হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী: ইতিহাসের খলনায়ক নাকি পরিস্থিতির শিকার? ১৯৪৬-এর দাঙ্গা ও এক বিতর্কিত অধ্যায়

⚔️ ভূমিকা:

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী একটি অত্যন্ত জটিল ও বিতর্কিত নাম। আধুনিক পাকিস্তানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর পরিচিতি থাকলেও, ইতিহাসের পাতায় তাঁর নাম চিরস্থায়ীভাবে জড়িয়ে আছে ১৯৪৬ সালের ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ বা কলকাতার ভয়াবহ দাঙ্গার সাথে। মেদিনীপুরের এক অভিজাত পরিবারে জন্ম নেওয়া এই নেতার রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা কীভাবে তাঁকে এক সাম্প্রদায়িক ও রক্তাক্ত পথে পরিচালিত করেছিল, আজ আমরা সেই ইতিহাসের ব্যবচ্ছেদ করব।

⚔️ ১. পারিবারিক প্রেক্ষাপট ও প্রাথমিক জীবন

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর জন্ম ১৮৯২ সালে মেদিনীপুরের এক অত্যন্ত প্রভাবশালী ও সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। তাঁর পিতা স্যার জাহিদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের নামকরা বিচারপতি। ব্রিটিশ সরকারের অত্যন্ত অনুগত এই পরিবারে বাংলা ভাষার চেয়ে উর্দু এবং ইংরেজির চর্চাই বেশি ছিল। সোহরাওয়ার্দী নিজেও প্রাথমিক জীবনে বাংলা জানতেন না, যা পরবর্তীকালে রাজনৈতিক প্রয়োজনে শিখেছিলেন। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ শেষে তিনি যখন ব্যারিস্টারি শুরু করেন, তখনই তাঁর মধ্যে রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার বীজ রোপিত হয়।

⚔️ ২. স্বরাজ দল থেকে সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে উত্তরণ

সোহরাওয়ার্দীর রাজনৈতিক জীবনের শুরুটা ছিল চমকপ্রদ। ১৯২৪ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের ‘স্বরাজ দল’-এর হাত ধরে তিনি কলকাতার রাজনীতিতে আসেন। চিত্তরঞ্জন দাসের হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের ফর্মুলায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি কলকাতা কর্পোরেশনের প্রথম ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হন।

তবে চিত্তরঞ্জন দাসের মৃত্যুর পর সোহরাওয়ার্দীর আদর্শে পরিবর্তন আসে। তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ত্যাগ করে ধীরে ধীরে মুসলিম স্বার্থরক্ষার নামে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়েন। ব্রিটিশদের ‘বিভাজন ও শাসন’ (Divide and Rule) নীতির প্রতি তাঁর আনুগত্য তাঁকে ব্রিটিশ সরকারের প্রিয়পাত্রে পরিণত করে। ১৯৩৬ সালে তিনি নিজস্ব দল ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট মুসলিম পার্টি’ ছেড়ে মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং বাংলার সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন।

⚔️ ৩. ক্ষমতার বিস্তার ও ব্রিটিশ তোষণ

১৯৪৩ সালের খাজা নাজিমুদ্দিনের মন্ত্রিসভায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকারের যুদ্ধনীতিকে সমর্থন করে তিনি প্রশাসনের ভেতরে নিজের প্রতিপত্তি বাড়াতে থাকেন। জাতীয়তাবাদী আন্দোলন যেমন—১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনকে দমন করতে তিনি ব্রিটিশদের সহায়তা করেন। তাঁর এই ব্রিটিশ ঘেঁষা নীতি এবং উগ্র সাম্প্রদায়িক প্রচার তাঁকে বাংলার একাংশ মুসলিম সমাজের কাছে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

⚔️ ৪. ১৯৪৬-এর নির্বাচন ও ‘কসাই’ সোহরাওয়ার্দী

১৯৪৬ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগ বাংলায় ব্যাপক জয়লাভ করে এবং সোহরাওয়ার্দী বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (Premier) হন। ক্ষমতায় এসেই তিনি চূড়ান্ত হিন্দু-বিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেন। তাঁর রাজনৈতিক সহযোগী আবুল হাশিমকে সাথে নিয়ে তিনি বাংলায় পাকিস্তান দাবির সপক্ষে এক ভয়ংকর উস্কানিমূলক পরিবেশ তৈরি করেন। এই ঘৃণার রাজনীতির চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটে ১৯৪৬ সালের ১৬ই আগস্ট।

⚔️ ৫. ডিরেক্ট অ্যাকশন ডে: কলকাতার সেই রক্তাক্ত ১৬ই আগস্ট

মুসলিম লীগের ‘ডিরেক্ট অ্যাকশন ডে’ বা ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস’-এর ডাক ছিল মূলত এক পরিকল্পিত গণহত্যার নীল নকশা। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সোহরাওয়ার্দী সেদিন যা করেছিলেন, তা পৃথিবীর ইতিহাসের যেকোনো গণতান্ত্রিক নেতার জন্য লজ্জাজনক।

  • ময়দানের ভাষণ: অক্টারলোনি মনুমেন্ট (শহীদ মিনার) ময়দানে কয়েক লক্ষ মানুষের জমায়েতে সোহরাওয়ার্দী সরাসরি হিন্দুদের ওপর আক্রমণ করার প্রচ্ছন্ন উস্কানি দেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, পুলিশ কোনো হস্তক্ষেপ করবে না।
  • পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা: দাঙ্গা শুরু হওয়ার পর লালবাজার কন্ট্রোল রুমে বসে তিনি পুলিশকে নিষ্ক্রিয় থাকার নির্দেশ দেন। হিন্দু প্রধান অঞ্চলগুলোতে টেলিফোন লাইন কেটে দেওয়া হয়।
  • গণহত্যা ও লুণ্ঠন: রাজাবাজার, কলুটোলা, বড়বাজার ও হ্যারিসন রোডে শুরু হয় নারকীয় নিধন যজ্ঞ। হিন্দুদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়, নারীদের ওপর চলে অকথ্য নির্যাতন। সরকারি হিসাবেই প্রায় ৪,০০০ মানুষ নিহত হন (বেসরকারি মতে সংখ্যাটি ১০,০০০ ছাড়িয়েছিল)।

তৎকালীন ব্রিটিশ গভর্নর স্যার ফ্রেডরিক বারোজের সাথে সোহরাওয়ার্দীর গোপন সমঝোতা ছিল, যার ফলে মিলিটারি নামাতে দীর্ঘ দেরি করা হয়। কলকাতা পরিণত হয় এক বিশাল কসাইখানায়।

⚔️ ৬. পাল্টা প্রতিরোধ ও গোপাল পাঁঠার উত্থান

যখন পুলিশ ও প্রশাসন হিন্দুদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তখন কলকাতার বুক থেকে জন্ম নেয় এক অদম্য প্রতিরোধ। এই প্রতিরোধের নায়ক ছিলেন গোপালচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, যিনি ইতিহাসে ‘গোপাল পাঁঠা’ নামে পরিচিত। তাঁর নেতৃত্বে হিন্দু যুবকরা রুখে দাঁড়ালে দাঙ্গার মোড় ঘুরে যায়। পরিস্থিতি নিজের প্রতিকূলে যাচ্ছে দেখে এবং ব্রিটিশ সরকারের চাপের মুখে সোহরাওয়ার্দী শেষ পর্যন্ত শান্ত হতে বাধ্য হন।

⚔️ উপসংহার: ইতিহাসের শিক্ষা

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর জীবন আমাদের শেখায় যে, ক্ষমতার চরম লোভ এবং সাম্প্রদায়িক ঘৃণা কীভাবে একজন শিক্ষিত মানুষকে ‘গণহত্যাকারী’তে পরিণত করতে পারে। যদিও পরবর্তীকালে তিনি পাকিস্তানে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, কিন্তু বাংলার ইতিহাসে তিনি ১৯৪৬-এর দাঙ্গার খলনায়ক হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকবেন।

নিজেকে যাচাই করতে নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দিন

১. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
ক) ১৮৮০ সালে
খ) ১৮৯২ সালে
গ) ১৯০০ সালে
ঘ) ১৯০৫ সালে
উত্তর: খ) ১৮৯২ সালে (৮ সেপ্টেম্বর)

২. তিনি কোন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা (B.C.L) লাভ করেন?
ক) কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়
খ) অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়
গ) হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়
ঘ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর: খ) অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়

৩. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে কী নামে অভিহিত করা হয়?
ক) শেরে বাংলা
খ) দেশবন্ধু
গ) গণতন্ত্রের মানসপুত্র
ঘ) বাংলার বাঘ
উত্তর: গ) গণতন্ত্রের মানসপুত্র

৪. অবিভক্ত বাংলার শেষ প্রধানমন্ত্রী (Chief Minister) কে ছিলেন?
ক) এ কে ফজলুল হক
খ) খাজা নাজিমুদ্দিন
গ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ঘ) শরৎচন্দ্র বসু
উত্তর: গ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী (১৯৪৬-৪৭)

৫. ১৯৪৯ সালে ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’ গঠনে তাঁর ভূমিকা কী ছিল?
ক) তিনি বিরোধী ছিলেন
খ) তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা
গ) তিনি কেবল সদস্য ছিলেন
ঘ) তিনি এর নাম পরিবর্তন করেছিলেন
উত্তর: খ) তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা

৬. ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজনের সময় তিনি কার সাথে ‘অখণ্ড স্বাধীন বাংলা’র (United Bengal) প্রস্তাব দিয়েছিলেন?
ক) মহাত্মা গান্ধী
খ) শরৎচন্দ্র বসু
গ) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
ঘ) জওহরলাল নেহরু
উত্তর: খ) শরৎচন্দ্র বসু

৭. তিনি কত সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন?
ক) ১৯৫২ সালে
খ) ১৯৫৬ সালে
গ) ১৯৫৮ সালে
ঘ) ১৯৬০ সালে
উত্তর: খ) ১৯৫৬ সালে

৮. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক গুরু বা মেন্টর হিসেবে কাকে গণ্য করা হয়?
ক) মওলানা ভাসানী
খ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
গ) এ কে ফজলুল হক
ঘ) লিয়াকত আলী খান
উত্তর: খ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী

৯. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কোথায় মৃত্যুবরণ করেন?
ক) ঢাকা
খ) করাচি
গ) বৈরুত (লেবানন)
ঘ) লন্ডন
উত্তর: গ) বৈরুত (লেবানন)

১০. তাঁর পিতার নাম কী ছিল, যিনি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি ছিলেন?
ক) স্যার জাহিদ সোহরাওয়ার্দী
খ) হাসান সোহরাওয়ার্দী
গ) ইকরাম সোহরাওয়ার্দী
ঘ) ওবায়দুল্লাহ সোহরাওয়ার্দী
উত্তর: ক) স্যার জাহিদ সোহরাওয়ার্দী


প্রয়োজনীয় কিছু FAQ (সাধারণ জিজ্ঞাসা)

১. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কে ছিলেন?

উত্তর: তিনি ছিলেন উপমহাদেশের একজন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, প্রখর মেধাবী আইনজীবী এবং অবিভক্ত বাংলার শেষ প্রধানমন্ত্রী। তিনি পাকিস্তান আমলেও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এবং আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

২. তাঁকে কেন ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ বলা হয়?

উত্তর: সারা জীবন তিনি সংসদীয় গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনের জন্য লড়াই করেছেন। সামরিক শাসন ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন অবস্থানের কারণে তাঁকে ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

৩. ‘অখণ্ড স্বাধীন বাংলা’ বা ‘ইউনাইটেড বেঙ্গল’ পরিকল্পনাটি কী ছিল?

উত্তর: ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় সোহরাওয়ার্দী এবং শরৎচন্দ্র বসু প্রস্তাব করেছিলেন যে, বাংলাকে ভাগ না করে হিন্দু-মুসলিম মিলে একটি স্বতন্ত্র ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠন করা হোক। তবে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরোধিতায় এই পরিকল্পনা সফল হয়নি।1

৪. আওয়ামী লীগের সাথে তাঁর সম্পর্ক কী?

উত্তর: ১৯৪৯ সালে যখন মুসলিম লীগের বিকল্প হিসেবে ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’ গঠিত হয়, তখন তিনি ছিলেন এর অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও নেতা। তাঁর নেতৃত্বেই দলটি সাধারণ মানুষের সংগঠনে পরিণত হয়।

৫. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর তাঁর প্রভাব কেমন ছিল?

উত্তর: শেখ মুজিবুর রহমান সোহরাওয়ার্দীকে তাঁর রাজনৈতিক গুরু মানতেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সোহরাওয়ার্দীর সাহচর্যে রাজনীতি শিখেছেন। সোহরাওয়ার্দীর উদার ও অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক আদর্শ বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।

৬. তাঁর মৃত্যু কবে এবং কীভাবে হয়েছিল?

উত্তর: ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর লেবাননের রাজধানী বৈরুতের একটি হোটেল কক্ষে তাঁর মৃত্যু হয়। সরকারিভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কথা বলা হলেও তাঁর মৃত্যু নিয়ে রাজনৈতিক মহলে অনেক রহস্য ও সন্দেহ বিদ্যমান ছিল। তাঁকে ঢাকার তিন নেতার মাজারে সমাহিত করা হয়।

  1. Badruddin Umar, Politics and Society in East Pakistan and Inner Bengal. ↩︎

1 thought on “হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী: ইতিহাসের খলনায়ক নাকি পরিস্থিতির শিকার? ১৯৪৬-এর দাঙ্গা ও এক বিতর্কিত অধ্যায়”

  1. Pingback: নদীয়া জেলায় উদ্বাস্তু সমস্যা: ইতিহাস, কারণ ও বর্তমান অবস্থা

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top