central থেকে নির্বাচিত হন।
- ১৮৯৩ সালে লাহোর অধিবেশনে দ্বিতীয়বার কংগ্রেস সভাপতি হন।
- ১৮৯৫ সালে তিনি Welby Commission-এর সদস্য নিযুক্ত হন।
- তিনি Home Charges-এর তীব্র সমালোচনা করেন।
- ১৯০১ সালে তাঁর গ্রন্থ “Poverty and Un-British Rule in India” প্রকাশিত হয়।
- তিনি ব্রিটিশ শাসনকে ‘Un-British’ বলে সমালোচনা করেন।
- ১৯০৬ সালে কলকাতা অধিবেশনে তৃতীয়বার কংগ্রেস সভাপতি হন।
- ১৯০৬ সালে তিনি ‘Swaraj’-এর দাবি উত্থাপন করেন।
- তিনি Moderate ও Extremist দলের মধ্যে সেতুবন্ধন করার চেষ্টা করেন।
- তিনি ব্রিটিশ শাসনকে ভারতের দারিদ্র্যের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
- তিনি অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ-এর ভিত্তি স্থাপন করেন।
- ৩০ জুন ১৯১৭ সালে মুম্বাইয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ (Economic Nationalism)
অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ হলো এমন একটি ধারণা যেখানে দেশের অর্থনীতিকে স্বনির্ভর করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
এখানে বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করা হয়।
দেশীয় শিল্প, কৃষি ও ব্যবসাকে উন্নত করা এর মূল লক্ষ্য।
এই ধারণা ভারতীয় জাতীয়তাবাদী নেতাদের মধ্যে খুব জনপ্রিয় ছিল।
ড্রেন তত্ত্ব এই ধারণাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।
অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ মানুষকে নিজের দেশের উন্নয়নের কথা ভাবতে শেখায়।
এটি স্বাধীনতা আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।
————– দাদাভাই নওরোজি ও তার ‘সম্পদের বহির্গমন তত্ত্ব’ সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর —————
Section A- QUIZ: মক টেস্ট দিয়ে নিজেকে যাচাই করুন
দাদাভাই নওরোজি: ইন্টারঅ্যাক্টিভ কুইজ
একটি করে অপশনে ক্লিক করে পরীক্ষা দিন। প্রতিটি প্রশ্নের পর স্কোর আপডেট হবে, সঠিক/ভুল feedback দেখাবে এবং শেষে সম্পূর্ণ ফলাফল পাওয়া যাবে।
- প্রশ্নসংখ্যা: ১৫
- প্রতিটি প্রশ্নে ৪টি অপশন থাকবে
- একবার উত্তর দিলে তা বদলানো যাবে না
- প্রতিটি উত্তরের পর ব্যাখ্যা দেখাবে
- শেষে score, percentage ও performance message পাওয়া যাবে
Section B-Basic MCQ: নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দিন
Section C-Advanced MCQ: নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দিন
Section D-FAQ: দাদাভাই নওরোজি সংক্রান্ত জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
১৮৬৭-৬৮ সালে মাথাপিছু আয় কত ছিল?
উত্তর: ২০ টাকা
‘Evil of all Evils’ কে বলেছেন?
উত্তর: দাদাভাই নওরোজি
ওয়েলবি কমিশনের কাজ কী ছিল?
উত্তর: অর্থনৈতিক ব্যয় তদন্ত
‘England’s Debt to India’ কী?
উত্তর: প্রবন্ধ
নওরোজিকে অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদের জনক বলা হয় কেন?
উত্তর: তিনি প্রথম পরিসংখ্যান দিয়ে শোষণের বিশ্লেষণ করেন
ভারতের দারিদ্র্যের কারণ নয় কোনটি?
উত্তর: অধিক জনসংখ্যা
‘Moral Drain’ কী বোঝায়?
উত্তর: ভারতীয়দের প্রশাসনে সুযোগ না দিয়ে তাদের দক্ষতার অপচয়
পুঁজি গঠন বাধাগ্রস্ত হয়েছিল কেন?
উত্তর: সম্পদ বাইরে চলে যাওয়ায় বিনিয়োগের অভাব তৈরি হয়
Internal Drain কী?
উত্তর: গ্রাম থেকে শহরে ব্রিটিশ প্রশাসনের জন্য সম্পদ শোষণ
কোনটি ১৯০৬ সালের কলকাতা অধিবেশনের মূল কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত ছিল না?
উত্তর: আইন অমান্য
‘Economic History of India’ কে লেখেন?
উত্তর: রমেশচন্দ্র দত্ত
রেল ঋণের সুদ কী হিসেবে গণ্য হতো?
উত্তর: সম্পদ নির্গমনের একটি মাধ্যম
নওরোজির মতে বছরে প্রায় কত সম্পদ ব্রিটেনে যেত?
উত্তর: প্রায় ৩০-৪০ মিলিয়ন পাউন্ড
লাহোর অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ দাবি কী ছিল?
উত্তর: ICS পরীক্ষা ভারতেও নেওয়া
মূলধনের অভাব কেন হয়েছিল?
উত্তর: সম্পদ বাইরে যাওয়ায় দেশে বিনিয়োগ কমে যায়
Drain Theory বা ড্রেন তত্ত্বের প্রবক্তা কে?
উত্তর: দাদাভাই নওরোজি
ড্রেন তত্ত্ব প্রথম কোন বইতে বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত হয়?
উত্তর: Poverty and Un-British Rule in India
নওরোজির মতে সম্পদ নির্গমনের প্রধান কারণ কী ছিল?
উত্তর: হোম চার্জেস, ব্রিটিশদের বেতন-পেনশন এবং অলাভজনক খাতে বিদেশি পুঁজি বিনিয়োগ
সূত্রনির্দেশ:
- Dadabhai Naoroji, Poverty and Un-British Rule in India, Swan Sonnenschein & Co., London, 1901, p. 25. ↩︎
- Bipan Chandra, India’s Struggle for Independence, Penguin, 1989, p. 90. ↩︎
- Sumit Sarkar, Modern India (1885–1947), Macmillan, 1983, p. 40. ↩︎
- Dadabhai Naoroji, Poverty and Un-British Rule in India, 1901, p. 34. ↩︎
- R.C. Dutt, The Economic History of India, Vol. II, Routledge, 1902, p. 45. ↩︎
- Dadabhai Naoroji, Poverty and Un-British Rule in India, p. 61. ↩︎
- Bipan Chandra, Rise and Growth of Economic Nationalism in India, People’s Publishing House, 1966, p. 112. ↩︎
- R.C. Dutt, Economic History of India, Vol. II, p. 102. ↩︎
- Bipan Chandra, India’s Struggle for Independence, p. 92. ↩︎
- R.C. Dutt, Economic History of India, Vol. II, p. 210. ↩︎
- Irfan Habib, Indian Economy 1858–1914, Tulika Books, 2006, p. 76. ↩︎
- Sumit Sarkar, Modern India, p. 43. ↩︎

Pingback: All History Posts in Bengali | Indian History Articles, Notes, MCQ