ঔপনিবেশিক ভারতে ভারতীয় চলচ্চিত্রের বিকাশের প্রধান পর্যায়
ঔপনিবেশিক ভারতে ভারতীয় চলচ্চিত্রের বিকাশ ছিল ভারতের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯১০ থেকে ১৯৪৭ সালের মধ্যে নির্বাক চলচ্চিত্র থেকে সবাক সিনেমায় উত্তরণ, নতুন চলচ্চিত্র প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা এবং জাতীয়তাবাদী ভাবনার বিস্তার ভারতীয় সিনেমাকে এক নতুন পরিচয় দেয়।
ভূমিকা
ঔপনিবেশিক ভারতে চলচ্চিত্রের ইতিহাস কেবল একটি নতুন বিনোদন-মাধ্যমের আবির্ভাবের ইতিহাস নয়; এটি আধুনিক প্রযুক্তি, শহুরে সংস্কৃতি, জাতীয় চেতনা, জনপ্রিয় বিনোদন, সাহিত্য, নাটক, সংগীত এবং ঔপনিবেশিক শাসনের সঙ্গে ভারতীয় সমাজের জটিল মিথস্ক্রিয়ার ইতিহাস। উনিশ শতকের শেষভাগে ইউরোপে চলমান চিত্র বা motion picture-এর প্রযুক্তিগত বিকাশের অল্প সময়ের মধ্যেই ভারতীয় দর্শক এই নতুন মাধ্যমের সঙ্গে পরিচিত হয়। কিন্তু প্রথম দিকে চলচ্চিত্র ছিল মূলত বিদেশি প্রযুক্তি ও বিদেশি প্রদর্শকদের নিয়ন্ত্রণাধীন। বিশ শতকের দ্বিতীয় দশক থেকে ভারতীয় উদ্যোক্তা, প্রযুক্তিবিদ, নাট্যকর্মী ও শিল্পীরা ধীরে ধীরে চলচ্চিত্র নির্মাণের জগতে প্রবেশ করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই এটিকে একটি স্বতন্ত্র ভারতীয় সাংস্কৃতিক শিল্পে রূপান্তরিত করেন। ১৯১০-এর দশকের নির্বাক পৌরাণিক চলচ্চিত্র থেকে ১৯৩০-এর দশকের সবাক চলচ্চিত্র, সংগীতনির্ভর কাহিনি, সামাজিক সমস্যা এবং জাতীয়তাবাদী ইঙ্গিত—এই দীর্ঘ যাত্রাপথ ১৯৪৭ সালের মধ্যে ভারতীয় চলচ্চিত্রকে একটি সুসংগঠিত শিল্প ও শক্তিশালী গণমাধ্যমে পরিণত করেছিল। দাদাসাহেব ফালকে, আরদেশির ইরানি, বাবুরাও পেইন্টার, হিমাংশু রায়, দেবকী বসু, ভি. শান্তারাম, প্রমথেশ বড়ুয়া, মতি গিদওয়ানি প্রমুখ এই বিকাশের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
ভারতে চলচ্চিত্রের প্রাথমিক আগমন ও ১৯১০-এর দশকের পটভূমি
ভারতে চলচ্চিত্র প্রদর্শনের সূচনা ১৯১০-এর কিছু আগে হলেও ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রকৃত ভিত্তি তৈরি হয় বিশ শতকের প্রথম দুই দশকে।
- ১৮৯৬ সালে বোম্বাইয়ের ওয়াটসন হোটেলে লুমিয়ের ভ্রাতৃদ্বয়ের চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে ভারতীয় দর্শক প্রথম সংগঠিতভাবে সিনেমাটোগ্রাফের সঙ্গে পরিচিত হন।1 এরপর কলকাতা, মাদ্রাজ, বোম্বাইসহ বিভিন্ন শহরে travelling cinema, bioscope show এবং স্বল্পদৈর্ঘ্যের actuality film জনপ্রিয় হতে থাকে। এই সময় প্রদর্শিত ছবির অধিকাংশই ছিল ইউরোপীয় বা আমেরিকান। কিন্তু ভারতীয় আলোকচিত্রী ও উদ্যোক্তারা দ্রুত প্রযুক্তিটির সম্ভাবনা বুঝতে শুরু করেন। হীরালাল সেন মঞ্চনাট্যের অংশ চলচ্চিত্রায়িত করে বাংলা অঞ্চলে চলমান চিত্রের ব্যবহার শুরু করেছিলেন;2
- অন্যদিকে হরিশচন্দ্র সখারাম ভাটাভডেকার দৈনন্দিন ঘটনাকে ক্যামেরাবন্দি করেন। এই প্রাথমিক প্রচেষ্টাগুলি পূর্ণদৈর্ঘ্যের কাহিনিচিত্র না হলেও ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রযুক্তিগত ও সাংস্কৃতিক ভূমি প্রস্তুত করেছিল।
- ১৯১০-এর দশকে শহুরে মধ্যবিত্তের বৃদ্ধি, পারসি থিয়েটারের জনপ্রিয়তা, মুদ্রণ সংস্কৃতির প্রসার এবং আধুনিক বিনোদনের চাহিদা চলচ্চিত্রের জন্য একটি সম্ভাবনাময় বাজার তৈরি করে।
দাদাসাহেব ফালকে এবং ভারতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের জন্ম
ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ধুন্দিরাজ গোবিন্দ ফালকে বা দাদাসাহেব ফালকের নাম সর্বাগ্রে স্মরণীয়। ১৯১৩ সালে তাঁর নির্মিত Raja Harishchandra সাধারণভাবে ভারতের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যের দেশীয় নির্বাক কাহিনিচিত্র হিসেবে স্বীকৃত।3 ফালকের গুরুত্ব কেবল একটি চলচ্চিত্র নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়; তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রের সম্ভাব্য ভাষা, বিষয়বস্তু এবং দর্শকভিত্তি সম্পর্কে একটি কার্যকর ধারণা প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর ছবির কাহিনি নেওয়া হয়েছিল পুরাণ ও মহাকাব্যের পরিচিত জগৎ থেকে। এর ফলে চলচ্চিত্রের মতো নতুন ও অপরিচিত মাধ্যমকে ভারতীয় দর্শক সহজেই গ্রহণ করতে পেরেছিলেন। তিনি পরে Mohini Bhasmasur, Lanka Dahan, Shri Krishna Janma, Kaliya Mardan প্রভৃতি পৌরাণিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। ফালকে নিজেই চিত্রনাট্য, সেট, আলোকচিত্র, প্রসেসিং, সম্পাদনা এবং প্রদর্শনসহ চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রায় প্রতিটি বিভাগে কাজ করেছিলেন। সে অর্থে তিনি কেবল পরিচালক নন, ভারতে চলচ্চিত্র উৎপাদনের একটি পূর্ণাঙ্গ কাঠামোর পথিকৃৎ। তাঁর সাফল্য ভারতীয় উদ্যোক্তাদের কাছে প্রমাণ করেছিল যে দেশীয় বিষয় নিয়ে দেশীয় দর্শকের জন্য চলচ্চিত্র নির্মাণ অর্থনৈতিকভাবেও সম্ভব।

🎬 Quick Timeline
ঔপনিবেশিক ভারতে ভারতীয় চলচ্চিত্রের বিকাশ
নির্বাক যুগের বিস্তার ও আঞ্চলিক চলচ্চিত্রকেন্দ্রের উত্থান
ফালকের সাফল্যের পর ১৯১০-এর দশকের শেষভাগ এবং ১৯২০-এর দশকে বোম্বাই, কলকাতা, মাদ্রাজ, পুনে প্রভৃতি শহরে চলচ্চিত্র নির্মাণ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ভারতীয় চলচ্চিত্র আর একজন ব্যক্তির পরীক্ষামূলক উদ্যোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বিভিন্ন studio ও production company গড়ে উঠতে থাকে। বোম্বাইয়ে Kohinoor Film Company, Imperial Film Company, পুনেতে Maharashtra Film Company, কলকাতায় Madan Theatres এবং পরবর্তী সময়ে New Theatres-এর মতো প্রতিষ্ঠান চলচ্চিত্র শিল্পকে সংগঠিত রূপ দেয়। নির্বাক চলচ্চিত্রের একটি বড় সুবিধা ছিল ভাষাগত বাধা তুলনামূলক কম। পর্দায় intertitle ব্যবহার করে একই ছবি বিভিন্ন অঞ্চলে প্রদর্শন করা সম্ভব হতো। ফলে ভারতবর্ষের বহুভাষিক বাজারে পৌরাণিক, ঐতিহাসিক, সামাজিক এবং stunt film সহজে ছড়িয়ে পড়ে। এই সময়েই তারকা-ব্যবস্থার প্রাথমিক রূপ তৈরি হয় এবং নারী অভিনেত্রীর অংশগ্রহণও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। চলচ্চিত্রের সঙ্গে থিয়েটারের গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়; অভিনেতা, কাহিনিকার, সংগীতশিল্পী এবং মঞ্চসজ্জাকারীরা নাট্যজগৎ থেকে সিনেমায় আসতে থাকেন।
পারসি থিয়েটার, পুরাণ ও জনপ্রিয় সংস্কৃতির প্রভাব
ঔপনিবেশিক যুগের ভারতীয় চলচ্চিত্রের নান্দনিক কাঠামো গঠনে পারসি থিয়েটার গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল। ঊনবিংশ শতকের শেষ এবং বিশ শতকের গোড়ার দিকে পারসি নাট্যদলগুলি ভারতের বহু অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে মঞ্চনাটক পরিবেশন করত। জাঁকজমকপূর্ণ দৃশ্যসজ্জা, নাটকীয় সংলাপ, আবেগঘন অভিনয়, সংগীত, পৌরাণিক বা ঐতিহাসিক কাহিনি এবং স্পষ্ট নৈতিক দ্বন্দ্ব ছিল এই নাটকের বৈশিষ্ট্য। প্রাথমিক ভারতীয় চলচ্চিত্র এই নাট্যভাষার অনেক উপাদান গ্রহণ করে। ফালকের পৌরাণিক চলচ্চিত্র থেকে শুরু করে পরবর্তী সামাজিক ছবিতেও নাটকীয়তা, দৃশ্যের সম্মুখমুখী বিন্যাস এবং চরিত্রের স্পষ্ট নৈতিক পরিচয় লক্ষ্য করা যায়। একই সঙ্গে রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ এবং লোককাহিনি থেকে কাহিনি নেওয়ার ফলে চলচ্চিত্র একটি সাংস্কৃতিক পরিচিতি অর্জন করে। ঔপনিবেশিক শাসনের মধ্যে এই পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক কাহিনিগুলি কখনও কখনও সাংকেতিক জাতীয়তাবাদী অর্থও বহন করত। ন্যায়পরায়ণ রাজা, অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, সত্যের জয়—এসব মোটিফ সমকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সহজেই সম্পর্কিত হয়ে উঠত।

📚 Key Facts / Exam Facts
বাবুরাও পেইন্টার ও চলচ্চিত্রভাষার পরিণতি
নির্বাক যুগের আরেক গুরুত্বপূর্ণ নির্মাতা বাবুরাও পেইন্টার। তাঁর Maharashtra Film Company চলচ্চিত্রকে কেবল রেকর্ডকৃত নাটক হিসেবে দেখেনি; সেট, আলো, চিত্ররচনা, ক্যামেরা এবং দৃশ্যগত বিন্যাসের নিজস্ব সম্ভাবনা নিয়ে পরীক্ষা করেছিল। Savkari Pash বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ এতে গ্রামীণ ঋণব্যবস্থা ও কৃষকের দুর্দশার মতো বাস্তব সামাজিক সমস্যাকে চলচ্চিত্রের বিষয় করা হয়েছিল। এই ধরনের প্রচেষ্টা দেখায় যে ভারতীয় সিনেমা খুব দ্রুত পৌরাণিক কাহিনির সীমা অতিক্রম করে সমকালীন সমাজের দিকে তাকাতে শুরু করেছিল। অর্থাৎ ১৯২০-এর দশকের মধ্যেই ভারতীয় চলচ্চিত্রে দুটি প্রবণতা পাশাপাশি দেখা যায়—একদিকে পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক জনপ্রিয় বিনোদন, অন্যদিকে সামাজিক বাস্তবতার প্রতি আগ্রহ। পরবর্তী দশকগুলির ভারতীয় চলচ্চিত্রে এই দ্বৈত প্রবণতা আরও শক্তিশালী হয়।
চলচ্চিত্র শিল্পের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ও স্টুডিও ব্যবস্থা
১৯২০-এর দশকের শেষ থেকে ভারতীয় চলচ্চিত্র ধীরে ধীরে একটি সংগঠিত শিল্পে পরিণত হয়। প্রযুক্তি আমদানি, স্থায়ী studio নির্মাণ, নিয়মিত অভিনেতা-অভিনেত্রী, চিত্রনাট্যকার, পরিচালক, technician এবং distribution network-এর বিকাশ চলচ্চিত্র উৎপাদনকে পেশাদার করে তোলে। কলকাতার Madan Theatres ছিল এই পর্বের অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান। পরে Bombay Talkies, New Theatres, Prabhat Film Company, Wadia Movietone, Imperial প্রভৃতি studio আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলিকে শক্তিশালী করে। Studio system-এর অধীনে শিল্পীরা প্রায় স্থায়ী কর্মী হিসেবে কাজ করতেন এবং একটি production house নিয়মিত ছবি নির্মাণ করত। এই ব্যবস্থা চলচ্চিত্রের প্রযুক্তিগত মান বৃদ্ধি করে এবং অভিনয়, সংগীত, আলোকচিত্র ও পরিচালনায় বিশেষায়ন সম্ভব করে। চলচ্চিত্র আর বিচ্ছিন্ন শিল্পীর উদ্যোগ নয়; একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পক্ষেত্রে পরিণত হয়। একই সঙ্গে সংবাদপত্র, চলচ্চিত্রপত্রিকা, advertisement এবং শহুরে cinema hall-কে কেন্দ্র করে নতুন জনপ্রিয় সংস্কৃতিও গড়ে ওঠে।

১৯৩১: আরদেশির ইরানি ও সবাক চলচ্চিত্রের বিপ্লব
ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ঘটে ১৯৩১ সালে, যখন আরদেশির ইরানি পরিচালিত Alam Ara মুক্তি পায়। এটি ভারতের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যের সবাক feature film হিসেবে পরিচিত। শব্দের আগমন ভারতীয় চলচ্চিত্রের ভাষা সম্পূর্ণ বদলে দেয়। নির্বাক যুগে অভিনয়ের অতিরঞ্জিত অঙ্গভঙ্গি এবং intertitle-এর উপর নির্ভরতা ছিল বেশি; সবাক চলচ্চিত্রের ফলে সংলাপ, গান, সংগীত এবং কণ্ঠস্বর চরিত্র ও কাহিনির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। Alam Ara নিজেই ছিল সংগীত ও নাট্যপ্রভাবসম্পন্ন একটি ছবি এবং এর বিপুল জনপ্রিয়তা ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতাদের দ্রুত sound technology গ্রহণে উৎসাহিত করে। আরদেশির ইরানির অবদান এখানেই ঐতিহাসিক—তিনি ভারতীয় সিনেমাকে silent era থেকে talkie era-য় উত্তরণের নেতৃত্ব দেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলা, তামিল, তেলুগু, মারাঠি এবং অন্যান্য ভারতীয় ভাষায় সবাক চলচ্চিত্র তৈরি হতে শুরু করে।
শব্দের আগমন এবং আঞ্চলিক ভাষার চলচ্চিত্রের বিকাশ
শব্দ প্রযুক্তি ভারতীয় চলচ্চিত্রকে একদিকে নতুন শক্তি দেয়, অন্যদিকে নির্বাক যুগের সর্বভারতীয় বাজারকে ভাষাভিত্তিক অঞ্চলে ভাগ করে। এখন দর্শক নিজের ভাষায় সংলাপ ও গান শুনতে চাইতে শুরু করে। ফলে বাংলা, হিন্দি/উর্দু, তামিল, তেলুগু, মারাঠি প্রভৃতি ভাষায় স্বতন্ত্র চলচ্চিত্র শিল্পের দ্রুত বিকাশ ঘটে। কলকাতার New Theatres বাংলা ও হিন্দি উভয় ভাষায় উচ্চমানের ছবি নির্মাণ করে; বোম্বাই হিন্দি-উর্দু চলচ্চিত্রের প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে; মাদ্রাজ দক্ষিণ ভারতীয় ভাষার চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়। সবাক চলচ্চিত্রের ফলে ভারতীয় সংগীতের বিভিন্ন ধারা—শাস্ত্রীয় সংগীত, লোকসংগীত, ভজন, গজল, কীর্তন এবং নাট্যসংগীত—সিনেমার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়। ভারতীয় জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে গান এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার পিছনে এই ১৯৩০-এর দশকের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা প্রধান ভূমিকা পালন করে।
সাহিত্য, নাটক ও চলচ্চিত্রের সংযোগ
১৯৩০ ও ১৯৪০-এর দশকে ভারতীয় চলচ্চিত্র ক্রমশ সাহিত্য ও আধুনিক নাটকের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক স্থাপন করে। বাংলা চলচ্চিত্রে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং অন্যান্য সাহিত্যিকের রচনা চলচ্চিত্রায়িত হয়। প্রমথেশ বড়ুয়ার Devdas এই ধারার সবচেয়ে বিখ্যাত উদাহরণগুলির একটি। সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্র কাহিনি ও চরিত্রকে নতুন মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা দেয়। কলকাতার New Theatres-এর নির্মাণে সাহিত্য, অভিনয়, সংগীত ও cinematography-র এক পরিশীলিত সমন্বয় দেখা যায়। অন্যদিকে থিয়েটারের অভিনেতা, নির্দেশক এবং নাট্যকারেরাও চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত হন। ফলে ভারতীয় সিনেমা একাধারে আধুনিক প্রযুক্তিগত মাধ্যম এবং পূর্ববর্তী সাহিত্য-নাট্য ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী হয়ে ওঠে। এই যোগসূত্র স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতীয় art cinema এবং realistic cinema-র ভিত্তিও প্রস্তুত করে।
সামাজিক চলচ্চিত্র ও সংস্কারবাদী চিন্তার বিস্তার
ঔপনিবেশিক যুগের শেষ দুই দশকে ভারতীয় চলচ্চিত্র ক্রমশ সামাজিক প্রশ্নের প্রতি মনোযোগী হয়। বর্ণপ্রথা, অস্পৃশ্যতা, নারীশিক্ষা, বিধবা বিবাহ, দারিদ্র্য, শ্রেণিবৈষম্য, গ্রামীণ শোষণ, ধর্মীয় কুসংস্কার ইত্যাদি বিষয় চলচ্চিত্রের কাহিনিতে উঠে আসে। Bombay Talkies-এর Achhut Kanya অস্পৃশ্যতা ও সামাজিক বৈষম্যের বিষয়কে জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে তুলে ধরে। ভি. শান্তারামের বিভিন্ন ছবিতেও সামাজিক সংস্কারের তাগিদ দেখা যায়। এইসব চলচ্চিত্র সরাসরি রাজনৈতিক প্রচার না করলেও ঔপনিবেশিক ভারতের সংস্কারবাদী ও জাতীয়তাবাদী সামাজিক চিন্তার অংশ ছিল। চলচ্চিত্র নির্মাতারা উপলব্ধি করেছিলেন যে সিনেমার বিপুল দর্শকসংখ্যা সমাজ সম্পর্কে মতামত গঠনে কার্যকর হতে পারে। ফলে সিনেমা নিছক বিনোদন থেকে ধীরে ধীরে সামাজিক বক্তব্যের মাধ্যম হয়ে ওঠে।
ঔপনিবেশিক সেন্সরশিপ ও জাতীয়তাবাদী ইঙ্গিত
ব্রিটিশ সরকার চলচ্চিত্রের দ্রুত জনপ্রিয়তা সম্পর্কে সচেতন ছিল এবং এটিকে রাজনৈতিকভাবে সম্ভাব্য বিপজ্জনক মাধ্যম হিসেবে দেখত। ১৯১৮ সালের Cinematograph Act-এর মাধ্যমে চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও সেন্সর ব্যবস্থাকে অধিক সংগঠিত করা হয়। সরাসরি ব্রিটিশবিরোধী বক্তব্য, বিপ্লবী প্রচার, রাষ্ট্রবিরোধী দৃশ্য বা ঔপনিবেশিক কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে এমন বিষয় কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হতো। ফলে ভারতীয় নির্মাতাদের জাতীয়তাবাদী বক্তব্য প্রায়শই প্রতীক, ইতিহাস, পুরাণ বা সামাজিক কাহিনির মাধ্যমে প্রকাশ করতে হতো। ঐতিহাসিক চরিত্রের স্বাধীনতার সংগ্রাম, অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ বা মাতৃভূমির প্রতি আনুগত্যের দৃশ্য সমকালীন দর্শকের কাছে জাতীয়তাবাদী অর্থ বহন করতে পারত। চলচ্চিত্রের এই সাংকেতিক ভাষা ঔপনিবেশিক সেন্সরশিপের মধ্যেও রাজনৈতিক অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ দেয়।

১৯৩০-এর দশকে চলচ্চিত্র, জাতীয়তাবাদ ও আধুনিকতা
জাতীয় আন্দোলন যখন গণভিত্তি লাভ করছে, তখন চলচ্চিত্রও ভারতীয় জনগণের আধুনিক আত্মপরিচয় নির্মাণে ভূমিকা নিতে শুরু করে। শহর, রেল, শিল্প, শিক্ষিত নারী, নতুন পেশাজীবী, গ্রামীণ সংকট, জাতপাত, বিবাহ ও ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্ন চলচ্চিত্রে ক্রমশ উপস্থিত হয়। একই সঙ্গে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার দ্বন্দ্ব ভারতীয় চলচ্চিত্রের একটি স্থায়ী theme হয়ে ওঠে। জাতীয়তাবাদ শুধু ব্রিটিশবিরোধিতা নয়; “আধুনিক ভারত কেমন হবে”—এই প্রশ্নও তার অংশ ছিল। সিনেমা সেই বিতর্কের সাংস্কৃতিক ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়ায়। নারী চরিত্রের পরিবর্তন, সামাজিক সংস্কার, শ্রমজীবী মানুষের উপস্থিতি এবং শিক্ষার গুরুত্ব চলচ্চিত্রকে জাতীয় সমাজ নির্মাণের আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করে।
১৯৪০-এর দশক: যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলন, ১৯৪৩ সালের বাংলার দুর্ভিক্ষ, শ্রমিক ও কৃষক আন্দোলন এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা—এসবের মধ্যে ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্প ১৯৪০-এর দশকে প্রবেশ করে। যুদ্ধের ফলে কাঁচা ফিল্ম আমদানিতে সীমাবদ্ধতা এবং সরকারি নিয়ন্ত্রণের সমস্যা দেখা দিলেও চলচ্চিত্রের জনপ্রিয়তা কমেনি। বরং শহুরে দর্শকের মধ্যে সিনেমা প্রধান গণবিনোদনের মাধ্যম হয়ে ওঠে। একই সময়ে বামপন্থী সাংস্কৃতিক আন্দোলন এবং Indian People’s Theatre Association বা IPTA-র প্রভাব চলচ্চিত্রে নতুন বাস্তববাদী প্রবণতার জন্ম দেয়। খাজা আহমেদ আব্বাস পরিচালিত Dharti Ke Lal বাংলার দুর্ভিক্ষ ও সাধারণ মানুষের দুর্দশাকে চলচ্চিত্রের বিষয় করে। এই ধরনের কাজ স্বাধীনতা-পরবর্তী সমান্তরাল ও সামাজিক বাস্তববাদী চলচ্চিত্রের পূর্বসূরি হয়ে ওঠে।
মতি গিদওয়ানি এবং সিন্ধি-হিন্দি চলচ্চিত্রের পরিসর
ঔপনিবেশিক যুগের চলচ্চিত্র বিকাশের আলোচনায় মতি গিদওয়ানির নামও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণ ও অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত থেকে উত্তর-পশ্চিম ভারতের সাংস্কৃতিক পরিসরকে ভারতীয় সিনেমার বৃহত্তর জগতের সঙ্গে যুক্ত করেন। তাঁর মতো ব্যক্তিত্ব দেখান যে ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাস কেবল বোম্বাই, বাংলা বা মাদ্রাজের কয়েকজন বিখ্যাত পরিচালকের ইতিহাস নয়; সিন্ধ, পাঞ্জাব এবং অন্যান্য অঞ্চলের শিল্পীরাও এই শিল্পের বিকাশে অবদান রেখেছিলেন। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এই সাংস্কৃতিক জগতকে গভীরভাবে আঘাত করে। লাহোর ছিল ঔপনিবেশিক ভারতের একটি উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রকেন্দ্র; দেশভাগের ফলে শিল্পী, technician ও producer-দের একাংশ ভারত ও পাকিস্তানের নতুন সীমান্তের দুই পাশে স্থানান্তরিত হন। ফলে ১৯৪৭ একই সঙ্গে রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং পূর্বতন সর্বভারতীয় চলচ্চিত্রজগতের পুনর্বিন্যাসের বছর।
চলচ্চিত্রে নারী, তারকা ও দর্শকসংস্কৃতির পরিবর্তন
প্রাথমিক নির্বাক যুগে সামাজিক বিধিনিষেধের কারণে নারী চরিত্রে কখনও পুরুষ অভিনেতা অভিনয় করতেন। কিন্তু ধীরে ধীরে নারী অভিনেত্রীরা চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন এবং ১৯২০ ও ১৯৩০-এর দশকে তারকা-সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠেন। সুলোচনা বা Ruby Myers, জুবেইদা, দেবিকা রানি, কানন দেবী, দুর্গা খোটে প্রমুখ নতুন আধুনিক নারী-পরিচয়ের প্রতীক হয়ে ওঠেন। Cinema hall-ও শহুরে সামাজিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পরিসর হয়ে দাঁড়ায়। চলচ্চিত্রপত্রিকা, তারকাদের ছবি, গান, gramophone record এবং বিজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে এক নতুন mass culture গড়ে ওঠে। চলচ্চিত্র এমন একটি মাধ্যম হয়ে ওঠে যা শ্রেণি, ভাষা এবং শিক্ষাগত পার্থক্য অতিক্রম করে বিপুল দর্শকের কাছে পৌঁছতে সক্ষম।

তথ্যচিত্র, সংবাদচিত্র ও ঔপনিবেশিক রাষ্ট্র
কাহিনিচিত্রের পাশাপাশি newsreel ও documentary-ও ঔপনিবেশিক যুগে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ব্রিটিশ সরকার যুদ্ধ, সাম্রাজ্য, সেনাবাহিনী এবং সরকারি কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনমত গঠনের জন্য চলচ্চিত্র ব্যবহার করত। বিশেষত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সরকারি propaganda film ও newsreel-এর গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ভারতীয় দর্শক চলচ্চিত্রকে শুধু fiction নয়, সংবাদ ও বাস্তব ঘটনার দৃশ্যমান নথি হিসেবেও দেখতে অভ্যস্ত হয়। স্বাধীনতার পরে ভারতের তথ্যচিত্র নির্মাণে যে শক্তিশালী সরকারি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা তৈরি হয়, তার প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক পূর্বসূত্র এই ঔপনিবেশিক অভিজ্ঞতার মধ্যেই নিহিত ছিল।
১৯৪৭ সালের প্রাক্কালে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অবস্থান
স্বাধীনতার প্রাক্কালে ভারতীয় চলচ্চিত্র আর পরীক্ষামূলক শিল্প ছিল না; এটি একটি বৃহৎ, বহুভাষিক এবং বাণিজ্যিকভাবে সুসংগঠিত শিল্পে পরিণত হয়েছিল। Bombay, Calcutta, Madras, Pune ও Lahore ছিল গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্রকেন্দ্র। Silent film-এর যুগ অতিক্রম করে sound cinema প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল; playback singing, সংগীতনির্ভর চলচ্চিত্র, studio system, তারকা-ব্যবস্থা, distribution network এবং cinema hall culture দৃঢ় ভিত্তি পেয়েছিল। একই সঙ্গে পৌরাণিক ও বিনোদনমূলক ছবির পাশাপাশি সাহিত্যনির্ভর, সামাজিক সংস্কারবাদী এবং বাস্তবধর্মী চলচ্চিত্রের শক্তিশালী ধারা তৈরি হয়েছিল। ১৯৪৭-এর দেশভাগ চলচ্চিত্রজগতেও শিল্পী ও প্রতিষ্ঠানকে পুনর্বিন্যাস করতে বাধ্য করে, কিন্তু ততদিনে এমন একটি সাংস্কৃতিক ও প্রযুক্তিগত ভিত্তি নির্মিত হয়ে গিয়েছিল যার উপর দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতীয় চলচ্চিত্রের তথাকথিত “Golden Age” বিকশিত হতে পারে।
উপসংহার
অতএব, ১৯১০ থেকে ১৯৪৭ সালের ভারতীয় চলচ্চিত্রের বিকাশকে তিনটি বৃহৎ পর্যায়ে দেখা যায়—প্রথমত, দেশীয় নির্বাক চলচ্চিত্রের জন্ম ও পৌরাণিক কাহিনির মাধ্যমে দর্শক তৈরি; দ্বিতীয়ত, studio system-এর বিস্তার এবং সবাক চলচ্চিত্রের আবির্ভাব; তৃতীয়ত, ১৯৩০ ও ১৯৪০-এর দশকে সাহিত্য, সামাজিক সমস্যা, জাতীয়তাবাদ, সংগীত ও বাস্তবতার সঙ্গে চলচ্চিত্রের ক্রমবর্ধমান সংযোগ। দাদাসাহেব ফালকে ভারতীয়দের নিজেদের চলচ্চিত্র নির্মাণের পথ দেখান; আরদেশির ইরানি sound technology-র যুগের সূচনা করেন; New Theatres, Bombay Talkies, Prabhat প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান চলচ্চিত্রকে পেশাদার শিল্পে রূপ দেয়; আর বিভিন্ন আঞ্চলিক নির্মাতা চলচ্চিত্রকে ভারতের বহুভাষিক সাংস্কৃতিক বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করেন। ঔপনিবেশিক শাসন, সেন্সরশিপ ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ভারতীয় চলচ্চিত্র কেবল বিনোদনের মাধ্যম হয়ে থাকেনি; এটি সামাজিক সংস্কার, সাংস্কৃতিক পরিচয়, আধুনিকতা এবং পরোক্ষ জাতীয়তাবাদী চেতনার শক্তিশালী বাহনে পরিণত হয়েছিল। স্বাধীনতার সময় ভারতীয় চলচ্চিত্র তাই একদিকে ছিল বাণিজ্যিক mass entertainment, অন্যদিকে একটি পরিণত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান—যা স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতীয় সমাজ, রাজনীতি ও সংস্কৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভাষা হয়ে ওঠার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল।
সামগ্রিকভাবে, ঔপনিবেশিক ভারতে ভারতীয় চলচ্চিত্রের বিকাশ কেবল বিনোদনের ইতিহাস নয়; এটি উপনিবেশবাদ, আধুনিকতা, জাতীয়তাবাদ এবং ভারতীয় সমাজের পরিবর্তনের ইতিহাসের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।
Section A- QUIZ: মক টেস্ট দিয়ে নিজেকে যাচাই করুন
ঔপনিবেশিক ভারতে ভারতীয় চলচ্চিত্রের বিকাশ
SSC, NET, SET, WBCS এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য ২০টি গুরুত্বপূর্ণ MCQ।
Section B-Basic MCQ: নিচেhttps://lekhaporaonline.com/history-mock-test-ssc-net-set-2026/র প্রশ্নগুলির উত্তর দিন
ঔপনিবেশিক ভারতে ভারতীয় চলচ্চিত্র: MCQ উত্তর ও ব্যাখ্যা
প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।
Section C-Advanced MCQ: নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দিন
ঔপনিবেশিক ভারতে ভারতীয় চলচ্চিত্র: অ্যাডভান্স লেভেল প্রশ্নোত্তর
SSC, NET, SET, WBCS ও অন্যান্য পরীক্ষার জন্য প্রশ্ন পড়ুন, অপশন মিলিয়ে দেখুন, তারপর “উত্তর দেখুন” বাটনে ক্লিক করুন।
Section D-FAQ: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা ১৮৮৫ সংক্রান্ত জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
1. ভারতের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র কোনটি?
ভারতের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য দেশীয় নির্বাক কাহিনিচিত্র ছিল Raja Harishchandra। দাদাসাহেব ফালকে পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি ১৯১৩ সালে মুক্তি পায়। ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের সূচনায় এটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।
2. দাদাসাহেব ফালকে কেন গুরুত্বপূর্ণ?
দাদাসাহেব ফালকেকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের জনক বলা হয়। তিনি Raja Harishchandra নির্মাণের মাধ্যমে ভারতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র নির্মাণের পথপ্রদর্শক হন এবং পরবর্তী ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের ভিত্তি গড়ে দেন।
3. Alam Ara কেন ঐতিহাসিক?
Alam Ara ছিল ভারতের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র। আরদেশির ইরানি পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি ১৯৩১ সালে মুক্তি পায়। এর মাধ্যমে ভারতীয় সিনেমায় নির্বাক যুগের অবসান ঘটে এবং সংলাপ, গান ও সঙ্গীতনির্ভর নতুন যুগ শুরু হয়।
4. New Theatres-এর ভূমিকা কী ছিল?
কলকাতার New Theatres ১৯৩০-এর দশকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্টুডিও হয়ে ওঠে। বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রে সাহিত্যনির্ভর কাহিনি, সঙ্গীত, উন্নত প্রযুক্তি এবং শিল্পমান প্রতিষ্ঠায় এই সংস্থার বড় ভূমিকা ছিল।
5. ঔপনিবেশিক সেন্সরশিপ ভারতীয় চলচ্চিত্রকে কীভাবে প্রভাবিত করেছিল?
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার চলচ্চিত্রকে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে দেখত। ১৯১৮ সালের Cinematograph Act-সহ বিভিন্ন সেন্সর ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী, ব্রিটিশবিরোধী বা রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয় নিয়ন্ত্রণ করা হতো। ফলে নির্মাতারা অনেক সময় প্রতীক, রূপক ও পরোক্ষ সামাজিক বক্তব্য ব্যবহার করতেন।
6. ১৯৪৭ সালের দেশভাগ ভারতীয় চলচ্চিত্রশিল্পে কী প্রভাব ফেলেছিল?
১৯৪৭ সালের দেশভাগ ভারতীয় চলচ্চিত্রশিল্পে গভীর প্রভাব ফেলে। লাহোরের মতো গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্রকেন্দ্র পাকিস্তানের অংশ হয়ে যায় এবং বহু অভিনেতা, পরিচালক, লেখক ও প্রযুক্তিবিদ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্থানান্তরিত হন। দেশভাগ, উদ্বাস্তু সমস্যা ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা পরবর্তী চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও হয়ে ওঠে।
Last Updated: 8 September 2026
- National Museum of Indian Cinema, “The Beginners”; see also Luke McKernan, “Marius Sestier and the Lumière Cinématographe in India,” documenting the first public screenings at Watson’s Hotel, Bombay, in July 1896. ↩︎
- Erik Barnouw and S. Krishnaswamy, Indian Film, 2nd ed. (New Delhi: Oxford University Press, 1980), sections dealing with the beginnings of cinema in India and the pioneering work of Hiralal Sen and H. S. Bhatavdekar. ↩︎
- Ashish Rajadhyaksha and Paul Willemen, eds., Encyclopaedia of Indian Cinema (London/New Delhi: British Film Institute and Oxford University Press, 1999), entry on D. G. Phalke and Raja Harishchandra (1913); see also British Film Institute, “Raja Harischandra (1913). ↩︎
