Surendranath Banerjee Biography | জীবন, MCQ ও 10 গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (SSC/WB SET/NET)

সূচিপত্র hide

লিখেছেন—

ড. সুভাষ বিশ্বাস,

ইতিহাস বিভাগ,

কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়

[Surendranath Banerjee biography ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তিনি ছিলেন উনিশ শতকের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক নেতা। তিনি ছিলেনভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ নেতা। 1 তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, Indian Association প্রতিষ্ঠা এবং ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন তাঁকে ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান দিয়েছে। এই প্রবন্ধে আমরা তাঁর জীবন, রাজনৈতিক অবদান, ভারত সভার ভূমিকা এবং SSC/WB SET/NET পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ MCQ আলোচনা করব। Surendranath Banerjee biography সম্পর্কে জানা SSC, WB SET ও NET পরীক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।]

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে ‘রাষ্ট্রগুরু’ সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৪৮-১৯২৫) এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ১৮৮৫ সালে জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার আগে তিনিই ছিলেন ভারতের প্রধান রাজনৈতিক নেতা। ভারতবর্ষের মানুষকে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত করার লক্ষ্যে তিনি ১৮৭৬ সালে ‘ভারত সভা’ বা ‘Indian Association’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা ছিল আধুনিক ভারতের প্রথম সার্থক রাজনৈতিক সংগঠন। তিনি ছিলেন একজন নরমপন্থী নেতা বা moderate leader, যিনি ধীরে ধীরে সাংবিধানিক পদ্ধতিতে আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন। তিনি Indian National Congress early leader হিসেবে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

Surendranath Banerjee biography image

সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবন ও কর্ম আধুনিক ভারতের জাতীয়তাবাদের জন্য নিবেদিত ছিল। তিনি ছিলেন একাধারে তুখোড় বক্তা, দূরদর্শী রাজনীতিবিদ এবং আদর্শবাদী শিক্ষক। ১৮৬৯ সালে তিনি আইসিএস (ICS) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন2, কিন্তু ব্রিটিশ সরকারের বর্ণবৈষম্য ও অন্যায়ের কারণে তাঁকে পদচ্যুত করা হয়। এই ব্যক্তিগত আঘাতই তাঁকে জাতীয় রাজনীতিতে পদার্পণ করতে উদ্বুদ্ধ করে।

তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের মূল স্তম্ভ ছিল:

  • গণচেতনা: জনমত গঠনই হলো গণতন্ত্রের মূল শক্তি।
  • সাংবিধানিক আন্দোলন: সশস্ত্র বিপ্লবের বদলে নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ।
  • জাতীয় ঐক্য: ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল ভারতীয়কে এক পতাকাতলে আনা।
  • মধ্যবিত্তের অংশগ্রহণ: জমিদারদের বদলে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষকে রাজনীতির মূলস্রোতে আনা।
https://lekhaporaonline.com/%e0%a6%ac%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%ae%e0%a6%9a%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a6%9f%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a7%8b%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af

ঊনবিংশ শতাব্দীতে তৎকালীন সংগঠনগুলো (যেমন: ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন) মূলত জমিদার ও অভিজাত শ্রেণির স্বার্থ রক্ষা করত। সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় উপলব্ধি করেছিলেন যে, ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে একটি ব্যাপক গণভিত্তি সম্পন্ন সংগঠন প্রয়োজন।

এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ১৮৭৬ সালের ২৬ জুলাই কলকাতার অ্যালবার্ট হলে (বর্তমান কফি হাউস সংলগ্ন) আনন্দমোহন বসু-র সহযোগিতায় তিনি ভারত সভা বা Indian Association প্রতিষ্ঠা করেন।3 এটি ছিল তৎকালীন ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক মঞ্চ।


ভারত সভা কেবল কলকাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এর লক্ষ্য ছিল সর্বভারতীয়। সংগঠনটির প্রধান উদ্দেশ্যগুলো ছিল:

  1. শক্তিশালী জনমত গঠন: রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি।
  2. রাজনৈতিক ঐক্য: ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে অভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচির আওতায় আনা।
  3. হিন্দু-মুসলিম মৈত্রী: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করে জাতীয় আন্দোলনকে শক্তিশালী করা।
  4. জনসাধারণের অংশগ্রহণ: কৃষক ও শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষকে আন্দোলনের অংশীদার করে তোলা।

ভারত সভা (Indian Association, ১৮৭৬) ছিল উনিশ শতকের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক সংগঠন। ভারত সভার নেতৃত্বে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ব্রিটিশ সরকারের একাধিক বৈষম্যমূলক আইনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন।

উনিশ শতকের শেষভাগে ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের উচ্চ প্রশাসনিক পদে প্রবেশ সীমিত করার উদ্দেশ্যে আইসিএস (ICS) পরীক্ষার বয়সসীমা ২১ বছর থেকে কমিয়ে ১৯ বছর করে।4 এই সিদ্ধান্ত ভারতীয় শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজের জন্য মারাত্মক বাধা সৃষ্টি করে, কারণ ইংল্যান্ডে গিয়ে কম বয়সে পরীক্ষা দেওয়া অধিকাংশ ভারতীয়ের পক্ষে অসম্ভব ছিল।

এই বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দেশব্যাপী ভ্রমণ করে জনমত গঠন করেন। তিনি সভা, সমাবেশ ও বক্তৃতার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করেন। এর ফলে প্রথমবারের মতো একটি সর্বভারতীয় স্তরে ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক প্রতিবাদ গড়ে ওঠে।

👉 এই আন্দোলনের গুরুত্ব—

ভবিষ্যৎ কংগ্রেস আন্দোলনের ভিত্তি স্থাপন করে

এটি ছিল ভারতের প্রথম সর্বভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলন

জাতীয়তাবাদের বীজ বপন করে

এই আইনগুলির লক্ষ্য ছিল ভারতীয় জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশকে রুদ্ধ করা এবং ব্রিটিশ শাসনের সমালোচনাকে দমন করা।


১৮৭৮ সালে প্রবর্তিত Vernacular Press Act ছিল ব্রিটিশ সরকারের এক চরম দমনমূলক পদক্ষেপ।5 এই আইনের মাধ্যমে—

  • বাংলা, হিন্দি, উর্দু ইত্যাদি ভারতীয় ভাষার সংবাদপত্রগুলিকে কঠোর নিয়ন্ত্রণে আনা হয়
  • সরকারবিরোধী বা সমালোচনামূলক কোনো লেখা প্রকাশ করলে সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা ম্যাজিস্ট্রেটদের দেওয়া হয়
  • কোনো বিচার বা আপিলের সুযোগ রাখা হয়নি
  • ইংরেজি ভাষার সংবাদপত্রগুলিকে এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়

📌 ফলে এটি ছিল সম্পূর্ণ বৈষম্যমূলক আইন, যা ইউরোপীয় ও ভারতীয়দের মধ্যে স্পষ্ট বিভেদ সৃষ্টি করে।

👉 উল্লেখযোগ্য ঘটনা: Amrita Bazar Patrika এই আইনের হাত থেকে বাঁচতে এক রাতের মধ্যে বাংলা থেকে ইংরেজি ভাষায় প্রকাশ শুরু করে—যা এই আইনের বিরুদ্ধে এক অভিনব প্রতিবাদ হিসেবে ইতিহাসে বিখ্যাত।


একই বছরে প্রবর্তিত Arms Act-এর মাধ্যমে6

  • ভারতীয়দের অস্ত্র ধারণের অধিকার সীমিত করা হয়
  • অস্ত্র রাখার জন্য লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হয়
  • ইউরোপীয়দের ক্ষেত্রে এই আইন কার্যত প্রযোজ্য ছিল না

📌 এর ফলে স্পষ্ট হয় যে ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের উপর অবিশ্বাস ও দমননীতি চালাতে চেয়েছিল।


এই দমনমূলক আইনগুলির বিরুদ্ধে Indian Association বা ভারত সভা, যার নেতৃত্বে ছিলেন Surendranath Banerjee, তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে।

  • বিশাল জনসভা ও গণসমাবেশ
  • ব্রিটিশ সরকারের কাছে পিটিশন পাঠানো
  • সংবাদপত্রের মাধ্যমে প্রচার ও জনমত গঠন
  • সারা দেশে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি

📌 এই আন্দোলন ছিল ভারতের প্রথম সংগঠিত রাজনৈতিক প্রতিবাদ আন্দোলনগুলির মধ্যে অন্যতম


এই আন্দোলনের ফলে ভারতীয় রাজনীতিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যায়—

১. সংবাদপত্রের রাজনৈতিক গুরুত্ব বৃদ্ধি

সংবাদপত্র কেবল খবরের মাধ্যম না থেকে রাজনৈতিক আন্দোলনের শক্তিশালী হাতিয়ারে পরিণত হয়।

২. জাতীয় চেতনার বিকাশ

ভারতীয়দের মধ্যে স্বাধীনতা, অধিকার ও মতপ্রকাশের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।

৩. সংগঠিত রাজনৈতিক আন্দোলনের সূচনা

ভারত সভার নেতৃত্বে এই আন্দোলন পরবর্তীকালের জাতীয় আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করে।

৪. ব্রিটিশ সরকারের উপর চাপ

এই বিরোধিতার ফলে ব্রিটিশ সরকার ধীরে ধীরে তাদের নীতিতে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়। পরবর্তীকালে Lord Ripon ক্ষমতায় এসে ১৮৮২ সালে Vernacular Press Act বাতিল করেন।


👉 Vernacular Press Act = সংবাদপত্রের স্বাধীনতার উপর আঘাত
👉 Arms Act = ভারতীয়দের প্রতি বৈষম্যের প্রতীক
👉 ভারত সভা = প্রথম আধুনিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলির একটি
👉 আন্দোলন = জাতীয়তাবাদের প্রাথমিক ধাপ


দেশীয় সংবাদপত্র আইন ও অস্ত্র আইন বিরোধী আন্দোলন ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ভারতীয়দের প্রাথমিক রাজনৈতিক প্রতিরোধের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই আন্দোলন শুধু দমনমূলক আইনগুলির বিরুদ্ধে প্রতিবাদই নয়, বরং ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বীজ বপনের ক্ষেত্র তৈরি করে। সংবাদপত্র, জনমত ও সংগঠিত প্রতিবাদের মাধ্যমে ভারতীয়রা বুঝতে পারে যে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমেই স্বাধীনতার পথে এগোনো সম্ভব।

Ilbert Bill 1884 support meeting at Bombay Town Hall illustration depicting British India political gathering
স্যার কোর্টেনি ইলবার্ট
  1. ১৮৮৩ সালে লর্ড রিপন-এর শাসনকালে প্রস্তাবিত ইলবার্ট বিল (Ilbert Bill) ঔপনিবেশিক শাসনের বিচারব্যবস্থায় এক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রচেষ্টা ছিল।7 এটি ব্রিটিশ সিভিল সার্ভেন্ট স্যার কোর্টেনি ইলবার্ট কর্তৃক প্রণীত হয়েছিল এবং তাঁর নামানুসারেই এর নামকরণ করা হয়। সেই সময় তিনি ভারতের গভর্নর-জেনারেল লর্ড রিপনের নেতৃত্বাধীন ভারত পরিষদের (Council of India) আইন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
  2. এই বিলটি ব্রিটিশ ভারতের Imperial Legislative Council-এ উত্থাপিত হয়ে ভারতীয় বিচারকদের ইউরোপীয়দের বিচার করার অধিকার দিতে চেয়েছিল। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বর্ণবৈষম্যমূলক আইনের সংশোধন করে আইনের দৃষ্টিতে সমতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বিলটি ঘোষণার পর ইউরোপীয় সম্প্রদায়, বিশেষত ব্রিটিশ প্ল্যান্টার ও অ্যাংলো-ইন্ডিয়ানরা তীব্র বিরোধিতা শুরু করে। তারা ভারতীয় বিচারকদের অযোগ্য বলে প্রচার চালায় এবং “White Mutiny”8 নামে পরিচিত আন্দোলন গড়ে তোলে। এর ফলে বর্ণবাদী মনোভাব স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়।
  3. অন্যদিকে, ভারত সভা-র নেতৃত্বে ভারতীয় শিক্ষিত সমাজ বিলটির পক্ষে জনমত গঠন করে। সভা, পিটিশন ও প্রচারের মাধ্যমে তারা বিচারিক সমতা ও আত্মমর্যাদার দাবি জোরালো করে, যা জাতীয়তাবাদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
  4. শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ সরকার চাপের মুখে বিলটি সংশোধন করে ১৮৮৪ সালে পাশ করে। এতে ইউরোপীয় অভিযুক্তদের জন্য জুরি বোর্ডে অর্ধেক ইউরোপীয় সদস্য রাখার বিধান যুক্ত হয়, ফলে মূল সমতার নীতি দুর্বল হয়ে পড়ে।

👉 Ilbert Bill আন্দোলনের গুরুত্ব—

  • ভারতীয়দের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্য ও জাতীয় চেতনার বিকাশ
  • আত্মসম্মান ও সমতার দাবির শক্তিশালী প্রকাশ
  • ব্রিটিশ বর্ণবৈষম্যের প্রকৃত রূপ উন্মোচিত
  • ১৮৮৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পথ সুগম
  • সংবাদপত্র ও জনমতের রাজনৈতিক ভূমিকা বৃদ্ধি

উপসংহার: Ilbert Bill আন্দোলন কেবল একটি আইনি বিতর্ক ছিল না; এটি ভারতীয় জাতীয়তাবাদের উত্থানে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে ইতিহাসে চিহ্নিত।

ভারত সভা শুধুমাত্র শহুরে মধ্যবিত্তদের সংগঠন ছিল না; এটি গ্রামীণ কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার দিকেও সমান গুরুত্ব দেয়।

১৮৮৫ সালের Bengal Tenancy Act পাশের সময় কৃষকদের অধিকার সংরক্ষণের প্রশ্নে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এই আইনের মাধ্যমে জমিদারদের অত্যাচার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং প্রজাদের স্বার্থ আংশিকভাবে সুরক্ষিত হয়।

👉 এই আন্দোলনের তাৎপর্য—

ভবিষ্যৎ গণভিত্তিক আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি হয়

জাতীয় আন্দোলনে কৃষক শ্রেণির অন্তর্ভুক্তি ঘটে

ভারত সভা একটি সর্বস্তরের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনে পরিণত হয়


সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝতে পেরেছিলেন যে একটি জাতীয় স্তরের সংগঠনের প্রয়োজন। এই লক্ষ্যেই তিনি ১৮৮৩ সালে কলকাতায় সর্বভারতীয় জাতীয় সম্মেলন (All India National Conference) আহ্বান করেন। এটি ছিল আধুনিক ভারতের প্রথম জাতীয় সংসদ। ১৮৮৫ সালে যখন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়9, তখন সুরেন্দ্রনাথের এই উদ্যোগ কংগ্রেসের জন্য পথ প্রশস্ত করে দেয়। অবশেষে ১৮৮৬ সালে ভারত সভা জাতীয় কংগ্রেসের সাথে একীভূত হয়।

১৮৯৫ ও ১৯০২ সালে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দু’বার Indian National Congress-এর সভাপতি নির্বাচিত হন, যা তাঁর রাজনৈতিক নেতৃত্বের গুরুত্বকে স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে। এই সময়ে তিনি নরমপন্থী (Moderate) ধারার অন্যতম প্রধান মুখপাত্র হিসেবে সাংবিধানিক পদ্ধতির মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকারের কাছে দাবিদাওয়া উত্থাপন করেন। তাঁর সভাপতিত্বে কংগ্রেস সংগঠন আরও সুসংগঠিত হয় এবং জাতীয় আন্দোলনে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর নেতৃত্ব দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি সর্বভারতীয় পরিসরে এক প্রভাবশালী নেতায় পরিণত হন।

১৯০৫ সালে লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় স্বদেশি আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেন।10 তিনি জনসভা, বক্তৃতা এবং সংগঠনের মাধ্যমে জনগণকে এই অন্যায় বিভাজনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করেন। তাঁর নেতৃত্বে আন্দোলন কেবল প্রতিবাদেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা বয়কট, স্বদেশি দ্রব্য ব্যবহার এবং জাতীয় চেতনার প্রসারে এক নতুন গতি সঞ্চার করে। এই আন্দোলন ভারতীয় জাতীয়তাবাদী সংগ্রামকে আরও ব্যাপক ও শক্তিশালী করে তোলে।

১৯১৯ সালে ঘোষিত মন্তেগু-চেমসফোর্ড সংস্কারকে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় একজন নরমপন্থী নেতা11 হিসেবে সমর্থন করেন। তিনি মনে করতেন যে এই সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে ভারতীয়দের প্রশাসনে অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং ধীরে ধীরে স্বশাসনের পথ প্রশস্ত হবে। তবে এই অবস্থানের জন্য তিনি অনেক জাতীয়তাবাদীর সমালোচনার সম্মুখীন হন, কারণ তখনকার রাজনৈতিক পরিবেশে অধিকাংশ নেতাই ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন।

‘দ্য বেঙ্গলি’12 পত্রিকা ছিল সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর রাজনৈতিক ও বৌদ্ধিক কর্মকাণ্ডের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তিনি এই ইংরেজি সাপ্তাহিক পত্রিকাটি সম্পাদনা ও পরিচালনার মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসনের নানা অন্যায়, বৈষম্য ও দমননীতির বিরুদ্ধে জনমত গঠন করেন। ‘The Bengalee’ কেবল সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যম ছিল না, বরং এটি জাতীয়তাবাদী চিন্তা, রাজনৈতিক সচেতনতা এবং সাংবিধানিক আন্দোলনের আদর্শ প্রচারের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়। এর মাধ্যমে তিনি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজকে রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করেন এবং ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন।

১৯২৫ সালের প্রাদেশিক আইনসভা নির্বাচনে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘদিনের নরমপন্থী ও সাংবিধানিক রাজনীতির প্রবক্তা হিসেবে তিনি এই নির্বাচনে প্রার্থী হন, তবে তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাঁর অনুকূলে ছিল না। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ধারা বদলে যায় এবং অসহযোগ আন্দোলনের প্রভাবে জনমত ক্রমশ কংগ্রেসের নবীন নেতৃত্ব ও আরও দৃঢ় সংগ্রামমুখী রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়ে। এর ফলে নির্বাচনে তিনি প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেননি এবং পরাজিত হন। এই পরাজয় তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের শেষ অধ্যায়কে চিহ্নিত করে এবং একই বছরই (১৯২৫) তাঁর মৃত্যু ঘটে, যা এক যুগের অবসান নির্দেশ করে।

উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে, ১৮৬২ সালে Girish Chandra Ghosh কলকাতায় একটি ইংরেজি ভাষার সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠা করেন, যার নাম ছিল The Bengalee। পত্রিকাটি শুরু থেকেই জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারাকে সমর্থন করত এবং ব্রিটিশ শাসনের নানা নীতির সমালোচনায় সরব ছিল। পরবর্তীকালে এই পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন Surendranath Banerjee, যিনি তখনকার জাতীয়তাবাদী রাজনীতির একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। তাঁর সম্পাদনায় The Bengalee উনিশ শতকের শেষভাগ এবং বিংশ শতকের গোড়ার দিকে অন্যতম জনপ্রিয় সাপ্তাহিক পত্রিকায় পরিণত হয়। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে Surat Split-এর পর পত্রিকাটি কংগ্রেসের উদারপন্থী (Moderate) গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন জানায়। একইসঙ্গে স্বদেশি আন্দোলনের মতো আন্দোলনগুলিতেও পত্রিকাটি তুলনামূলকভাবে সংযত ও মধ্যপন্থী অবস্থান গ্রহণ করে। এর ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাঠকসংখ্যা ও জনপ্রিয়তা কিছুটা হ্রাস পায়।

১৯২৫ সালে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর পত্রিকার প্রভাব আরও কমে যায়। এরপর ১৯৩১ সালে পত্রিকাটি দুটি সংস্করণে প্রকাশিত হতে শুরু করে—শহরাঞ্চলের জন্য সকালে The Bengalee এবং গ্রামাঞ্চলের জন্য সন্ধ্যায় Calcutta Evening News নামে। তবে একই বছর The Bengalee পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীকালে ১৯৩২ সালে এই দুই সংস্করণকে একত্রিত করে নতুন নামে—The Star of India—পুনর্গঠন করা হয়। এইভাবে The Bengalee পত্রিকাটি একসময়কার প্রভাবশালী জাতীয়তাবাদী সংবাদপত্র হিসেবে ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে।


সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল রাজনীতি করেননি, তিনি জাতিকে শিক্ষিত করেছেন। তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা ‘দ্য বেঙ্গলি’ (The Bengalee) জাতীয়তাবাদের প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিল। তাঁর বাগ্মিতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে ব্রিটিশরা তাঁকে সমীহ করত। তিনি দেখিয়েছিলেন কীভাবে আইনি ও সাংবিধানিক পথেও সাম্রাজ্যবাদকে চ্যালেঞ্জ করা যায়।

https://lekhaporaonline.com/%e0%a7%a7%e0%a7%aa%e0%a6%87-%e0%a6%86%e0%a6%97%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%9f-%e0%a7%a7%e0%a7%af%e0%a7%aa%e0%a7%ad-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a6%be

আজকের আধুনিক ভারতের যে রাজনৈতিক কাঠামো, তার অনেকখানিই সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও ভারত সভার কাছে ঋণী। ভারত সভাই প্রথম শিখিয়েছিল যে ভারত একটি রাষ্ট্র এবং তার প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক অধিকার সমান। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে ভারত সভা ছিল প্রথম সেই সফল পরীক্ষাগার, যেখানে ‘জাতীয়তাবাদ’-এর বীজ রোপণ করা হয়েছিল। সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শ ও ভারত সভার কর্মপন্থা পরবর্তীকালে মহাত্মা গান্ধী থেকে শুরু করে সুভাষচন্দ্র বসুর মতো নেতাদেরও কোনো না কোনোভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।

  • ১০ নভেম্বর ১৮৪৮ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ
  • একটি শিক্ষিত ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম, যা তাঁর ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে

  • ইংল্যান্ডে গিয়ে Indian Civil Service (ICS) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ
  • প্রথমদিকের ভারতীয়দের মধ্যে অন্যতম যিনি এই কৃতিত্ব অর্জন করেন

  • ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে বিরোধের কারণে ICS চাকরি থেকে বরখাস্ত
  • এই ঘটনা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়

  • আনন্দমোহন বসুর সঙ্গে Indian Association প্রতিষ্ঠা
  • উদ্দেশ্য: সর্বভারতীয় রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলা

  • ICS পরীক্ষার বয়সসীমা কমানোর বিরুদ্ধে দেশব্যাপী আন্দোলন
  • এটি ভারতের প্রথম সর্বভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে পরিচিত

  • Vernacular Press Act-এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ
  • সংবাদপত্রের স্বাধীনতার দাবিতে নেতৃত্ব প্রদান

  • Ilbert Bill সমর্থনে জনমত গঠন
  • ভারতীয়দের বিচারিক সমতার দাবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

  • ভারত সভার কার্যকলাপ Indian National Congress প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে
  • জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব সুস্পষ্ট হয়

  • দু’বার Indian National Congress-এর সভাপতি নির্বাচিত
  • জাতীয় আন্দোলনে তাঁর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়

  • বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে স্বদেশি আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা
  • জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে নতুন গতি প্রদান

  • Moderate নেতা হিসেবে সাংবিধানিক সংস্কারকে সমর্থন
  • এর ফলে কিছু জাতীয়তাবাদীদের সমালোচনার সম্মুখীন হন

  • ব্রিটিশ সরকারের অধীনে বাংলার মন্ত্রী (Minister) নিযুক্ত
  • এটি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বিতর্কিত অধ্যায়

  • ৬ আগস্ট ১৯২৫ সালে তাঁর মৃত্যু
  • ভারতীয় জাতীয়তাবাদের এক গুরুত্বপূর্ণ যুগের অবসান

আরও পড়ুন:

https://lekhaporaonline.com/%e0%a6%a1%e0%a6%83-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%9a%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%86%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%a8

Surendranath Banerjee সম্পর্কে আরও জানতে Wikipedia দেখুন।

Surendranath Banerjee

এই ধরনের আরও বিভিন্ন বিষয়ে জানতে আমাদের ওয়েবসাইটটি দেখন এবং এখানে ক্লিক করুন

Interactive History Quiz

মক টেস্ট: সুরেন্দ্রনাথ ও ভারত সভা

আপনার ইতিহাস জ্ঞান যাচাই করুন।

প্রতি প্রশ্নে ১৫ সেকেন্ড সময় | লিখেছেন ড. সুভাষ বিশ্বাস

Question 1 of 20 ⏱ 15s

Loading question…

ফলাফল

0 Score

Your Best Score: 0


Surendranath Banerjee History Q&A
আপনি ০ টি উত্তর দেখেছেন
Surendranath Banerjee History Q&A
আপনি ০ টি উত্তর দেখেছেন

১. সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় কে ছিলেন?

সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন উনিশ শতকের একজন বিশিষ্ট ভারতীয় জাতীয়তাবাদী নেতা, যিনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

২. ‘ভারত সভা‘ (Indian Association) কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

ভারত সভা বা Indian Association (১৮৭৬) ছিল প্রথম সর্বভারতীয় রাজনৈতিক সংগঠনগুলির একটি, যা সাধারণ জনগণকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করে এবং জাতীয়তাবাদের ভিত্তি তৈরি করে।

৩. সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘রাষ্ট্রগুরু’ বলা হয় কেন?

তাঁকে ‘রাষ্ট্রগুরু’ বলা হয় কারণ তিনি জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনা ও জাতীয়তাবাদী ভাবনা জাগিয়ে তোলেন।

৪. সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ICS চাকরি কেন চলে যায়?

ব্রিটিশ সরকারের বৈষম্যমূলক নীতির কারণে তাঁকে ICS চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়, যা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

৫. Ilbert Bill কী এবং এতে সুরেন্দ্রনাথের ভূমিকা কী?

Ilbert Bill (১৮৮৩) ছিল একটি আইন, যা ভারতীয় বিচারকদের ইউরোপীয়দের বিচার করার অধিকার দিতে চেয়েছিল। সুরেন্দ্রনাথ এর সমর্থনে আন্দোলন করেন।

৬. Vernacular Press Act কেন প্রবর্তিত হয়েছিল?

১৮৭৮ সালের Vernacular Press Act ভারতীয় ভাষার সংবাদপত্রকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ব্রিটিশ সরকার প্রবর্তন করে, যাতে জাতীয়তাবাদী মত দমন করা যায়।

৭. The Bengalee পত্রিকা কী ছিল?

The Bengalee ছিল একটি ইংরেজি ভাষার জাতীয়তাবাদী পত্রিকা, যার সম্পাদক ছিলেন সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।

৮. সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক মতাদর্শ কী ছিল?

তিনি নরমপন্থী (Moderate) নেতা ছিলেন এবং সাংবিধানিক পদ্ধতিতে ব্রিটিশ শাসনের বিরোধিতা করতেন।

৯. বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে সুরেন্দ্রনাথের ভূমিকা কী ছিল?

১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের তিনি তীব্র বিরোধিতা করেন এবং জনমত গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১০. Indian Association কীভাবে Indian National Congress-এর সঙ্গে যুক্ত হয়?

১৮৮৬ সালে Indian Association কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত হয়, যা জাতীয় আন্দোলনকে আরও সংগঠিত করে।

১১. Civil Service আন্দোলন কী ছিল?

ICS পরীক্ষার বয়সসীমা কমিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে যে আন্দোলন হয়েছিল, তাকে Civil Service আন্দোলন বলা হয়—এতে সুরেন্দ্রনাথ নেতৃত্ব দেন।

১২. White Mutiny কী?

Ilbert Bill-এর বিরোধিতায় ইউরোপীয়দের প্রতিবাদ আন্দোলনকে White Mutiny বলা হয়।

১৩. Surendranath Banerjee কেন moderate leader হিসেবে পরিচিত?

সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সংবিধানসম্মত ও শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে রাজনৈতিক অধিকার অর্জনের পক্ষে ছিলেন। তিনি পিটিশন, জনমত গঠন ও আলোচনার মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে বিশ্বাস করতেন। তাই তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের একজন গুরুত্বপূর্ণ moderate leader হিসেবে পরিচিত।

————– আরও পড়ুন —————

https://lekhaporaonline.com/%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b7-%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b9%e0%a6%b0%e0%a7%81-%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%a4%e0%a7%8d
  1. Bipan Chandra, India’s Struggle for Independence, Penguin, Page: ~ 120–125 ↩︎
  2. Sumit Sarkar, Modern India 1885–1947, Macmillan, Page: ~ 25–27 ↩︎
  3. Sekhar Bandyopadhyay, From Plassey to Partition, Page: ~ 180–182 ↩︎
  4. Bipan Chandra, Modern India, Page: ~ 100–102 ↩︎
  5. Sumit Sarkar, Modern India, Page: ~ 35–36 ↩︎
  6. Bipan Chandra, India’s Struggle for Independence, Page: ~ 105 ↩︎
  7. Sekhar Bandyopadhyay, From Plassey to Partition, Page: ~ 185–187 ↩︎
  8. Sekhar Bandyopadhyay, Page: ~ 186 ↩︎
  9. Bipan Chandra, India’s Struggle for Independence, Page: ~ 130 ↩︎
  10. Sekhar Bandyopadhyay, Page: ~ 210–215 ↩︎
  11. Sumit Sarkar, Modern India, Page: ~ 40–45 ↩︎
  12. R.C. Majumdar, History of the Freedom Movement in India, Page: ~ 300–305 ↩︎

1 thought on “Surendranath Banerjee Biography | জীবন, MCQ ও 10 গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (SSC/WB SET/NET)”

  1. Pingback: All History Posts in Bengali | Indian History Articles, Notes, MCQ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top