নদীয়া জেলায় উদ্বাস্তু আন্দোলন: বঞ্চনা থেকে অধিকার আদায়ের এক দীর্ঘ সংগ্রাম

Dr Subhas Biswas History Department Kalyani University author profile image and introduction banner
লিখেছেন— ড. সুভাষ বিশ্বাস, ইতিহাস বিভাগ, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়

[১৯৪৭-এর দেশভাগ পরবর্তী ছিন্নমূল মানুষের বঞ্চনা, সংগ্রাম ও অধিকার আদায়ের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে এই প্রবন্ধে। নদীয়া জেলার কুপার্স ক্যাম্প থেকে শুরু করে বেতাই বাজারের উচ্ছেদ বিরোধী আন্দোলন—কীভাবে নারকীয় জীবন থেকে মুক্তি পেতে উদ্বাস্তুরা বামপন্থী নেতৃত্বে রুখে দাঁড়িয়েছিল, সেই ইতিহাসকেই এখানে নিপুণভাবে তুলে ধরা হয়েছে। অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে জয়ী হয়ে নদীয়ার আর্থ-সামাজিক সমৃদ্ধিতে উদ্বাস্তুদের সেই অদম্য ভূমিকার এক বিস্তারিত ঐতিহাসিক পাঠ।]

দেশভাগের পর পূর্ববঙ্গ থেকে পশ্চিমবঙ্গে উদ্বাস্তু হয়ে যাওয়া মানুষের যাত্রাপথের দৃশ্যRefugees migrating from East Bengal to West Bengal after partition of India displacement scene
দেশভাগের পর পূর্ববঙ্গ থেকে উদ্বাস্তু হয়ে পশ্চিমবঙ্গে আসা মানুষের দীর্ঘ যাত্রার করুণ চিত্র

১৯৪৭ সালের ভারত বিভাজন কেবল একটি ভূ-খণ্ডের বিভাজন ছিল না, এটি ছিল কয়েক কোটি মানুষের শিকড় ছিঁড়ে ফেলার এক নির্মম ট্র্যাজেডি। পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নেমে আসা নির্যাতন এবং ১৯৪৯-১৯৫০ সালের ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লক্ষ লক্ষ মানুষকে ভিটেমাটি ত্যাগ করতে বাধ্য করে। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলা হিসেবে নদীয়া হয়ে ওঠে এই নিঃস্ব উদ্বাস্তুদের প্রধান আশ্রয়স্থল। নদীয়া জেলা দেশভাগের পর উদ্বাস্তু সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে। পূর্ব পাকিস্তান থেকে আগত উদ্বাস্তুরা এখানে বসতি স্থাপন করলে নানা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। এই প্রেক্ষাপটে উদ্বাস্তু আন্দোলনের উদ্ভব ঘটে। নদিয়া জেলার উদ্বাস্তু সমস্যা স্বাধীনতা-পরবর্ত

Join our Telegram channel for study updates notes and exam preparation content
নিয়মিত আমাদের পোস্টের আপডেট পেতে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত থাকুন

⚔️ ১. উদ্বাস্তুদের আগমন ও নারকীয় জীবনযাত্রা

পূর্ববঙ্গ থেকে আগত এই উদ্বাস্তুরা তাদের স্থাবর-অস্থাবর সমস্ত সম্পত্তি হারিয়ে রিক্ত হস্তে এপাড়ে পা রেখেছিলেন। তাদের প্রথম আশ্রয় ছিল রেল-স্টেশন, রাস্তার ধার, ফুটপাত কিংবা পরিত্যক্ত জনমানবহীন কোনো ভিটে। সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে নদীয়ার বিভিন্ন স্থানে উদ্বাস্তু ক্যাম্প বা শিবির তৈরি করেন।((রতনলাল সরকার))

কিন্তু এই ক্যাম্পগুলোর জীবন ছিল চরম মানবেতর। পানীয় জল, শৌচাগার ও পর্যাপ্ত খাদ্যের অভাব উদ্বাস্তু জীবনকে বিষিয়ে তুলেছিল। প্রচণ্ড শীত কিংবা গ্রীষ্মের দাবদাহে ঔষধহীন ও আশ্রহীন অবস্থায় অসংখ্য মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তেন। বসবাসের ন্যূনতম শালীনতাটুকুও সেখানে বজায় রাখা সম্ভব ছিল না। এই চূড়ান্ত অবহেলা ও কষ্টের জীবনই উদ্বাস্তুদের পরবর্তীকালে প্রতিবাদী হতে বাধ্য করে।

পূর্ববঙ্গ থেকে উদ্বাস্তু হয়ে পশ্চিমবঙ্গে আসা দরিদ্র শিশুদের বাস্তব চিত্র
দেশভাগের পর পূর্ববঙ্গ থেকে উদ্বাস্তু হয়ে পশ্চিমবঙ্গে আগত নিঃস্ব মানুষের দুর্দশার চিত্র
Read more about post partition refugee problem internal link banner
👉 দেশভাগ পরবর্তী উদ্বাস্তু সমস্যা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

⚔️ ২. রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বামপন্থী নেতৃত্বের উত্থান

তৎকালীন কেন্দ্র ও রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস দল। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরে ছিল অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টি, পি.এস.পি, ফরওয়ার্ড ব্লক ও আর.এস.পি-র মতো বামপন্থী দলগুলো। সরকার যখন উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনে ব্যর্থ হচ্ছিল, তখন এই বামপন্থী দলগুলো উদ্বাস্তুদের পাশে এসে দাঁড়ায়।

বিখ্যাত কমিউনিস্ট নেতা সমর মুখার্জীর স্মৃতিচারণা থেকে জানা যায়, নেহরু সরকার পাঞ্জাবের উদ্বাস্তুদের জন্য যে সক্রিয় পুনর্বাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন, বাংলার ক্ষেত্রে তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। বরং বাংলার উদ্বাস্তুদের ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এই বিমাতৃসুলভ আচরণের প্রতিবাদে ১৯৫০ সালে গঠিত হয় সম্মিলিত কেন্দ্রীয় বাস্তুহারা পরিষদ বা U.C.R.C (United Central Refugee Council)। নদীয়া জেলায় এই আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন গৌর কুণ্ডু, সুভাষ বোস, শান্তিরঞ্জন দাস, অশোক চক্রবর্তী ও সমীরণ বসাক।

1947 partition of India map showing India Pakistan Bangladesh refugee crisis and historical analysis banner
👉 ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এবং এর প্রভাব জানতে এখানে ক্লিক করুন

⚔️ ৩. জবরদখল কলোনি ও ১৯৫১-র উচ্ছেদ আইন

সরকারের ওপর নির্ভর করে থাকা যখন অসম্ভব হয়ে পড়ল, তখন উদ্বাস্তুরা নিজেদের উদ্যোগে পরিত্যক্ত জমি দখল করে বসতি নির্মাণ শুরু করেন। এর ফলে জন্ম নেয় অসংখ্য ‘জবরদখল কলোনি’। কিন্তু সরকার ১৯৫১ সালে ‘উচ্ছেদ বিল’ পাশ করে এই কলোনিগুলো উচ্ছেদের উদ্যোগ নেয়। ১৯৫৭ সালে বিলটির মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য যখন সংশোধনী বিল আনা হয়, তখন আন্দোলন চরম রূপ নেয়।1

১৯৫৭ সালের ১০ই জুলাই প্রায় ৫০ হাজার উদ্বাস্তু মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে বিধানসভা অভিযান করেন। বামপন্থী বিধায়করা অভিযোগ করেন যে, বড় জমিমালিকদের স্বার্থ রক্ষার্থেই সরকার এই উচ্ছেদ বিল আনছে। নদীয়া জেলার উদ্বাস্তুরাও এই উচ্ছেদ আইনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

নদীয়া জেলার উদ্বাস্তু সমস্যা ও দেশভাগ সম্পর্কিত বইয়ের প্রচ্ছদ - Partition and refugee problem Nadia district
দেশভাগ ও নদীয়া জেলার উদ্বাস্তু সমস্যার উপর ভিত্তি করে রচিত একটি বইয়ের প্রচ্ছদ

⚔️ ৪. নদীয়ার কুপার্স ক্যাম্প ও রূপশ্রী পল্লীর ঐতিহাসিক ভূমিকা

নদীয়া জেলার উদ্বাস্তু আন্দোলনের দুটি প্রধান কেন্দ্র ছিল রানাঘাটের কুপার্স ক্যাম্প এবং রূপশ্রী পল্লী। ১৯৫৭ সালে UCRC-র চতুর্থ সম্মেলন রানাঘাটের কুপার্স ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত হলে আন্দোলনের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যায়। ১৯৫৯ সালের বিখ্যাত খাদ্য আন্দোলনেও নদীয়ার উদ্বাস্তুদের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। কৃষ্ণনগরের মিছিলে জনসমুদ্রের বড় অংশই আসত এই জেলার বিভিন্ন উদ্বাস্তু শিবির থেকে।

⚔️ ৫. রাষ্ট্রীয় দমননীতি ও ১৯৬১-র প্রতিরোধ

১৯৬১ সালে সরকার যখন উদ্বাস্তু ক্যাম্পে ডোল বন্ধ করার এবং উচ্ছেদের নোটিশ দেয়, তখন আন্দোলন নতুন গতি পায়। এই সময় নদীয়া জেলা বাস্তুহারা পরিষদের সম্পাদক গৌর কুণ্ডু এক আপসহীন লড়াই শুরু করেন। সরকার ১৯৬১ সালের ২-৪ জুন রানাঘাটের রূপশ্রী পল্লীতে UCRC-র সম্মেলন বানচাল করার জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে এবং সমর মুখার্জী, গৌর কুণ্ডুসহ শীর্ষ নেতাদের ওই এলাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করে।

এই চরম দমননীতির প্রতিবাদে সম্মেলনটি স্থানান্তরিত করে ২৪ পরগণার সোদপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। এই সময় পুলিশি অভিযানে ২৬শে জুন বাগজোলা ক্যাম্পে এক শিশুসহ পাঁচজন উদ্বাস্তু প্রাণ হারান। এই ঘটনায় সমগ্র নদীয়া জেলাসহ পশ্চিমবঙ্গ উত্তাল হয়ে ওঠে।

নদীয়া জেলার উদ্বাস্তুদের ছবি (১৯৪৭ সালের দেশভাগ পরবর্তী শরণার্থী পরিস্থিতি)
১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তান থেকে আগত উদ্বাস্তুদের নদীয়া জেলায় অবস্থান

⚔️ ৬. বেতাই বাজারের লড়াই ও স্মারকলিপি

নদীয়ার তেহট্ট থানার অন্তর্গত বেতাই বাজারেও উদ্বাস্তুদের উচ্ছেদের চেষ্টা চালানো হয়েছিল ১৯৫৭ সালের নভেম্বর মাসে। পি.ডব্লিউ.ডি (PWD)-র মামলার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান স্থানীয় উদ্বাস্তুরা। সমর মুখার্জী ও নিরঞ্জন সেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল তৎকালীন পূর্তমন্ত্রী খগেন দাশগুপ্তের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন। ব্যাপক গণ-আন্দোলনের চাপে সরকার শেষ পর্যন্ত বেতাই বাজারের উচ্ছেদ রদ করতে বাধ্য হয়।

⚔️ ৭. অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও RIC-র আন্দোলন

উদ্বাস্তুদের অর্থনৈতিক পুনর্বাসনের জন্য ১৯৫৯ সালে গঠিত হয় Rehabilitation Industries Corporation (RIC)। কিন্তু আশির দশকে ইন্দিরা গান্ধী সরকার এই সংস্থাটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিলে নদীয়া জেলার তিনটি তাঁত শিল্প ইউনিট হুমকির মুখে পড়ে। এর প্রতিবাদে উদ্বাস্তুদের দীর্ঘ ৫৫ দিনের অবস্থান বিক্ষোভ এবং বামপন্থী নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে এই সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিত হয়। সমর মুখার্জীর সক্রিয় প্রচেষ্টায় ১৯৮৪ সালেও পুনরায় এই সংস্থাটিকে রক্ষার লড়াই চলে।

⚔️ ৮. উপসংহার: অস্তিত্বের সংগ্রামে জয়

নদীয়া জেলায় উদ্বাস্তু আন্দোলনের ইতিহাস কেবল মিছিল-মিটিংয়ের ইতিহাস নয়, এটি হলো এক ছিন্নমূল সমাজের নতুন করে বেঁচে থাকার ইতিহাস। স্থানীয় মানুষের বিদ্রুপ, দারিদ্র্য আর সামাজিক অপমানের বিরুদ্ধে লড়াই করে তারা আজ নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছেন।

আজ নদীয়ার যে স্কুল, কলেজ, বাজার, কলোনি এবং ক্লাবগুলো আমরা দেখি, তার সিংহভাগের পেছনে রয়েছে উদ্বাস্তুদের নিরলস শ্রম এবং আন্দোলনের সুফল। নদীয়ার পরিত্যক্ত প্রান্তর আজ যে জনকোলাহলে পূর্ণ, তার কারিগর এই ‘অবাঞ্ছিত’ তকমা পাওয়া মানুষগুলোই। তাঁরা কেবল আন্দোলনের জয় নয়, জীবনের যুদ্ধেও জয়ী হয়েছেন।

দেশভাগের প্রেক্ষাপট জানতে পড়ুন: https://www.partitionmuseum.org/partition-of-india

আরও জানতে ভিজিট করুন: https://abhikhhep.com/2024/03/02/nadia_jelay_udbastu_andolon/

উপরের লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত দিন।

পূর্ববঙ্গের সংখ্যালঘুদের দেশত্যাগের বিষয়ে জানতে নিচের ভিডিওটি শুনুন

নিজেকে যাচাই করতে নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দিন।

১. নদীয়া জেলায় উদ্বাস্তু সমস্যার প্রধান কারণ কী ছিল?
A) প্রাকৃতিক দুর্যোগ
B) দেশভাগ (১৯৪৭)
C) শিল্প বিপ্লব
D) কৃষি সংকট
Ans: B) দেশভাগ (১৯৪৭)


২. নদীয়া জেলায় উদ্বাস্তুরা প্রধানত কোন অঞ্চল থেকে এসেছিল?
A) বিহার
B) আসাম
C) পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ)
D) ওড়িশা
Ans: C) পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ)


৩. উদ্বাস্তু পুনর্বাসনের জন্য সরকার কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল?
A) শিল্প স্থাপন
B) জমি ও বাসস্থানের ব্যবস্থা
C) বিদেশে পাঠানো
D) সামরিক প্রশিক্ষণ
Ans: B) জমি ও বাসস্থানের ব্যবস্থা


৪. নদীয়া জেলায় উদ্বাস্তুদের বসতি স্থাপনের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য কী ছিল?
A) শুধুমাত্র শহরে বসতি
B) গ্রাম ও শহর উভয় জায়গায় বসতি
C) শুধুমাত্র পাহাড়ি এলাকায়
D) শুধুমাত্র নদীর তীরে
Ans: B) গ্রাম ও শহর উভয় জায়গায় বসতি


৫. উদ্বাস্তুদের আগমনে নদীয়া জেলার কোন ক্ষেত্রে পরিবর্তন ঘটে?
A) শুধুমাত্র কৃষি
B) শুধুমাত্র শিক্ষা
C) সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো
D) শুধুমাত্র পরিবহন
Ans: C) সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো


FAQ

❓ প্রশ্ন ১: নদীয়া জেলায় উদ্বাস্তু সমস্যা কেন সৃষ্টি হয়?

👉 উত্তর: দেশভাগের ফলে পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে বিপুল সংখ্যক উদ্বাস্তুর আগমনের কারণে নদীয়া জেলায় উদ্বাস্তু সমস্যার সৃষ্টি হয়।

❓ প্রশ্ন ২: নদীয়া জেলায় উদ্বাস্তু সমস্যার প্রধান কারণ কী?

👉 উত্তর: প্রধান কারণ ছিল দেশভাগ, ধর্মীয় সংঘাত, নিরাপত্তাহীনতা এবং পূর্ব পাকিস্তানে হিন্দুদের উপর অত্যাচার।

❓ প্রশ্ন ৩: নদীয়া জেলায় উদ্বাস্তু সমস্যার কী প্রভাব পড়ে?

👉 উত্তর: এর ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, খাদ্যসংকট, বেকারত্ব, বাসস্থান সমস্যা এবং সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়।

❓ প্রশ্ন ৪: উদ্বাস্তু আন্দোলন কীভাবে গড়ে ওঠে?

👉 উত্তর: উদ্বাস্তুরা তাদের অধিকার ও পুনর্বাসনের দাবিতে সংগঠিত হয়ে আন্দোলন গড়ে তোলে।

❓ প্রশ্ন ৫: নদীয়া জেলায় উদ্বাস্তু সমস্যার সমাধানে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়?

👉 উত্তর: সরকার উদ্বাস্তু শিবির স্থাপন, পুনর্বাসন পরিকল্পনা এবং অর্থনৈতিক সাহায্যের ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

❓ প্রশ্ন ৬: নদীয়া জেলা কেন উদ্বাস্তু সমস্যার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে?

👉 উত্তর: সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় পূর্ব পাকিস্তান থেকে আগত উদ্বাস্তুরা প্রথমে নদীয়া জেলায় এসে বসতি স্থাপন করে।

❓ প্রশ্ন ৭: উদ্বাস্তু সমস্যা পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে কেন গুরুত্বপূর্ণ?

👉 উত্তর: এটি পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল।


  1. Census of India (1951), West Bengal District Gazetteers: Nadia. ↩︎

2 thoughts on “নদীয়া জেলায় উদ্বাস্তু আন্দোলন: বঞ্চনা থেকে অধিকার আদায়ের এক দীর্ঘ সংগ্রাম”

  1. Pingback: ১৯৪৭ সালের দেশভাগ ও উদ্বাস্তু সমস্যা: ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায়

  2. Pingback: ১৯৪৭ সালের দেশভাগ কী? কারণ, ফলাফল ও সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top