1. ভূমিকা: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা ১৮৮৫
১৮৮৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা আধুনিক ভারতের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিভিন্ন দেশের জাতীয়তাবাদ ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে কোনো-না-কোনো সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়। ভারতের জাতীয় কংগ্রেসও যেন ঈশ্বর-প্রেরিত তেমনই একটি সংগঠন। 1885 খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা ভারতীয় জাতীয়তাবাদ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা। মূলতঃ এই প্রতিষ্ঠানটিকে কেন্দ্র করেই পরবর্তীকালে ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিচালিত হয়েছে। ঐতিহাসিক ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার মন্তব্য করেছেন, প্রাণদায়িনী নদী গঙ্গা যেমন ভারতবর্ষকে সুজলা সুফলা করেছে, তেমনি 1885 খ্রিস্টাব্দে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পরবর্তী 60 বছর এই প্রতিষ্ঠান ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিল।1 জাতীয় কংগ্রেসের ইতিহাস, কংগ্রেসের উৎপত্তি সম্পর্কে নানা মতামত প্রচলিত আছে।

2. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা ১৮৮৫: দিল্লির দরবার:
1877 সালে মহারানি ভিক্টোরিয়াকে ‘ভারত সম্রাজ্ঞী’ (Empress of India) উপাধিতে ভূষিত করার উদ্দেশ্যে দিল্লিতে এক বিশাল রাজকীয় দরবারের আয়োজন করা হয়। এই জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের পেছনে ব্রিটিশদের সাম্রাজ্যবাদী উদ্দেশ্য থাকলেও পরোক্ষভাবে এটি ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই প্রথমবার ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের প্রভাবশালী দেশীয় রাজন্যবর্গ, শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজ এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ একই স্থানে সমবেত হওয়ার সুযোগ পান। অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন, এই বিশাল সমাবেশে বিভিন্ন অঞ্চলের নেতাদের মধ্যে যে মতবিনিময় ও সংহতি তৈরি হয়, তা থেকেই একটি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বা কংগ্রেস গঠনের প্রাথমিক চিন্তাটি দানা বাঁধতে শুরু করে।2 অর্থাৎ, ব্রিটিশদের তৈরি এই মঞ্চটিই অজান্তে ভারতীয় নেতাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রেরণা দেয়।
3. কলকাতার প্রদর্শনী:
জাতীয় কংগ্রেসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক জি. সুব্রহ্মণ্য আয়ার ১৮৮৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠার পটভূমি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ১৮৮৩ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত ‘আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী’র (International Exhibition) গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। এই প্রদর্শনীর আকর্ষণে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে বহু শিক্ষিত ও সচেতন ব্যক্তিবর্গ কলকাতায় একত্রিত হন। আয়ারের মতে, এই প্রদর্শনীর অবসরে বিভিন্ন প্রদেশের নেতৃবৃন্দ ঘরোয়া আলোচনায় বসেন এবং অনুভব করেন যে, কেবল বাণিজ্যিক বা সাংস্কৃতিক মেলা নয়, বরং রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের জন্য একটি স্থায়ী মঞ্চ প্রয়োজন। এই প্রেক্ষাপটটিই পরবর্তীতে 1885 সালের কংগ্রেসের মূল ভিত্তি তৈরিতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।

4. রিপনের বিদায় সম্বর্ধনা:
লর্ড রিপন তাঁর উদারনৈতিক সংস্কার এবং বিশেষ করে ‘ইলবার্ট বিল’-এর প্রতি সমর্থনের কারণে ভারতীয়দের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। 1884 সালে যখন তিনি ভারত ত্যাগ করেন, তখন কলকাতায় তাঁর সম্মানে এক অভূতপূর্ব বিদায় সম্বর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। এই বিপুল জনসমাগম এবং বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মধ্যে যে আবেগঘন একতা দেখা দেয়, তা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এই সমাবেশ থেকেই নেতৃবৃন্দ বুঝতে পারেন যে, ভারতীয়রা এখন একটি একক রাজনৈতিক পতাকাতলে আসার জন্য প্রস্তুত। এই সংহতির বোধই একটি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক সংগঠন বা ‘ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস’ স্থাপনের ধারণাকে আরও জোরালো করে তোলে।
5. থিওসফিক্যাল সোসাইটির ভূমিকা:
শ্রীমতী অ্যানি বেসান্ত বলেন যে, 1884 খ্রিস্টাব্দে সতেরো জন সদস্যের উপস্থিতিতে মাদ্রাজে ‘থিওসফিক্যাল সোসাইটি’-র বার্ষিক অধিবেশন থেকে ‘মাতৃভূমিকে রক্ষার জন্য একটি জাতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের’ প্রেরণা আসে3 এবং জাতীয় কংগ্রেসের মাধ্যমে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়। বলা বাহুল্য, শ্রীমতী অ্যানি বেসান্ত কথিত মতবাদটি কোনোক্রমেই যুক্তিসম্মত মনে হয় না। তিনি ঐ সতেরো জনের মধ্যে এমন অনেক নেতার নাম করেন যারা তখন মাদ্রাজে উপস্থিত ছিলেন না। উদাহরণ হিসাবে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম বলা যায়। অধ্যাপক সুন্দররাজন ঐ সতেরো জনের সভায় একজন ছিলেন। কিন্তু তিনি বলেন যে, ঐ সভায় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার কোনো কথা হয়নি। বলা বাহুল্য ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার উপরোক্ত কোনো মতকেই স্বীকার করেন না।

6. নৌরজীর অবদান:
ভারতের ‘পিতামহ’ হিসেবে পরিচিত দাদাভাই নওরোজীর অবদান জাতীয় কংগ্রেসের ইতিহাসে অনস্বীকার্য। অনেক ইতিহাসবিদের মতে, কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পেছনে তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দীর্ঘদিনের লড়াই মূল শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। নওরোজী অনেক আগে থেকেই লন্ডনে ‘ইস্ট ইন্ডিয়া অ্যাসোসিয়েশন’ গঠন করে ভারতীয়দের দাবিদাওয়া তুলে ধরছিলেন। তবে এই কৃতিত্ব নিয়ে কিছুটা ভিন্নমতও রয়েছে। নওরোজীর সমসাময়িক কংগ্রেস নেতা দীনশা ওয়াচা স্পষ্টভাবেই উল্লেখ করেছেন যে, “একটি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সাংগঠনিক রূপরেখা মূলত অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউমই তৈরি করেছিলেন, নওরোজী নন।” 4 যদিও নওরোজী কংগ্রেসের প্রধান স্তম্ভ ছিলেন, কিন্তু প্রতিষ্ঠার তাৎক্ষণিক উদ্যোগের ক্ষেত্রে হিউমের ভূমিকাকেই ওয়াচা বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

7. সম্ভাব্য রুশ আক্রমণের ভূমিকা:
অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে, ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে সম্ভাব্য রুশ আক্রমণের ভয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার অন্যতম একটি কারণ ছিল। তৎকালীন সময়ে রাশিয়া যেভাবে মধ্য এশিয়ায় তাদের প্রভাব বিস্তার করছিল, তাতে ব্রিটিশ সরকার ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন ছিল। হিউম মনে করেছিলেন, যদি ভারতের শিক্ষিত সমাজকে রাজনৈতিকভাবে সন্তুষ্ট না রাখা যায় এবং তাদের ক্ষোভ প্রকাশের সুযোগ না দেওয়া হয়, তবে রুশ আক্রমণের সময় তারা ব্রিটিশদের সাহায্য না করে বরং বিদ্রোহ করতে পারে। তবে আধুনিক ঐতিহাসিকরা মনে করেন, রুশ আক্রমণের ভয় হয়তো ব্রিটিশদের জন্য একটি কৌশলগত কারণ ছিল, কিন্তু কংগ্রেসের মতো একটি জাতীয়তাবাদী প্রতিষ্ঠানের জন্ম কেবল বিদেশি আক্রমণের আশঙ্কায় হয়নি; বরং এটি ছিল ভারতীয়দের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও জাতীয় চেতনার স্বতঃস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ।
8. জাতীয় সম্মেলনের ভূমিকা:
কংগ্রেসের অন্যতম সভাপতি অম্বিকাচরণ মজুমদারের মতে, 1883 খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত সুরেন্দ্রনাথের ‘জাতীয় সম্মেলন’ থেকেই ‘জাতীয় কংগ্রেসের’ পরিকল্পনা গৃহীত হয় এবং এটাই বহুলাংশে জাতীয় কংগ্রেস সৃষ্টির পথ নির্মাণ করে। 1885 খ্রিস্টাব্দে ‘জাতীয় সম্মেলনে’র দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ হওয়ার পরের দিনই জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হয়। কংগ্রেসের ঐ প্রথম অধিবেশনের উদ্যোক্তাগণ সুরেন্দ্রনাথের কাছ থেকে জাতীয় সম্মেলনের কার্যবিবরণী গ্রহণ করেন এবং ‘জাতীয় সম্মেলনে’র অনুকরণে এই অধিবেশনে বিভিন্ন প্রস্তাব পাস করা হয়। এ থেকে সহজেই অনুমান করা যায় যে, ‘জাতীয় সম্মেলন’ থেকেই ‘জাতীয় কংগ্রেসের’ প্রেরণা আসে। ঐতিহাসিক ড. রমেশচন্দ্র মজুমদারও এই মতের পক্ষপাতী।

9. সেফটি ভালভ তত্ত্ব / ষড়যন্ত্র তত্ত্ব:
অনেকে অবসরপ্রাপ্ত ইংরেজ রাজকর্মচারী অ্যালান অক্টোভিয়ান হিউম (1829- 1912 খ্রি.)-কে ‘জাতীয় কংগ্রেসের জনক’ বা ‘প্রতিষ্ঠাতা’ বলে থাকেন। কংগ্রেস প্রতিষ্ঠায় তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা অনেকেই স্বীকার করেন-
9.1. জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা ১৮৮৫: সাত খন্ড দলিল:
হিউমের জীবনীকার ও অন্যতম কংগ্রেস সভাপতি উইলিয়াম ওয়েডারবার্ন রচিত “অ্যালান অক্টোভিয়ান হিউম, ফাদার অফ দি ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস” গ্রন্থ থেকে জানা যায় যে, 1870-79 খ্রিস্টাব্দে ভারত সরকারের দায়িত্বপূর্ণ সচিব পদে নিযুক্ত থাকার সময় সিমলায় অবস্থানকালে হিউম স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বহু গোপন সরকারি দলিলপত্র দেখার সুযোগ পান। সাতটি বৃহৎ খণ্ডে রক্ষিত প্রায় ত্রিশ হাজারেরও বেশি এইসব দলিল দেখে তিনি সিদ্ধান্তে আসেন যে, সরকারি দমননীতির ফলে সমগ্র ভারত— বিশেষ করে দেশের নিম্নশ্রেণীর লোকেরা যে-কোনো সময় বিদ্রোহ করতে পারে।5 তাই দেশের শিক্ষিত সম্প্রদায়কে এই বিদ্রোহ থেকে দূরে রেখে তাদের প্রগতিশীল মতামতকে নিয়মতান্ত্রিক পথে চালিত করে হিউম ভারত থেকে ব্রিটিশ-বিরোধী মনোভাব দূর করতে সচেষ্ট হন। এজন্য ব্রিটিশ সরকারের স্বার্থে তিনি ‘সেফটি ভালভ’ বা ধ্বংসাত্মক শক্তির প্রতিরোধক হিসাবে ‘কংগ্রেস’ প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হন। হিউমের নিজের কথায়— “আমাদের নিজেদের কার্যাবলীর ফলে যে ভয়াবহ শক্তির উদ্ভব ঘটেছে তার হাত থেকে রেহাই পেতে গেলে জরুরি প্রয়োজন সেফটি ভালভের। আমাদের কংগ্রেস আন্দোলনের চেয়ে দক্ষ সেফটি ভালভ বোধ হয় আবিষ্কার করা যাবে না।”
দেশের শিক্ষিত সম্প্রদায়কে এই বিদ্রোহ থেকে দূরে রেখে তাদের প্রগতিশীল মতামতকে নিয়মতান্ত্রিক পথে চালিত করে হিউম ভারত থেকে ব্রিটিশ-বিরোধী মনোভাব দূর করতে সচেষ্ট হন।

9.2. খোলা চিঠি: অ্যালান অক্টেভিয়ান হিউম ও জাতীয় কংগ্রেস:
সেফটি ভালভ হিসেবে কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে হিউম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদের উদ্দেশ্যে এক খোলা চিঠি (1লা মে, 1883 খ্রি.) দেন। এতে তিনি দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক, মানসিক ও নৈতিক উন্নতির উদ্দেশ্যে তাদের সংঘবদ্ধ হবার আহ্বান জানান। ঐ বছরই তিনি এক সর্বভারতীয় সম্মেলন আহ্বানের পক্ষপাতী ছিলেন। কিন্তু সম্মেলন শুরু হয় আরও দু-বছর পর। পরে ভারত ও ইংল্যান্ডে লর্ড রিপন, জন ব্রাইট প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ভারত-বন্ধু, এমনকি ভাইসরয় লর্ড ডাফরিনের সঙ্গেও তিনি আলোচনা করেন। ডাফরিনের সঙ্গে হিউমের সাক্ষাৎকার সম্পর্কে জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম সভাপতি উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য বিষয়টিকে অতি জটিল করে তুলেছে। 1898 খ্রিস্টাব্দে তাঁর রচিত গ্রন্থে উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন যে, হিউম 1884 খ্রিস্টাব্দে বড়োলাটের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভারতের সামাজিক সমস্যাবলী আলোচনার উদ্দেশ্যে একটি সর্বভারতীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপনের কথা বলেন। বড়োলাট তাঁকে একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান স্থাপনের পরামর্শ দেন। এভাবে বড়োলাট ডাফরিনের ‘আশীর্বাদ’ নিয়ে জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়। বলা বাহুল্য, এই মতবাদটি একদা খুবই জনপ্রিয় ছিল। বহু ঐতিহাসিক ও রাজনীতিবিদ এই মতবাদটিকে সত্য বলে গ্রহণ করেছিলেন এবং এর উপর ভিত্তি করেই বিশিষ্ট মার্কসবাদী ঐতিহাসিক রজনী পাম দত্ত জাতীয় কংগ্রেসকে‘হিউম-ডাফরিন ষড়যন্ত্রের ফলশ্রুতি’ বলে অভিহিত করেছেন।6

9.3. জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা: হিউমের ভূমিকা:
উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে সারা ভারতে এক অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি সৃষ্ট হয়। রাজস্বের চড়া হার, দুর্ভিক্ষ, মুদ্রাস্ফীতি, বৈষম্যমূলক শুল্ক নীতি, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির অগ্নিমূল্য দেশবাসীকে বিক্ষুব্ধ করে। মহারাষ্ট্র, পাঞ্জাব, দাক্ষিণাত্য, পাবনা প্রভৃতি স্থানে তখন কৃষক বিদ্রোহ চলছিল। সমকালীন সরকারি নথিপত্রে দেশবাসীর এই অসন্তোষের পরিচয় মেলে। 1881 খ্রিস্টাব্দে লিখিত এক পত্রে কার্ল মার্কসও ব্রিটিশ ভারতের এই বিক্ষুব্ধ অবস্থার কথা স্বীকার করেছেন। অস্ত্র আইন, মাতৃভাষায় সংবাদপত্র আইন, ইলবার্ট বিল, সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা প্রভৃতি নিয়ে দেশের শিক্ষিত সম্প্রদায় যাতে কৃষকদের সঙ্গে মিলিত হয়ে কোনো গণবিদ্রোহের সৃষ্টি না করে, তা-ই ছিল হিউমের লক্ষ্য। এ কারণেই তিনি কংগ্রেস সৃষ্টির পরিকল্পনা করেন।

9.4. সেফটি ভালভ তত্ত্ব / ষড়যন্ত্র তত্ত্বের ত্রুটি:
- সাম্প্রতিক গবেষণায় ‘সেফটি ভালভ তত্ত্ব’ এবং ‘হিউম-ডাফরিক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ অগ্রাহ্য হয়েছে।7 ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার, ড. অনিল শীল, ড. অমলেশ ত্রিপাঠি, ড. বিপান চন্দ্র, ড. এস. আর. মেহরোত্রা, ড. সুমিত সরকার প্রমুখ উক্ত মতবাদের বিরুদ্ধে যুক্তিগ্রাহ্য প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
- [1] হিউম রাজস্ব, কৃষি ও বাণিজ্য বিভাগের সচিব ছিলেন। ব্রিটিশ শাসনের কঠোর শৃঙ্খলার দিনে তাঁর পক্ষে স্বরাষ্ট্র বিভাগের গোপন নথি দেখা কখনোই সম্ভব ছিল না।
- [2] হিউম ছিলেন সিমলায়, কিন্তু স্বরাষ্ট্র দপ্তরের নথিপত্র থাকত দিল্লিতে।
- [3] লালা লাজপত রায় প্রশ্ন তুলেছেন যে, ভারতের অবস্থা যদি সত্যিই এত ভয়ঙ্কর হয়ে থাকে, তাহলে তা প্রতিরোধের জন্য হিউমের অবসর গ্রহণের (1879 খ্রি.) এত বছর পরে কেন কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা হল?
- [4] হিউম ও ডাফরিনের ব্যক্তিগত চিঠিপত্র থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, ডাফরিনের সঙ্গে হিউম সাক্ষাৎ করলেও কংগ্রেস সম্পর্কে ডাফরিন বিরক্তিই প্রকাশ করেন। এমনকি 1885 খ্রিস্টাব্দের 17 মে বোম্বাই-এর গভর্নর রিয়ে-কে তিনি কংগ্রেস, ‘বাঙালিবাবু’ ও ‘মারাঠি ব্রাহ্মণদের’ বিরুদ্ধে সতর্ক করে দেন।
- [5] সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, সাত খণ্ডের ঐ তথাকথিত দলিলপত্রের কোনো অস্তিত্বই ছিল না। ডাফরিনও হিউমকে একজন ‘মানসিক বিকারগ্রস্ত, মিথ্যাবাদী’ মানুষ বলে মনে করতেন।
9.5. হিউমের গুরুত্ব অতিরঞ্জিত:
ড. সুমিত সরকার বলেন যে, কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে হিউমের ভূমিকাকে মাত্রাতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আসলে ভারতীয় নেতৃমণ্ডলী অনেক আগে থেকেই একটি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছিলেন। হিউম সেই অনুকূল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছিলেন মাত্র। বিশেষ কোনো অঞ্চলের অধিবাসী না হওয়ায় তিনি সব অঞ্চলের নেতাদের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিলেন এবং সরকারি আমলাদের উপর তাঁর প্রভাব সম্পর্কেও ভারতীয় নেতৃমণ্ডলীর অতিরঞ্জিত ধারণা ছিল। এছাড়া, ভারতীয় নেতৃমণ্ডলী তাদের রাজনৈতিক কার্যকলাপের সূচনাপর্বেই সরকারের রোষানলে পড়তে চাননি। এজন্যই তারা হিউমের সহযোগিতা চান।
10. উপসংহার:
১৮৮৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে বিতর্কের অবসান আজও হয়নি। 1913 খ্রিস্টাব্দে গোপালকৃষ্ণ গোখলে লেখেন যে, “কোনো ভারতীয়ের পক্ষে জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব ছিল না। রাজনৈতিক আন্দোলন সম্পর্কে সরকারের সন্দেহ তখন এত তীব্র ছিল যে, কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা যদি একজন বিখ্যাত ও সম্ভ্রান্ত প্রাক্তন ইংরেজ রাজকর্মচারী না হতেন তাহলে সরকার সঙ্গে সঙ্গে যে-কোনো উপায়ে এই উদ্যোগ দমন করতেন।” আসলে একটি সর্বভারতীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ চলছিল অনেক আগে থেকেই। হিউমের উদ্যোগ এ কাজটিকে ত্বরান্বিত করেছিল মাত্র। ড. বিপান চন্দ্র বলেন যে, “1885 খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা কোনো আকস্মিক ঘটনা, কিংবা কোনো ঐতিহাসিক দুর্ঘটনা ছিল না। এটা এক রাজনৈতিক জাগরণের পরিণতি।” ড. অমলেশ ত্রিপাঠী হিউমকে কোনোভাবেই ‘ভারতীয় কংগ্রেসের জনক’ আখ্যা দিতে রাজি নন। তাঁর মতে, তখন ভারতবাসীর রাজনৈতিক চেতনা যেভাবে অগ্রসর হচ্ছিল, তাতে “হিউম না থাকলেও কোনো-না-কোনো সর্বভারতীয় রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের জন্ম হত। হয়তো তার কেন্দ্র হত কলকাতা, কর্তা- সুরেন্দ্রনাথ।” যাই হোক, এভাবেই 1885 খ্রিস্টাব্দের 28 শে ডিসেম্বর কলকাতার বিশিষ্ট আইনজীবী উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে বোম্বাই শহরের গোকুলদাস তেজপাল সংস্কৃত কলেজের সভাগৃহে 72 জন প্রতিনিধি নিয়ে জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন (28-30 শে ডিসেম্বর) বসে।

গোপাল কৃষ্ণ গোখেল সম্পর্কে বিশদে জানতে উইকিপিডিয়া থেকে পড়ুন
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রতিষ্ঠার বছর | ১৮৮৫ |
| প্রতিষ্ঠাতা | অ্যালান অক্টোভিয়ান হিউম |
| প্রথম সভাপতি | উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় |
| প্রথম অধিবেশন | বোম্বাই |
| তারিখ | ২৮-৩১ ডিসেম্বর ১৮৮৫ |
| প্রতিনিধি সংখ্যা | ৭২ জন |
Similar Question:
How was the Indian National Congress established in 1885?
————– ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর —————
Section A- QUIZ: মক টেস্ট দিয়ে নিজেকে যাচাই করুন
জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা (১৮৮৫): মক টেস্ট
সাউন্ডসহ মক টেস্ট দিতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন
Section B-Basic MCQ: নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দিন
Section C-Advanced MCQ: নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দিন
-
জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন প্রথমে পুণেতে হওয়ার কথা থাকলেও কেন তা বোম্বাইয়ে স্থানান্তরিত হয়?▶ উত্তরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুনসঠিক উত্তর: (গ) পুণেতে কলেরা মহামারীর প্রাদুর্ভাবের কারণে
-
জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় কেন উপস্থিত ছিলেন না?▶ উত্তরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুনসঠিক উত্তর: (গ) তিনি কলকাতায় ‘জাতীয় সম্মেলন’ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন
-
‘সেফটি ভালভ’ (Safety Valve) তত্ত্বটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল?▶ উত্তরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুনসঠিক উত্তর: (ক) ইয়ং ইন্ডিয়া (লালা লাজপত রায়)
-
কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে ‘তড়িৎ পরিবাহক’ (Lightning Conductor) তত্ত্বটি কে দিয়েছিলেন?▶ উত্তরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুনসঠিক উত্তর: (খ) গোপালকৃষ্ণ গোখলে
-
কে জাতীয় কংগ্রেসকে ‘আণুবীক্ষণিক সংখ্যালঘু’ (Microscopic Minority) বলে উপহাস করেছিলেন?▶ উত্তরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুনসঠিক উত্তর: (খ) লর্ড ডাফরিন
-
কংগ্রেসের নাম পরিবর্তন করে ‘ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস’ রাখার পরামর্শ কে দেন?▶ উত্তরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুনসঠিক উত্তর: (ঘ) দাদাভাই নওরোজি
-
১৮৮৫ সালের প্রথম অধিবেশনে গৃহীত মোট প্রস্তাবের সংখ্যা কয়টি ছিল?▶ উত্তরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুনসঠিক উত্তর: (খ) ৯টি
-
১৮৮৫ সালের প্রথম অধিবেশনে প্রথম প্রস্তাবটি কে উত্থাপন করেছিলেন?▶ উত্তরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুনসঠিক উত্তর: (ক) জি. সুব্রহ্মণ্য আয়ার
-
কে জাতীয় কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশনগুলিকে ‘তিন দিনের তামাশা’ বলেছিলেন?▶ উত্তরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুনসঠিক উত্তর: (ক) অশ্বিনীকুমার দত্ত
-
জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাকে ‘হিউম-ডাফরিন ষড়যন্ত্রের ফল’ কে বলেছেন?▶ উত্তরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুনসঠিক উত্তর: (ক) রজনী পাম দত্ত
Section D-FAQ: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা ১৮৮৫ সংক্রান্ত জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
প্রশ্ন ১: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা কে?
উত্তর: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের মূল উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিটিশ সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তা অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম (A.O. Hume)।
প্রশ্ন ২: ‘সেফটি ভালভ’ তত্ত্বটি আসলে কী?
উত্তর: অনেক ঐতিহাসিকের মতে, ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের পুঞ্জীভূত অসন্তোষকে সশস্ত্র বিদ্রোহে রূপ নেওয়া থেকে আটকাতে কংগ্রেসকে একটি ‘নিরাপদ নির্গমন পথ’ বা ‘সেফটি ভালভ’ হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল। একেই সেফটি ভালভ তত্ত্ব বলা হয়।
প্রশ্ন ৩: সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় কেন কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন না?
উত্তর: কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন যখন বোম্বাইয়ে চলছিল, তখন সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় তাঁর নিজস্ব সংগঠন ‘ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কনফারেন্স’-এর দ্বিতীয় অধিবেশনে ব্যস্ত ছিলেন। এই কারণে তিনি প্রথম অধিবেশনে যোগ দিতে পারেননি।
প্রশ্ন ৪: হিউম কেন একটি সর্বভারতীয় সংগঠন তৈরি করতে চেয়েছিলেন?
উত্তর: হিউম মনে করেছিলেন যে, ভারতে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজের অসন্তোষ যদি নিয়মতান্ত্রিক পথে পরিচালিত না হয়, তবে পুনরায় ১৮৫৭ সালের মতো বিদ্রোহ হতে পারে। ব্রিটিশ রাজত্বকে সুরক্ষিত রাখতে এবং ভারতীয়দের ক্ষোভ প্রশমিত করতেই তিনি এই সংগঠন গড়ে তোলেন।
প্রশ্ন ৫: জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পেছনে লর্ড ডাফরিনের ভূমিকা কী ছিল?
উত্তর: উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, লর্ড ডাফরিন হিউমকে পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, এটি কেবল একটি সামাজিক সংগঠন না হয়ে একটি রাজনৈতিক সংগঠন হওয়া উচিত, যা সরকারের ‘বিরোধী পক্ষ’ হিসেবে কাজ করবে এবং জনগণের মনোভাব সরকারকে জানাবে।
প্রশ্ন ৬: জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনের গুরুত্ব কী?
উত্তর: জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন ছিল ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। এটি বর্ণ, ধর্ম এবং প্রদেশ নির্বিশেষে ভারতীয়দের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্য ও জাতীয়তাবোধের সূচনা করেছিল।
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা: কিছু গুরুত্বপূর্ণ উক্তি:
পুঞ্জীভূত অসন্তোষের ধ্বংসাত্মক শক্তি থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে রক্ষা করার জন্য একটি নিরাপদ নির্গমন পথ (Safety Valve) হিসেবেই কংগ্রেসের প্রয়োজন ছিল।
জাতীয় কংগ্রেসের প্রধান লক্ষ্য হলো ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের দেশপ্রেমিক কর্মীদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক স্থাপন করা এবং জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্যের চেতনা সুদৃঢ় করা।
কংগ্রেসের মাধ্যমে আধুনিক ভারতের শিক্ষিত সমাজ নিজেদের অভাব-অভিযোগ সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম খুঁজে পেয়েছিল।
কংগ্রেসের এই সম্মেলনগুলি আসলে ‘তিন দিনের তামাশা’ ছাড়া আর কিছুই নয়।
কংগ্রেস হলো একটি মৃত্যুভয়গ্রস্ত প্রতিষ্ঠান যা ব্রিটিশদের কৃপা ভিক্ষা করছে।
জাতীয় কংগ্রেস হলো ভারতবর্ষের এক ‘আণুবীক্ষণিক সংখ্যালঘু’ (Microscopic Minority) গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান।
কংগ্রেস তার পতনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং ভারতে আমার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো একে শান্তিপূর্ণভাবে মৃত্যুবরণ করতে সাহায্য করা।
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ছিল আধুনিক ভারতের প্রথম রাজনৈতিক মঞ্চ, যা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ভারতীয় জনতাকে একটি সংহত জাতি হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিল।
কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা ভারতের ইতিহাসে কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল ঊনবিংশ শতাব্দীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চেতনার এক ধারাবাহিক বিবর্তন।
জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ রক্ষার এক সুদূরপ্রসারী কৌশল বা একটি ‘সেফটি ভালভ’ (Safety Valve), যাতে ভারতীয়দের পুঞ্জীভূত অসন্তোষ বিপ্লবের আকার ধারণ করতে না পারে।
সূত্র নির্দেশ:
- রমেশচন্দ্র মজুমদার, History of the Freedom Movement in India (Vol. I); পৃষ্ঠা- ৩৮৯। ↩︎
- অনিল শীল; The Emergence of Indian Nationalism; Cambridge University Press, 1968; পৃষ্ঠা- ২৬৮। ↩︎
- এস. আর. মেহরোত্রা; The Emergence of the Indian National Congress; Vikas Publishing House, 1971; পৃষ্ঠা- ৩১০-৩১১। ↩︎
- উইলিয়াম ওয়েডারবার্ন; Allan Octavian Hume, C.B.: Father of the Indian National Congress; T. Fisher Unwin, 1913; পৃষ্ঠা- ৮০। ↩︎
- উইলিয়াম ওয়েডারবার্ন; Allan Octavian Hume, C.B.: Father of the Indian National Congress; T. Fisher Unwin, 1913; পৃষ্ঠা নম্বর: ৮০-৮১। ↩︎
- রজনী পাম দত্ত; India Today; Victor Gollancz Ltd, 1940; পৃষ্ঠা নম্বর: ৩১৬। ↩︎
- বিপান চন্দ্র; India’s Struggle for Independence; Penguin Books, 1989; পৃষ্ঠা নম্বর: ৬৪-৬৫। ↩︎
